৫৮ বছর পর বদল মোমিনপুরের জন্মাষ্টমী উৎসব, এবার শুধু হিন্দুদের পরিচালনা - 24 Ghanta Bangla News
Home

৫৮ বছর পর বদল মোমিনপুরের জন্মাষ্টমী উৎসব, এবার শুধু হিন্দুদের পরিচালনা

Spread the love

কলকাতা: কলকাতার মোমিনপুর এলাকার অন্যতম পরিচিত জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপনের আয়োজন এ বছর বড় পরিবর্তনের মুখে। প্রায় ছয় দশক ধরে চলে আসা এই অনুষ্ঠান এত দিন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণের জন্য কলকাতার বহুত্ববাদী সংস্কৃতির একটি উদাহরণ হিসেবে পরিচিত ছিল। এ বার অবশ্য আয়োজক কমিটিতে মুসলিম সদস্যদের রাখা হচ্ছে না বলে দাবি উঠেছে। ফলে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানটি এ বার শুধুমাত্র হিন্দুদের পরিচালনায় হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকদের একাংশ।

এই জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানটি কলকাতা পুরসভার ৭৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভুকৈলাশ রোড ও হুসেন শাহ রোডের সংযোগস্থলে হয়। এলাকাটি বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এ বার অনুষ্ঠানটির ৫৮তম বছর।

‘শুধু হিন্দুরাই আয়োজন করবেন’, দাবি বিজেপি নেতার

বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রের এ বছরের পরাজিত বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিং মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, এ বছর জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান শুধুমাত্র হিন্দুরাই আয়োজন করবেন। তাঁর বক্তব্য, জন্মাষ্টমী একটি হিন্দু উৎসব এবং তাই এর আয়োজনও হিন্দুদেরই করা উচিত।

একসময় রাকেশ সিং নিজেকে কংগ্রেসের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক সংগঠনের মাধ্যমেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতাদর্শের সঙ্গে নিজের অবস্থানের মিলের কথা জানিয়েছেন।

সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয় এবং উৎসবও সংশ্লিষ্ট ধর্মের মানুষের বিষয়। এই অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুল ব্যবহৃত ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্ন।

৫৮ বছরের অনুষ্ঠানে এবার বড় পরিবর্তন

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ভুকৈলাশ রোড ও হুসেন শাহ রোডের এই জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠান প্রায় ছয় দশক আগে শুরু হয়েছিল। কিডারপুর সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেছিলেন মুসলিম সমাজকর্মী মহম্মদ কাশিম।

পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠানটি কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর মুসলিম যুবকদের একটি দল ফের অনুষ্ঠানটি চালু করে বলে স্থানীয়দের দাবি।

তৃণমূলের কর্মী এবং আয়োজক কমিটির প্রাক্তন পদাধিকারী মহম্মদ আলম জানিয়েছেন, ২০১১ সাল থেকে তাঁরা নিয়মিত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছিলেন। তাঁর দাবি, প্রায় ২০ জন সদস্য নিয়ে আয়োজক কমিটি তৈরি হয়েছিল এবং তাঁদের প্রায় অর্ধেক ছিলেন মুসলিম।

আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, এত দিন হিন্দু ও মুসলিম সদস্যরা একসঙ্গে জন্মাষ্টমী পালন করতেন। অনুষ্ঠানের প্রসাদ বিতরণ থেকে শুরু করে ধর্মীয় আচার পালন, সব ক্ষেত্রেই তাঁরা একসঙ্গে কাজ করতেন। তবে এ বছর কমিটি থেকে মুসলিম সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।

দুর্গাপুজো নিয়েও নির্দেশ দিয়েছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ

মোমিনপুরের জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠান পরিচালনার এই পরিবর্তনের ঘটনা এমন সময়ে সামনে এল, যখন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কলকাতার দুর্গাপুজো আয়োজকদের উদ্দেশে পুজো পরিচালনা নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশ দিয়েছিল।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে দেবদেবীর ছবি বা মূর্তির বিকৃতি এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। প্যান্ডেল তৈরির সময় হিন্দু সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছিল। এ ছাড়া পুজোর মূল প্যান্ডেল এলাকায় আমিষ খাবার নিষিদ্ধ করার কথাও জানিয়েছিল সংগঠনটি। আধ্যাত্মিক পবিত্রতা এবং পরিচ্ছন্নতার যুক্তি দেখিয়ে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

প্যান্ডেল তৈরির কাজ শুরু

সোমবার ওই এলাকায় গিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া একটি বড় গেরুয়া ও সাদা প্যান্ডেল তৈরি হতে দেখেছে। অনুষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত এক আয়োজক জানিয়েছেন, গত বছর পর্যন্ত মোমিনপুরে মুসলিম সদস্যরাই জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপনের পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। এ বার অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে হিন্দুদের পরিচালনায় হবে বলে তিনি দাবি করেন।

রাকেশ সিং নিজেকে জন্মাষ্টমী আয়োজক কমিটির সভাপতি এবং চেয়ারম্যান বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় সংস্কৃতিকে রক্ষা করা প্রয়োজন। অন্য ধর্মের মানুষ প্যান্ডেলে আসতে পারেন, তবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান হিন্দুদেরই পরিচালনা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

বদল ঘিরে প্রশ্ন

মোমিনপুরের এই জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের যৌথ অংশগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে স্থানীয়দের বক্তব্য। সেই অনুষ্ঠানে এ বার আয়োজক কমিটির চরিত্র বদলে যাওয়ায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

একদিকে রাকেশ সিং এবং আয়োজকদের একাংশ এটিকে হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নিজস্ব চরিত্র রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, আয়োজক কমিটির প্রাক্তন সদস্য মহম্মদ আলমের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যে হিন্দু-মুসলিম যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি হয়ে আসছিল, এ বার সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন করা হয়েছে।

৫৮তম বছরে এসে মোমিনপুরের জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপনের এই পরিবর্তন তাই শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পরিচালনায় বদল নয়, কলকাতার একটি পুরনো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসর নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *