Kashmir: 'কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ' বলায় ট্রাম্পের দূতের উপর চটল পাকিস্তান! | Us ambassador calls kashmir a vital part of india is us policy shifting - 24 Ghanta Bangla News
Home

Kashmir: ‘কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ বলায় ট্রাম্পের দূতের উপর চটল পাকিস্তান! | Us ambassador calls kashmir a vital part of india is us policy shifting

Spread the love

কাশ্মীর নিয়ে আমেরিকার অবস্থানে কি বড় কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল? জম্মু ও কাশ্মীর সফরে গিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের একটি মন্তব্য ঘিরে এখন তুমুল আলোচনা। শ্রীনগরে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে বৈঠকের পর গোর বলেন, “এটি ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।” একইসঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন ভ্রমণ-পরামর্শ বা ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি পুনর্বিবেচনার কথাও জানান তিনি।

গোরের এই মন্তব্যের পরই পাকিস্তানে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। ইসলামাবাদে মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে আপত্তি জানিয়েছে পাকিস্তান। শ্রীনগরে গোরের মন্তব্যের পরই এই পদক্ষেপ করে শাহবাজ শরিফের সরকার।

তবে কাশ্মীর নিয়ে আমেরিকার নীতির ইতিহাস দেখলে এই মন্তব্যের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি এবং ভারতে আসা বিপুল সংখ্যক শরণার্থী নিয়ে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেনেথ কিটিং ভারতের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। মার্কিন নথিতে দেখা যায়, কিটিং পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের পক্ষে ছিলেন এবং ভারতের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

কিন্তু একই সময়ে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারক মহলে ছিল ভিন্ন সুর। মার্কিন সরকারি নথি অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের জুনে রিচার্ড নিক্সন ও হেনরি কিসিঞ্জার কিটিংয়ের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। কিসিঞ্জার মনে করেছিলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ এবং পূর্ব পাকিস্তান নিয়ে ভারতের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নেওয়া ঠিক হবে না।

৭ জুলাই ১৯৭১-এ নয়াদিল্লিতে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে হেনরি কিসিঞ্জারের বৈঠকও হয়েছিল। সেই আলোচনায় পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি, শরণার্থী সমস্যা এবং ভারতের উদ্বেগ নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়। মার্কিন সরকারি নথিতে সেই বৈঠকের বিবরণ সংরক্ষিত রয়েছে। অর্থাৎ, ইতিহাস বলছে, কোনও একটি সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য এবং ওয়াশিংটনের নীতির মধ্যে ফারাক তৈরি হয়েছিল। সেই পুরনো ইতিহাসের সঙ্গে আজকের পরিস্থিতির তুলনা টানছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।

তবে সার্জিও গোরের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে সরাসরি ‘কাশ্মীর নিয়ে আমেরিকার নীতি বদলে গিয়েছে’ বলে ঘোষণা করার মতো অবস্থায় এখনও যাওয়া যাচ্ছে না। তিনি জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেছেন এবং একইসঙ্গে জানিয়েছেন, আমেরিকা ওই অঞ্চলের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি পুনর্বিবেচনা করবে। কিন্তু ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে কাশ্মীর প্রশ্নে তাদের দীর্ঘদিনের নীতিতে মৌলিক পরিবর্তনের ঘোষণা করেনি।

এখানেই উঠে আসছে আরও বড় প্রশ্ন, গোরের এই মন্তব্য কি নিছক সৌজন্য? নাকি এর পিছনে রয়েছে বৃহত্তর কূটনৈতিক হিসেব?

কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর পশ্চিম এশিয়ার সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ৭ অগস্ট মক্কায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। চুক্তিতে কোনও একটি সদস্য আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশেরই বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক শক্তিগুলির নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রবণতাকেই সামনে এনেছে।

এই নতুন সমীকরণে পাকিস্তানের গুরুত্বও বাড়ছে। একইসঙ্গে আমেরিকার দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ফলে ভারতকে নিয়ে ওয়াশিংটনের কৌশলগত হিসেব বদলাচ্ছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা স্বাভাবিক।

তবে ভারতের জন্যও বার্তা স্পষ্ট, আমেরিকার কোনও একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস দেখানোর প্রয়োজন নেই। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে রাষ্ট্রের স্বার্থই শেষ কথা। আজ যে অবস্থান ভারতের পক্ষে, আগামীকাল পরিস্থিতি বদলালে সেই অবস্থান বদলেও যেতে পারে।

তাই সার্জিও গোরের মন্তব্যকে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্যের একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু সেটিকে আমেরিকার কাশ্মীর নীতির স্থায়ী পরিবর্তনের প্রমাণ বলা এখনও তাড়াহুড়ো হবে। বরং ভারতকে পরিস্থিতি বুঝে, ধৈর্য ধরে এবং নিজের কৌশলগত স্বার্থকে সামনে রেখেই এগোতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *