বিশালতায় এখনও অনন্য রত্নেশ্বরের মন্দির
মন্দিরে সূক্ষ্ম অলঙ্করণ তেমন নেই, তবে মন্দিরের গায়ে বেশ কিছু পাথরে খোদিত বড় মূর্তি রয়েছে। প্রবেশ পথে খিলানের ভিতর অংশে তিনটি মূর্তি আছে। সামনে সিংহের উপরে দ্বিভূজা দুর্গামূর্তি। দুর্গার এক হাতে তলোয়ার, অন্য হাতে ঢাল। এমন রণোন্মত্ত দ্বিভূজা দুর্গামূর্তি বিরল। দুর্গার বাম ও ডানদিকে আছে গণেশ ও কার্তিকের মূর্তি। মূর্তিগুলির আয়তন প্রায় একই। এ ছাড়া বহির্দেশে চারটি সিংহমূর্তির নীচে চারটি স্ফীতোদর লেজবিশিষ্ট প্রাণী আছে। খুব সম্ভবত সেগুলি হনুমানের মূর্তি।
মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কবে? বাঁকুড়া ক্রিশ্চান কলেজের অতিথি অধ্যাপক শুভম্ মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, এই শিবমন্দিরে কোন প্রতিষ্ঠা ফলক নেই, তাই সঠিক ভাবে এই বিষয়ে তথ্য পাওয়া কঠিন। আইএএস অমিয়কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘বাঁকুড়া জেলার পুরাকীর্তি’ বইয়ে এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠার সময় সপ্তদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বলে জানিয়েছিলেন। এই মন্দির মল্লরাজ বীর হাম্বীরের পিতামহ বীরমল্ল তৈরি করেছিলেন বলে মনে করেন। তবে স্থানীয় জনশ্রুতি, রত্নেশ্বর নামে এক শিব সাধকের অলৌকিক ক্ষমতা বলে এই শিব মন্দির রাতারাতি নির্মিত হয়। তাঁর তপস্যায় অনাদি লিঙ্গ হিসাবে রত্নেশ্বর শিবের প্রকাশ হয়েছিল। পরবর্তী কালে এই মন্দির এবং সংলগ্ন এলাকা পাত্রসায়র হদলনারায়ণপুরের জমিদার বন্দ্যোপাধ্যায় বংশের হস্তগত হয়। সেই পরিবারের দান করা ভূ-সম্পত্তিতে আজও রত্নেশ্বরের সেবাকার্য চলে।