‘ককরোচ জনতা পার্টি এখন টিম কেজরিওয়াল’, নতুন শাখার বিস্ফোরক অভিযোগ - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘ককরোচ জনতা পার্টি এখন টিম কেজরিওয়াল’, নতুন শাখার বিস্ফোরক অভিযোগ

Spread the love

নয়াদিল্লি: রাজনৈতিক ব্যঙ্গ এবং আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় স্তরে আলোচনায় আসা ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-কে ঘিরে এবার তৈরি হল নতুন একটি শাখা। অ্যাক্টিভিস্ট মনীশ ব্রহ্মভট্ট-এর নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি-ডেমোক্র্যাটিক (CJP-Democratic)। নতুন সংগঠনটি মূল আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বলে নিজেদের দাবি করলেও, মূল সংগঠনের নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছে।

ককরোচ জনতা পার্টি কয়েক মাস আগে রাজনৈতিক ব্যঙ্গের মাধ্যমে নজর কেড়েছিল। পরে তাদের দেশব্যাপী আন্দোলনও বড় আকার নেয়। ওই আন্দোলনের পর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদ ছেড়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘আন্দোলনের চরিত্র বদলে গিয়েছে’

নতুন শাখার উদ্যোক্তা মনীশ ব্রহ্মভট্টের দাবি, যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সাফল্য পাওয়ার পরই মূল আন্দোলন তার আগের চরিত্র হারাতে শুরু করে। তাঁর অভিযোগ, নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের পর আন্দোলনটি ‘বিক্রি হয়ে গিয়েছে এবং রাজনৈতিক হয়ে পড়েছে’।

মূল CJP-এর পরবর্তী কার্যকলাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সংগঠনের নেতৃত্ব আম আদমি পার্টি (AAP)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে ব্রহ্মভট্ট বলেন, “এটি এখন ‘টিম কেজরিওয়াল’ হয়ে গিয়েছে।” তবে এগুলি ব্রহ্মভট্টের অভিযোগ। মূল CJP-এর পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির সত্যতা স্বীকার করা হয়নি।

১২ সদস্যের কমিটি নিয়েই বিরোধ

নতুন গোষ্ঠী তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে সংগঠনের নতুন কমিটি গঠনের পদ্ধতিকে তুলে ধরেছেন ব্রহ্মভট্ট। তাঁর দাবি, আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবক ও প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই গত মাসে CJP-এর সম্প্রসারিত দল বা কমিটি তৈরি করা হয়েছে।

ব্রহ্মভট্টের অভিযোগ, অভিজিৎ দীপকে এবং অন্য কয়েকজন মিলে ১২ সদস্যের একটি দল তৈরি করেছেন। এই কমিটি গঠনের আগে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিবাদকারী, স্বেচ্ছাসেবক কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যুক্ত ব্যক্তিদের মতামত নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর।

তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, ওই ১২ সদস্যের দলের মধ্যে আটজনের AAP-এর সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে। পাশাপাশি দলের কিছু সদস্যের ব্যক্তিগত পরিচিতদেরও কমিটিতে রাখা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

প্রতিটি রাজ্য থেকে প্রতিনিধি চেয়েছিল নতুন গোষ্ঠী

ব্রহ্মভট্টের দাবি, তাঁরা আরও বিস্তৃত একটি জাতীয় সাংগঠনিক কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই পরিকল্পনায় প্রতিটি রাজ্য থেকে পাঁচজন করে প্রতিনিধি রাখার কথা ছিল।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রতিনিধিদের মধ্যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া স্থানীয় প্রতিবাদকারী এবং স্বেচ্ছাসেবকদেরও রাখা হতো। অর্থাৎ সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণে আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের আরও বেশি ভূমিকা দেওয়ার প্রস্তাব ছিল।

একইসঙ্গে কোনও ‘হাই কমান্ড’ বা কোনও ‘খামখেয়ালি কর্তৃত্বশীল ব্যক্তির’ হাতে সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে তাঁর অভিযোগ, এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে কমিটি নিজেদের মতো করে গঠন করা হয়েছে।

কেজরিওয়ালকে নিয়েও অভিযোগ

কমিটি গঠনের প্রসঙ্গে ব্রহ্মভট্ট আরও দাবি করেছেন, নতুন কাঠামোর ভাবনার পিছনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ভূমিকা ছিল। তিনি কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ‘প্রতারণামূলক’ আচরণের অভিযোগও তুলেছেন। তবে এই বক্তব্যও ব্রহ্মভট্টের অভিযোগ এবং এর কোনও স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

নির্বাচনী রাজনীতিতে যাবে না মূল CJP

এদিকে মূল ককরোচ জনতা পার্টি নির্বাচনী রাজনীতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে একটি প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করবে। বর্তমানে সংগঠনটি দেশজুড়ে ‘স্কুল ঠিক করো’ নামে একটি প্রচারাভিযান চালাচ্ছে।

মূল সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোয় অভিজিৎ দীপকে জাতীয় আহ্বায়ক, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রানা সহ-আহ্বায়ক এবং আফরিন নওয়াজ জাতীয় সচিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

নতুন CJP-Democratic গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশের ফলে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে মতবিরোধ এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তবে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ভবিষ্যতে সাংগঠনিক বা রাজনৈতিকভাবে কী ধরনের সম্পর্ক তৈরি হয়, সেটিই এখন দেখার।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *