‘আম্মি, পোড়া গন্ধ পাচ্ছি’! চার বছরের ছেলের ডাকে রক্ষা
দেবাশিস দাস
দিনভর বছর চারেকের ছেলের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ঘোরাঘুরি করে ক্লান্তই ছিলেন কোহিনুর আখতার। মঙ্গলবার রাতে তাড়াতাড়ি খাওয়াদাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বছর ত্রিশের তরুণী। গভীর রাতে ওই ছেলের ডাকে ঘুম ভাঙে — ‘আম্মি, কিছু একটা পুড়ছে। পোড়া গন্ধ পাচ্ছি।’
অত রাতে কী পুড়বে? প্রথমে তাই পাত্তা দেননি। কিন্তু ছেলে নাছোড়। ফের বলে, ‘কিছু একটা পুড়ছে, গন্ধ পাচ্ছি।’ এর মধ্যেই হোটেলের তিন তলা দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করেছে। ধোঁয়া ছড়িয়েছে পাঁচ তলার বারান্দায়।
বুধবার কোহিনুর বলেন, ‘ছেলে দু’বার বলার পরে আমিও কেমন একটা গন্ধ পাই। দরজা খুলে বারান্দায় গিয়ে দেখি, চারপাশ ধোঁয়ায় ঢাকা। দূর থেকে আওয়াজ আসে — বেরোবেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখুন।’
দরজা বন্ধ করে জানলা খুলে কোহিনুর দেখেন, রাস্তায় লোকারণ্য, দমকলের গাড়িতে ছয়লাপ। হাত নেড়ে দমকলকর্মীদের ডেকে কোহিনুর বলেন, ‘সঙ্গে ছোট ছেলে আছে, আমাদের বাঁচান।’ বন্ধ ঘরে ওই অবস্থায় ছেলে আর বৃদ্ধা মাসিকে নিয়ে ঘণ্টাখানেক ছিলেন তিনি। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়।
শেষে পুলিশ আর দমকলকর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করে হোটেলের ছাদে নিয়ে যান। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে ভোর চারটে নাগাদ কোহিনুরদের ঠাঁই হয় পাশের হোটেলে। সেখানে বসে বুধবার সন্ধেয় কোহিনুর বলেন, ‘ছেলের ডাকে বেঁচে গেলাম।’ আপাতত নিরাপদে ঢাকার গুলশানে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় তাঁরা।