শুল্কমুক্ত চিনি আমদানিতে স্বস্তি, ১৫ অক্টোবরের আগেই দেশে আসতে পারে চালান - 24 Ghanta Bangla News
Home

শুল্কমুক্ত চিনি আমদানিতে স্বস্তি, ১৫ অক্টোবরের আগেই দেশে আসতে পারে চালান

Spread the love

নয়াদিল্লি: চিনি আমদানিতে (Sugar Import) কেন্দ্রীয় সরকারের শুল্কমুক্ত অনুমতির পর আগামী ১৫ অক্টোবরের আগেই কিছু চালান ভারতে পৌঁছতে পারে। তবে ঠিক কত পরিমাণ চিনি ওই সময়ের মধ্যে দেশে আসবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন বলে জানিয়েছেন ন্যাশনাল ফেডারেশন অব কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজ বা এনএফসিএসএফের সভাপতি প্রকাশ নায়কনাভারে।

রবিবার সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে তিনি জানান, এই মুহূর্তে ভারতকে চিনি আমদানির জন্য মূলত ব্রাজিলের ওপর নির্ভর করতে হবে। ঐতিহ্যগতভাবে ভারতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী দেশ থাইল্যান্ড। কিন্তু বর্তমানে সেখানে নিজেদের চিনি উৎপাদনে ঘাটতি থাকায় সেখান থেকে বড় পরিমাণে আমদানির সম্ভাবনা নেই।

ব্রাজিল থেকে ভারতের বন্দরে চিনি পৌঁছতে সাধারণত ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে। এরপর বন্দর থেকে চিনি কারখানায় পৌঁছতেও অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়। ফলে ১৫ অক্টোবরের আগে কতটা চিনি দেশে পৌঁছবে, তা নির্ভর করবে আমদানির অনুমোদন, বরাদ্দ, ঋণপত্র বা এলসি খোলা, জাহাজের সময়সূচি এবং ব্রাজিলের বন্দরে যানজটের মতো একাধিক বিষয়ের ওপর।

Also Read | হুগলি নদীর ধরে ৬০০ কোটি বিনিয়োগ ইডেন রিয়েলিটির! তৈরী হবে ৩ লাক্সারি হোটেল

প্রকাশ নায়কনাভারে বলেন, ১৫ অক্টোবরের মধ্যে কিছু চালান পৌঁছনোর সম্ভাবনা ভালো হলেও এখনই নির্দিষ্ট পরিমাণ বলা কঠিন। একই সঙ্গে তিনি মনে করছেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চিনি দেশে পৌঁছনোর যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, সরকার সেটিকে খুব কঠোরভাবে প্রয়োগ নাও করতে পারে। ওই সময়ের পরেও যেসব চালান পথে থাকবে, সেগুলিকে দেশে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে তাঁর ধারণা।

২০ আগস্ট কেন্দ্র সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টন কাঁচা চিনি শুল্ক ছাড়াই আমদানির অনুমতি দেয়। দেশে সরবরাহের ঘাটতির মধ্যে এক মাসে খুচরো এবং পাইকারি বাজারে চিনির দাম ২৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি ৫৬ থেকে ৬০ টাকা হওয়ার পর দাম নিয়ন্ত্রণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আমদানি করা চিনি প্রথমে বন্দর সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে পৌঁছনোর সম্ভাবনাই বেশি। মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, গুজরাট এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মতো বন্দরনির্ভর রাজ্যগুলি তুলনামূলক দ্রুত আমদানির সুবিধা পেতে পারে। তবে উত্তর ভারতের স্থলবেষ্টিত রাজ্যগুলিও অতীতে একই বন্দরগুলির মাধ্যমে সড়ক এবং রেলপথে চিনি পেয়েছে।

এদিকে দেশে চিনির সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ নেই বলেই মনে করছে এনএফসিএসএফ। সংগঠনটি ২০২৫-২৬ মরশুমে ভারতের নিট চিনি উৎপাদনের হিসাব ২৭৯ লক্ষ টন রেখেছে। মরশুমের শুরু থেকে এই হিসাব অপরিবর্তিত রয়েছে। এই পরিমাণের মধ্যে ইথানল উৎপাদনে ব্যবহারের জন্য আনুমানিক ২৪ লক্ষ টন চিনি সরিয়ে নেওয়ার হিসাব ধরা হয়নি।

Also Read | আগামী ২ বছরে ভারতের খাতে যোগ হবে ৫০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি

২০২৬-২৭ মরশুম ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। ওই মরশুমের শুরুতে আগের মজুত প্রায় ৩৫ লক্ষ টন থাকবে বলে এনএফসিএসএফের অনুমান। দেশে প্রতি মাসে প্রায় ২২ লক্ষ টন চিনির চাহিদা রয়েছে। ফলে নভেম্বর পর্যন্ত বাজারে সরবরাহ বজায় রাখার মতো মজুত থাকবে বলে মনে করছে সংগঠনটি। এর মধ্যে নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের আখ মাড়াই শুরু হলে বাজারে নতুন চিনি আসতে শুরু করবে। প্রকাশ নায়কনাভারে বলেন, দেশে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন না।

দেশে চিনির সরবরাহ নিয়ে এনএফসিএসএফের হিসাব আগের মতোই থাকলেও সরকার এর আগে চিনি রফতানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এ বিষয়ে নায়কনাভারে জানান, সরকার শিল্প সংগঠনগুলির হিসাবের পরিবর্তে রাজ্যগুলির আখ কমিশনারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই সময়কার সরবরাহ পরিস্থিতিও রফতানির অনুমতি দেওয়ার পক্ষে ছিল বলে তিনি জানান।

ভারত অনুমোদিত ২০ লক্ষ টন রফতানি কোটার বিপরীতে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮ লক্ষ টন চিনি রফতানি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অনুকূল পরিস্থিতি না থাকায় রফতানি কম হয়েছে বলে জানান নায়কনাভারে। তাঁর মতে, কোনও বিধিনিষেধ না থাকলেও রফতানি ১০ লক্ষ টন ছাড়ানোর সম্ভাবনা কম ছিল। দেশের বাজারে সরবরাহ বাড়ানো এবং দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ১৩ মে কেন্দ্র ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিনি রফতানি নিষিদ্ধ করেছিল।

এরই মধ্যে মজুতদারি এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিরুদ্ধে কেন্দ্রের পদক্ষেপ শুরু হওয়ার পর পাইকারি বাজারে চিনির দাম কিছুটা কমেছে। কেন্দ্রীয় খাদ্যসচিব সঞ্জীব চোপড়া গত শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে চিনি শিল্পের বিরুদ্ধে দাম বাড়ানো এবং মজুত করে রাখার অভিযোগ করেছিলেন।

প্রকাশ নায়কনাভারে জানান, ওই সাংবাদিক বৈঠকের আগে খাদ্যসচিব এনএফসিএসএফ এবং ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বা আইএসএমএর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে বাজারে পর্যাপ্ত চিনি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জল্পনাভিত্তিক দাম বাড়ানো বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

কারখানা থেকে বেরোনোর সময় প্রতি কেজি চিনির দাম কর বাদ দিয়ে ৬৫ থেকে ৬৭ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। শনিবার খোলা দরপত্রে সেই দাম প্রায় ৫ টাকা কমেছে। রাজ্যগুলিতে নজরদারি বাড়ার ফলে আগামী সপ্তাহেও দাম কমার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন এনএফসিএসএফ সভাপতি।

কেন্দ্রের মজুত নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ কয়েকটি ধাপে নেওয়া হয়েছে। ১ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত কারখানার মজুতের শারীরিক যাচাই করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য ২০০ টন মজুতের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বড় ক্রেতাদের জন্য আলাদা সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের মোট চিনির ব্যবহারের প্রায় ৬৫ শতাংশ এই বড় ক্রেতাদের মাধ্যমে হয় এবং তাঁদের অনেকেই কম দামে আগাম চুক্তি করে মজুত তৈরি করেছিলেন বলে জানানো হয়েছে।

এরপর ব্যবসায়ী এবং চিনিকলগুলির গুদামে রাজ্যস্তরে পরিদর্শন শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে নজরদারির জন্য বিশেষ দলও মোতায়েন করা হয়েছে। এনএফসিএসএফের সদস্য চিনিকলগুলিও মূলত নির্ধারিত কোটার মধ্যেই কাজ করেছে এবং জল্পনাভিত্তিক ব্যবসা থেকে দূরে থেকেছে বলে জানিয়েছেন নায়কনাভারে।

এদিকে ভারত শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির ঘোষণা করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে সাধারণ প্রবণতার বিপরীতে কাঁচা চিনির দাম বেড়ে যাওয়ার পরিবর্তে কমেছে। কাঁচা চিনির দাম সাময়িকভাবে প্রতি পাউন্ডে ১৮ সেন্টে পৌঁছনোর পর কমে প্রায় ১৭.৫০ সেন্টে নেমেছে। আমদানির ঘোষণার আগে দাম ছিল প্রায় ১৭.৮৫ সেন্ট প্রতি পাউন্ড।

বিশ্ববাজারে চিনির সরবরাহ স্বস্তিদায়ক থাকায় ভারতের ১০ লক্ষ টন আমদানির পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের দামের চাপ তৈরি করবে না বলে মনে করছেন নায়কনাভারে। ভারতে আমদানি করা চিনির চূড়ান্ত খরচ এবং খুচরো বাজারে তার প্রভাব নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, জাহাজ ভাড়া, বন্দরে পণ্য খালাস এবং দেশের অভ্যন্তরে পরিবহণের খরচের ওপর। যেহেতু এই আমদানিতে কোনও শুল্ক দিতে হবে না, তাই আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে আমদানি করা চিনি দেশের বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সাহায্য করতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *