কৃষকদের বাড়ি বাড়ি যাবেন ATA-রা, প্রযুক্তির পাঠে বাড়বে ফলন ও আয় - 24 Ghanta Bangla News
Home

কৃষকদের বাড়ি বাড়ি যাবেন ATA-রা, প্রযুক্তির পাঠে বাড়বে ফলন ও আয়

Spread the love

প্রয়াগরাজ: কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি (Agriculture Technology), উন্নতমানের বীজ এবং সঠিক সার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পরিচিত করাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ…

প্রয়াগরাজ: কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি (Agriculture Technology), উন্নতমানের বীজ এবং সঠিক সার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পরিচিত করাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে কৃষি দফতরে নিয়োগ করা হয়েছে অ্যাগ্রিকালচারাল টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ATA-দের। তাঁরা কৃষকদের প্রযুক্তিগত গাইড বা ‘সারথি’ হিসেবে কাজ করবেন।

কৃষি খাতে উৎপাদন খরচ ক্রমশ বাড়ছে। তার সঙ্গে অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে চাষের ঝুঁকিও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের আয় বাড়াতে একদিকে যেমন চাষের খরচ কমানো প্রয়োজন, অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তি, উন্নত বীজ এবং সঠিক সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কৃষকদের তথ্য দেওয়া জরুরি। সেই লক্ষ্যেই এই টেকনিক্যাল গাইডদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রয়াগরাজে ১২৩ জনের নিয়োগ সম্পূর্ণ

প্রয়াগরাজের ডেপুটি ডিরেক্টর (কৃষি) পবন কুমার বিশ্বকর্মা জানিয়েছেন, জেলায় ১২৩ জন কৃষি টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁরা দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।  নতুন নিয়োগের ফলে প্রয়াগরাজ জেলায় কৃষি টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টের মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮৮ জন। শুধু প্রয়াগরাজ নয়, গোটা প্রয়াগরাজ ডিভিশনে মোট ৩৩০ জন ATA নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতাপগড়ে ১২৮ জন, ফতেহপুরে ৬১ জন এবং কৌশাম্বিতে ১৮ জনকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কৃষি দফতর ও কৃষকদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ

কৃষি টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টদের কৃষি দফতর এবং কৃষকদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে সরকার। তাঁদের প্রধান লক্ষ্য হবে:

Advertisements


   


   

  • চাষের উৎপাদন খরচ কমানো
  • ফসলের ফলন বাড়ানো
  • কৃষকদের আয় বৃদ্ধি
  • আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো
  • উন্নত বীজ সম্পর্কে কৃষকদের তথ্য দেওয়া
  • সঠিক সার ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া

পবন কুমার বিশ্বকর্মার মতে, অনেক কৃষক পর্যাপ্ত শিক্ষার সুযোগ না পাওয়ায় নতুন প্রযুক্তি বা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি গ্রহণে আগ্রহী হন না। পাশাপাশি কৃষিতে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাও কম থাকে। এই মানসিকতা বদলাতে টেকনিক্যাল গাইডদের কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে বোঝানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেবেন কৃষকদের কাছে

উত্তরপ্রদেশে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আর্থিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল এই কৃষকদের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় প্রকল্প সম্পর্কে তথ্যের অভাবে তাঁরা সুবিধা নিতে পারেন না। এই সমস্যা দূর করতেও ATA-রা কাজ করবেন। তাঁরা ন্যায় পঞ্চায়েত স্তরে গিয়ে যোগ্য কৃষকদের চিহ্নিত করবেন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে তাঁদের নাম নথিভুক্ত করতে সহায়তা করবেন। এর মধ্যে রয়েছে:

  • প্রধানমন্ত্রী কিষান বা PM-Kisan
  • ফসল বিমা
  • কৃষি ভর্তুকি
  • বীজ মিনি-কিট বিতরণ
  • সেচ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প

অর্থাৎ, শুধু কৃষি প্রযুক্তির পরামর্শ নয়, কৃষকদের সরকারি সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

বন্যা, খরা বা শিলাবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রক্রিয়াতেও ATA-দের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্যা, খরা, শিলাবৃষ্টি-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি তাঁরা মূল্যায়ন করবেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় কৃষকদের সহায়তা করবেন। এর ফলে মাঠপর্যায়ে ফসলের ক্ষতির তথ্য আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিজিটাল কৃষিতেও বড় দায়িত্ব

কৃষি ব্যবস্থাকে আরও তথ্যনির্ভর করে তুলতে ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাতেও ATA-দের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা কৃষকদের জমিতে গিয়ে ফসল সংক্রান্ত বাস্তব তথ্য সংগ্রহ করবেন। ডিজিটাল ক্রপ সার্ভে-র মাধ্যমে কোন জমিতে কী ফসল চাষ হয়েছে, কতটা জমিতে চাষ হয়েছে এবং সম্ভাব্য উৎপাদন কত হতে পারে, সেই তথ্য সংগ্রহ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আপডেট করা হবে। এছাড়া ফসল উৎপাদন, বপন করা জমির পরিমাণ এবং সম্ভাব্য ফলনের রিয়েল-টাইম ডেটা সংগ্রহের দায়িত্বও তাঁদের দেওয়া হয়েছে।

জমি অনুযায়ী সার ব্যবহারের পরামর্শ

মাটির স্বাস্থ্য এবং সারের সঠিক ব্যবহার নিয়েও কৃষকদের পরামর্শ দেবেন এই টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টরা। কৃষকদের মাটি পরীক্ষা করাতে সাহায্য করা এবং জমির ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম পুষ্টি ও সার ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হবে। এর ফলে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সার ব্যবহারের খরচ কমানোর পাশাপাশি মাটির গুণমান বজায় রাখার লক্ষ্যও রয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল কৃষকদের শুধু বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং প্রযুক্তি, তথ্য এবং বৈজ্ঞানিক কৃষি পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও চাষের খরচ কমানো। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে কৃষি টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টরা এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারেন।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *