চিনের টাইপ ১৫-এর জবাব Zorawar, ৭৬০ এইচপি ইঞ্জিনে ভারতের শক্তিশালী লাইট ট্যাঙ্ক
নয়াদিল্লি: চিনের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে ব্যবহারের উপযোগী টাইপ ১৫ লাইট ট্যাঙ্কের মোকাবিলায় ভারতের তৈরি জোরাওয়ার (Zorawar) লাইট ট্যাঙ্ক এখন প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বেলজিয়ামের…
নয়াদিল্লি: চিনের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে ব্যবহারের উপযোগী টাইপ ১৫ লাইট ট্যাঙ্কের মোকাবিলায় ভারতের তৈরি জোরাওয়ার (Zorawar) লাইট ট্যাঙ্ক এখন প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বেলজিয়ামের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং উন্নত সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
বৃহস্পতিবার ভারতে সফররত বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার-এর সঙ্গে আলোচনার সময় মোদি বলেন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ভারত-বেলজিয়াম সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। দুই দেশ সামরিক আদান-প্রদান এবং প্রশিক্ষণ বাড়ানোর জন্য একাধিক চুক্তিও চূড়ান্ত করেছে। উন্নত সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে জোরাওয়ার ট্যাঙ্কের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
চিনের টাইপ ১৫-এর মোকাবিলায় জোরাওয়ার
২০২০ সালের ভারত-চিন সীমান্ত সংঘাতের পর লাদাখের মতো উচ্চ পার্বত্য এলাকায় হালকা ও দ্রুতগতির ট্যাঙ্কের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই প্রয়োজন থেকেই তৈরি হয়েছে জোরাওয়ার, ভারতের প্রথম দেশীয়ভাবে তৈরি উচ্চ-অল্টিটিউড লাইট ট্যাঙ্ক।
প্রায় ২৫ টন ওজনের জোরাওয়ার চিনের টাইপ ১৫-এর তুলনায় হালকা। এর কম ওজনের অন্যতম সুবিধা হল, ভারতীয় বায়ুসেনার সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহণ বিমানের মাধ্যমে ট্যাঙ্কটিকে দ্রুত দুর্গম এলাকায় মোতায়েন করা সম্ভব। ট্যাঙ্কটির সর্বোচ্চ গতি প্রায় ৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা এবং রেঞ্জ প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। দুর্গম ও অসমতল পার্বত্য এলাকায় চলাচলের জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে হাইড্রোপনিউম্যাটিক সাসপেনশন।
Advertisements
১০৫mm কামান, সঙ্গে অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল
ওজন কম হলেও জোরাওয়ারের অস্ত্রশক্তিতে কোনও আপস করা হয়নি। ট্যাঙ্কটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল বেলজিয়ামের জন ককারিল ৩১০৫ টারেট। এই টারেটে রয়েছে ১০৫mm রাইফেলড গান এবং অটোলোডার। এর ফলে দ্রুতগতিতে গোলাবর্ষণ করা সম্ভব হবে। প্রধান কামানের পাশাপাশি জোরাওয়ারে রয়েছে:
- কো-অ্যাক্সিয়াল ৭.৬২mm মেশিনগান
- ১২.৭mm রিমোট-কন্ট্রোলড ওয়েপন স্টেশন
- নাগ এমকে-২ অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল ছোড়ার জন্য দুটি লঞ্চার
অর্থাৎ শত্রুর সাঁজোয়া যান থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ট্যাঙ্কটিকে একাধিক অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে।
৭৬০ এইচপি কামিন্স ইঞ্জিন
জোরাওয়ারের পাওয়ারট্রেনেও রয়েছে যথেষ্ট শক্তি। ট্যাঙ্কটি চালায় ৭৬০ এইচপি কামিন্স ডিজেল ইঞ্জিন। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রেঙ্ক ট্রান্সমিশন। ২৫ টনের মতো ওজনের ট্যাঙ্কে এই শক্তিশালী ইঞ্জিন এবং বিশেষ সাসপেনশন ব্যবস্থার সংমিশ্রণ উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে দ্রুত মোতায়েন এবং দুর্গম ভূখণ্ডে চলাচলের ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারে।
ভারতে তৈরি হবে বেলজিয়ান ককারিল ৩১০৫ টারেট
জোরাওয়ার প্রকল্পে ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল জন ককারিল ৩১০৫ টারেটের স্থানীয় উৎপাদন। ২০২৫ সালের মার্চে বেলজিয়ামের জন ককারিল ডিফেন্স পুনে-ভিত্তিক ইলেকট্রো নিউম্যাটিক্স অ্যান্ড হাইড্রলিক্স-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারতে ককারিল ৩১০৫ টারেট উৎপাদনের জন্য চুক্তি করে। এটি ইউরোপের বাইরে ওই টারেটের প্রথম উৎপাদন লাইন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে জোরাওয়ার শুধু ভারতীয় লাইট ট্যাঙ্কের সক্ষমতার উদাহরণ নয়, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
৩৫৪টি জোরাওয়ারের প্রয়োজন
ভারতীয় সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই জোরাওয়ার সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ৫৯টি জোরাওয়ার তৈরির অর্ডার দেওয়া হয়েছে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-কে। এই প্রকল্পে এলঅ্যান্ডটির সঙ্গে ডিআরডিও কাজ করছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর মোট প্রয়োজন প্রায় ৩৫৪টি লাইট ট্যাঙ্ক বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক ৫৯টির পর বাকি ২৯৫টি ট্যাঙ্কের জন্য প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে চিন এবং পাকিস্তানের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য, তুলনামূলক হালকা কিন্তু শক্তিশালী অস্ত্রসমৃদ্ধ ট্যাঙ্ক ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রয়োজনের সঙ্গে যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ।
‘লাদাখের বিজেতা’ জোরাওয়ার সিংয়ের নামে নাম
এই লাইট ট্যাঙ্কের নামকরণ করা হয়েছে জেনারেল জোরাওয়ার সিং-এর নামে। তিনি তৎকালীন জম্মুর রাজা-র ডোগরা বাহিনীর একজন বিশিষ্ট সেনাপতি ছিলেন এবং লাদাখ অভিযানের জন্য পরিচিত। তাঁকে ‘কনকারর অফ লাদাখ’ বা ‘লাদাখের বিজেতা’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
উচ্চ পার্বত্য যুদ্ধের জন্য বিশেষভাবে তৈরি, ২৫ টনের হালকা কাঠামো, ৭০ কিমি/ঘণ্টা গতি, ৭৬০ এইচপি ইঞ্জিন এবং ১০৫mm কামানের মতো অস্ত্রশক্তির কারণে জোরাওয়ারকে ভারতের হাই-অল্টিটিউড আর্মার সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন