চাপের মধ্যেও ভারতের অর্থনীতির দাপট! FY27-এর প্রথম ত্রৈমাসিকে ৭.৮% GDP বৃদ্ধি
নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, তেলের দামের ধাক্কা, (GDP growth)ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যা এবং বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা, একসঙ্গে এতগুলি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভারতীয় অর্থনীতির গতি থামেনি।…
নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, তেলের দামের ধাক্কা, (GDP growth)ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যা এবং বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা, একসঙ্গে এতগুলি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভারতীয় অর্থনীতির গতি থামেনি। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে দেশের GDP বৃদ্ধি হয়েছে ৭.৮ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসকে কার্যত ভুল প্রমাণ করে এই বৃদ্ধির হার প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই বেশি। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা RBI যেখানে ৭ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল, সেখানে Reuters-এর সমীক্ষায় প্রত্যাশা ছিল ৭.১ শতাংশ। ফলে ৭.৮ শতাংশের বাস্তব পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে অর্থনীতির শক্তিশালী ভিতের ইঙ্গিত দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ বেঙ্গালুরুতে গ্রেফতার হওয়া ৩১ অবৈধ বাংলাদেশিকে BSF র হাতে তুলে দিল কর্ণাটক পুলিশ
মোটরবোটে ত্রুটি! ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় যমুনার স্রোতে ভেসে গেলেন স্পেশাল ফোর্সের ২ সেনা
এই ফলাফল সামনে আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।(GDP growth) সমাজমাধ্যমে তিনি এই বৃদ্ধিকে ‘herculean feat’ বলে উল্লেখ করে বলেন, “Doomsayers were doomed and India bloomed…yet again!” তাঁর বক্তব্য, তেলের দামের ধাক্কা, সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যা এবং বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত নিজের অর্থনৈতিক শক্তি ধরে রাখতে পেরেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একসময় ভারতীয় অর্থনীতিকে ‘dead economy’ বলেছিলেন। (GDP growth)যদিও পরে তিনিই ভারতের অর্থনীতি ‘doing very well’ বলে মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে দেখলে, সাম্প্রতিক GDP পরিসংখ্যান যে ভারতের অর্থনীতির সহনশীলতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা স্পষ্ট।
কারণ, এই বৃদ্ধির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক শুধু ৭.৮ শতাংশের headline growth নয়, বরং প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের একসঙ্গে ভালো পারফরম্যান্স। এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ব্যক্তিগত খরচ বা private consumption বেড়েছে ৭.১ শতাংশ। এক বছর আগে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৮ শতাংশ। গাড়ি বিক্রি, ঋণের প্রবাহ, আয়কর সংক্রান্ত সুবিধা এবং GST ব্যবস্থায় বিভিন্ন পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের খরচের প্রবণতা শক্তিশালী থেকেছে।
সবচেয়ে বড় চমক এসেছে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে। (GDP growth)Gross Fixed Capital Formation বেড়েছে ১১.৯ শতাংশ। অর্থনীতির মোট আয়ে বিনিয়োগের অংশও এক-তৃতীয়াংশের বেশি হয়েছে। অর্থাৎ শুধু সরকারের পরিকাঠামো খরচের উপর নির্ভর না করে বেসরকারি সংস্থাগুলিও নতুন করে কারখানা, বিদ্যুৎ প্রকল্প, ডেটা সেন্টার এবং শিল্প পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
উৎপাদন শিল্পও প্রত্যাশার তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে। Manufacturing sector-এর বৃদ্ধি হয়েছে ৯.২ শতাংশ। নির্মাণ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ৭.৭ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য পরিষেবা ক্ষেত্রে ৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে পরিষেবা খাত প্রায় ১০ শতাংশ হারে বেড়েছে। আর্থিক, রিয়েল এস্টেট এবং পেশাদার পরিষেবা ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হয়েছে ১২.১ শতাংশ। বাণিজ্য, হোটেল, পরিবহণ ও যোগাযোগ ক্ষেত্রেও ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে।
রফতানির পরিসংখ্যানও অর্থনীতিবিদদের অবাক করেছে। (GDP growth)বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও রফতানি প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে পরিষেবা রফতানি ভারতের অর্থনীতিকে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। আমদানি ১.১ শতাংশ কমায় net exports-এর ক্ষেত্রেও কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কৃষি খাত অবশ্য তুলনামূলক ধীর গতিতে ৩.৬ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু আশঙ্কা করা হয়েছিল যে এর থেকেও খারাপ ফল হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই resilience রাতারাতি তৈরি হয়নি। (GDP growth)গত এক দশকে রাস্তা, রেল, বন্দর, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোয় ধারাবাহিক সরকারি বিনিয়োগ অর্থনীতির ভিতকে শক্ত করেছে। FY27-এর প্রথম ত্রৈমাসিকে কেন্দ্রের capital expenditure-ও ১৮.৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে ব্যাঙ্কগুলির খারাপ ঋণ কমেছে, কর্পোরেট সংস্থাগুলির balance sheet শক্তিশালী হয়েছে এবং ঋণের প্রবাহ বজায় রয়েছে। ফলে বাইরের ধাক্কা এলেও ব্যবসা ও ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার পক্ষে তা সামাল দেওয়া তুলনামূলক সহজ হচ্ছে।