anthropic claude ai can now conduct scientific experiments in labs - 24 Ghanta Bangla News
Home

anthropic claude ai can now conduct scientific experiments in labs

Spread the love

বেঙ্গালুরু: Anthropic-এর নতুন প্রযুক্তি এআই-কে শুধু তথ্য বিশ্লেষণ বা উত্তর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে না। এবার Claude-এর মতো এআই এজেন্ট সরাসরি গবেষণাগারের বিভিন্ন যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাতে পারবে। সংস্থাটি এমন একটি প্রযুক্তির গবেষণামূলক সংস্করণ প্রকাশ করেছে, যা এআইকে বাস্তব দুনিয়ার বৈজ্ঞানিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং সরঞ্জামের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ দেবে।

Anthropic-এর এই প্রযুক্তির নাম Model Hardware Standard, সংক্ষেপে MHS। সংস্থার দাবি, এটি তাদের প্রথম এমন প্রযুক্তি, যা এআই সিস্টেমকে ডিজিটাল জগতের বাইরে নিয়ে গিয়ে বাস্তব জগতের যন্ত্রপাতির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি করছে। প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত কয়েকটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার এবং উন্নত প্রযুক্তি নির্মাতাদের জন্য MHS-এর গবেষণামূলক সংস্করণ চালু করা হয়েছে।

কীভাবে কাজ করবে Anthropic-এর MHS?

বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার বা উৎপাদন কেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সাধারণত একে অপরের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারে না। ফলে প্রতিটি যন্ত্রের জন্য আলাদা সফটওয়্যার তৈরি করতে হয়। কোনও গবেষণাগারে নতুন যন্ত্র বসানো এবং সেটিকে বিদ্যমান সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করতেই কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। Anthropic-এর লক্ষ্য এই প্রক্রিয়াটিকেই অনেক সহজ করা।

MHS এমন একটি মানসম্মত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করে, যার মাধ্যমে কম্পিউটার এবং এআই এজেন্ট বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি মানসম্মত ড্রাইভার সফটওয়্যার। এটি কম্পিউটার এবং কোনও হার্ডওয়্যার যন্ত্রের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। যেমন, ‘read’ কমান্ড ব্যবহার করে কোনও যন্ত্রের তাপমাত্রার মতো তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। আবার ‘write’ কমান্ডের মাধ্যমে তাপমাত্রার মতো কোনও সেটিং পরিবর্তন করা যাবে। ফলে প্রতিটি যন্ত্রের জন্য আলাদা করে নতুন সফটওয়্যার বা অনুবাদক তৈরি করার প্রয়োজন কমে যাবে।

কোন কোন যন্ত্র চালাতে পারবে এআই?

MHS-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামযোগ্য বৈজ্ঞানিক এবং ইঞ্জিনিয়ারিং যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • উন্নতমানের মাইক্রোস্কোপ
  • লিকুইড হ্যান্ডলার
  • লেজার
  • রোবোটিক আর্ম
  • বিভিন্ন গবেষণাগারের স্বয়ংক্রিয় সরঞ্জাম

Anthropic-এর দাবি, Claude এআই এজেন্ট কোনও পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ নিয়ে যুক্তি প্রয়োগ করতে পারবে, প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষার প্যারামিটার পরিবর্তন করতে পারবে এবং কিছু ক্ষেত্রে যন্ত্রে সমস্যা দেখা দিলে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই তা সামলানোর চেষ্টা করতে পারবে। এর ফলে গবেষণাগারে ২৪ ঘণ্টা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা চালানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

শুধু নির্দেশ পালন নয়, পরীক্ষার সময় সিদ্ধান্তও নিতে পারবে

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, Claude শুধু আগে থেকে দেওয়া নির্দেশ অনুসরণ করবে না। পরীক্ষার ফলাফল দেখে পরবর্তী ধাপ কী হওয়া উচিত, সে সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। অর্থাৎ কোনও পরীক্ষায় নির্দিষ্ট ফল না এলে এআই পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছু প্যারামিটার পরিবর্তন করে আবার পরীক্ষা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। Anthropic-এর দাবি, কিছু ক্ষেত্রে এআই এজেন্টকে এমনভাবেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে, যেখানে কোনও অপরিচিত যন্ত্রের সঙ্গে প্রথমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার কার্যপ্রণালী বোঝার চেষ্টা করবে।

Anthropic-এর বিজ্ঞান বিষয়ক অংশীদারিত্ব ও প্রয়োগ সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান Jonah Cool জানিয়েছেন, এতদিন Claude মূলত ডিজিটাল জগতে তথ্য বিশ্লেষণ, অনুমান তৈরি এবং গবেষণায় সাহায্য করত। MHS-এর মাধ্যমে সেটি এখন পরীক্ষাগারে গিয়ে সেই অনুমান যাচাই করার জন্য বাস্তব যন্ত্রপাতির সঙ্গে কাজ করতে পারবে।

জটিল মাইক্রোস্কোপও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে Claude

Anthropic-এর দেওয়া উদাহরণ অনুযায়ী, আধুনিক গবেষণাগারের উন্নত মাইক্রোস্কোপে শত শত আয়না, মোটর এবং লেজার থাকতে পারে। সাধারণত এই ধরনের জটিল সরঞ্জাম পরিচালনার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারের প্রয়োজন হয়। MHS-এর সাহায্যে Claude এই যন্ত্রের পৃথক উপাদানগুলির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে।  অর্থাৎ একজন বিশেষজ্ঞকে প্রতিটি ধাপে ম্যানুয়ালি যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন কমতে পারে।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গবেষণাগারে পরীক্ষা চলছে

Anthropic জানিয়েছে, MHS ইতিমধ্যেই অল্প কয়েকটি গবেষণাগার এবং হার্ডওয়্যার নির্মাতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই পরীক্ষায় যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে রয়েছে Howard Hughes Medical Institute, Carnegie Mellon University, Genentech এবং QuEra। এই সংস্থাগুলি বায়োটেকনোলজি, রোবোটিক্স এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো ক্ষেত্রে কাজ করে। Anthropic-এর দাবি, বিজ্ঞানীরা দেখেছেন এআই এজেন্ট মানুষের গবেষকদের মতো পরীক্ষার ফলাফল পর্যবেক্ষণ, প্যারামিটার পরিবর্তন এবং পরীক্ষা পুনরায় চালানোর কাজ করতে পারে। একটি স্নায়ুবিজ্ঞান পরীক্ষায় Claude জীবন্ত মস্তিষ্কের টিস্যু পরীক্ষা করে alveus নামে মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট অংশ শনাক্ত করেছে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।

তবে রয়েছে নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন

এআইকে সরাসরি গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়ার সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। কোনও এআই এজেন্ট ভুল নির্দেশ দিলে বা ভুলভাবে কোনও যন্ত্র পরিচালনা করলে তার পরিণতি শুধুমাত্র সফটওয়্যারের ভুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাস্তব যন্ত্রপাতি, পরীক্ষার নমুনা এবং গবেষণার নিরাপত্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই কারণে MHS-কে ওপেন সোর্স করার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছে Anthropic। বিশেষ করে এআই এজেন্ট যাতে কোনও শারীরিক যন্ত্রের সঙ্গে কাজ করার সময় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি না করে, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞান গবেষণায় এআই-এর পরবর্তী ধাপ

এই উদ্যোগ Anthropic-এর বিজ্ঞানভিত্তিক এআই ব্যবহারের পরিকল্পনারই পরবর্তী ধাপ। এর আগে সংস্থাটি Claude Science নামে বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বিশেষ পরিষেবা চালু করেছিল। সেখানে ত্রিমাত্রিক প্রোটিনের গঠন বিশ্লেষণ এবং ওষুধ আবিষ্কারের মতো কাজে এআই ব্যবহার করা যায়। MHS সেই প্রক্রিয়াকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এতদিন এআই কোনও বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য তত্ত্ব বা অনুমান তৈরি করতে পারত। এখন সেই অনুমানকে পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করার জন্য বাস্তব গবেষণাগারের যন্ত্রপাতির সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারবে।

প্রতিযোগিতায় Google, OpenAI, Nvidia-ও

বাস্তব জগতের যন্ত্রপাতি এবং রোবটের সঙ্গে এআই-এর যোগাযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে Anthropic একা নয়। Google, OpenAI এবং Nvidia-র মতো বড় প্রযুক্তি সংস্থাও এআইকে রোবোটিক্স এবং বাস্তব জগতের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। তবে Anthropic-এর MHS-এর বিশেষত্ব হল, এটি সরাসরি বৈজ্ঞানিক এবং ইঞ্জিনিয়ারিং হার্ডওয়্যারের মধ্যে এআই ব্যবহারের জন্য একটি সাধারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করছে।

সফল হলে ভবিষ্যতের গবেষণাগারে বিজ্ঞানী শুধু পরীক্ষার পরিকল্পনা করবেন, আর Claude-এর মতো এআই এজেন্ট নিজেই যন্ত্র চালানো, তথ্য সংগ্রহ, ফলাফল বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পরীক্ষা চালানোর বড় অংশ সামলাতে পারে। অর্থাৎ এআই শুধু বিজ্ঞানীদের সহকারী নয়, ভবিষ্যতে গবেষণাগারের সক্রিয় পরীক্ষক হিসেবেও কাজ করতে পারে।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *