অনুরাগ কাশ্যপের সঙ্গী শুভ্রা শেট্টি কে? কী করেন, জানুন প্রেমের গল্প - 24 Ghanta Bangla News
Home

অনুরাগ কাশ্যপের সঙ্গী শুভ্রা শেট্টি কে? কী করেন, জানুন প্রেমের গল্প

Spread the love

মুম্বই: পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ (Anurag Kashyap) দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ। তবে তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী শুভ্রা শেট্টি বরাবরই সংবাদমাধ্যমের নজর থেকে অনেকটা দূরে থেকেছেন। সম্প্রতি জেনিস সেকেইরার সঙ্গে এক খোলামেলা কথোপকথনে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন অনুরাগ ও শুভ্রা। সেখানে উঠে এসেছে তাঁদের প্রেমের গল্প, বয়সের পার্থক্য, সম্পর্কের বিভিন্ন কঠিন সময় এবং একে অপরকে নিয়ে তাঁদের ভাবনা।

কথোপকথনের এক পর্যায়ে শুভ্রা সম্পর্কের শুরুর দিকের একটি ঘটনা মনে করেন। সেই ঘটনা অনুরাগের কাছেও বিশেষ অর্থ বহন করে। শুভ্রার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন পরিচালক।

কে এই শুভ্রা শেট্টি?

শুভ্রা শেট্টি তিরিশের কোঠায় রয়েছেন। অনুরাগ কাশ্যপের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকলেও তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে বরাবরই আড়ালে রেখেছেন। একসময় তিনি ফ্যান্টম ফিল্মস-এ সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন। ফ্যান্টম ফিল্মস ছিল অনুরাগ কাশ্যপের প্রযোজনা সংস্থা। প্রায় এক দশক আগে অনুরাগ কাশ্যপ তাঁদের দু’জনের ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করার পর তাঁদের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকেই তাঁদের বয়সের পার্থক্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।

অনুরাগ ও শুভ্রার বয়সের পার্থক্য নিয়ে কী বললেন?

অনুরাগ কাশ্যপের বয়স ৫৩ বছর, আর শুভ্রা তিরিশের কোঠায়। তাঁদের সম্পর্ক এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে। বর্তমানে তাঁরা বেঙ্গালুরুতে থাকেন। মুম্বই ছেড়ে অনুরাগ বেঙ্গালুরুতে চলে যাওয়ার পর সেখানেই তাঁরা একসঙ্গে থাকছেন। সাক্ষাৎকারে অনুরাগ স্বীকার করেন, তাঁদের বয়সের পার্থক্য নিয়ে তিনি নিজেই অনেক বেশি সচেতন ছিলেন। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয়টি তাঁর মনে আরও বেশি প্রভাব ফেলেছিল।

তিনি জানান, তাঁদের সম্পর্কেও বিভিন্ন সমস্যা এবং কঠিন সময় এসেছে। একটা সময় তিনি সম্পর্কটি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন। অনুরাগ বলেন, এমন একটি পর্যায় এসেছিল যখন তিনি তাঁদের বয়সের পার্থক্য নিয়ে এতটাই সচেতন হয়ে পড়েছিলেন যে সম্পর্কটিকে নিজের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

শুভ্রাকে নিজের মতো করে জীবন বেছে নিতে বলেছিলেন অনুরাগ

শুভ্রা জানান, অনুরাগের এই দ্বিধার পিছনে আরও একটি কারণ ছিল। অনুরাগ চাইতেন শুভ্রা যেন নিজের জীবন নিজের মতো করে বুঝতে পারেন এবং নিজের পরিচয় তৈরি করার সুযোগ পান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুরাগ ইতিমধ্যেই জীবনের অনেক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে ভালোবাসা এবং সম্পর্ক সম্পর্কে তাঁর ধারণাও অনেক বেশি পরিষ্কার ছিল। কিন্তু তাঁদের সম্পর্ক শুরু হওয়ার সময় শুভ্রা তখনও কুড়ির কোঠায় এবং নিজের জীবন ও পরিচয় সম্পর্কে অনেক কিছুই বুঝে নেওয়ার পর্যায়ে ছিলেন।

তাই অনুরাগ তাঁকে বাইরে যেতে, জীবনকে নিজের মতো করে উপভোগ করতে এবং নিজের পথ খুঁজে নিতে উৎসাহ দিতেন। এমনকি সেই পথ শেষ পর্যন্ত তাঁকে অনুরাগের কাছ থেকে দূরে নিয়ে গেলেও তিনি যেন নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারেন, সেটাই অনুরাগের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

সম্পর্কের শুরুর দিনের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ অনুরাগ

সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আবেগপূর্ণ মুহূর্তগুলির একটি আসে যখন শুভ্রা তাঁদের সম্পর্কের শুরুর দিনের একটি ঘটনা মনে করেন। শুভ্রা জানান, একসময় তিনি অনুরাগকে বলেছিলেন যে প্রেমে পড়া তাঁর জীবনের ইচ্ছাগুলির একটি। প্রেমের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারলে তাঁর জীবন পূর্ণ হবে, এমন কথাও তিনি বলেছিলেন। শুভ্রার কাছে কথাটি ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক এবং হালকা মন্তব্য। কিন্তু অনুরাগ সেটিকে অন্যভাবে নিয়েছিলেন।

শুভ্রার বক্তব্য অনুযায়ী, অনুরাগ তাঁকে বলেছিলেন যে তাঁদের সম্পর্কের আগে মৃত্যুকে তিনি কখনও ভয় পাননি। কিন্তু শুভ্রার সঙ্গে থাকার পর তাঁর মধ্যে পরিবর্তন আসে। কারণ, প্রথমবারের মতো তিনি এমন কিছু খুঁজে পেয়েছিলেন, যার জন্য তিনি বেঁচে থাকতে চেয়েছিলেন। এই ঘটনা বলতে গিয়েই সাক্ষাৎকারে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অনুরাগ। তাঁর চোখে জল চলে আসে।

আবার বিয়ে করতে চান অনুরাগ?

অনুরাগ ও শুভ্রার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনায় বিয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে। অনুরাগের এটি তৃতীয় বিয়ে হবে কি না, সেই প্রশ্নও তাঁকে করা হয়। অনুরাগ জানান, শুভ্রা বিয়েতে বিশ্বাস করেন না। তবে তিনি নিজে আবার বিয়ে করবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অনুরাগ বিষয়টিকে বিয়ের চেয়ে তাঁদের একসঙ্গে থাকার দিক থেকেই দেখেন।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, শুভ্রার সঙ্গে থাকতে তিনি অত্যন্ত খুশি। তাঁর কাছে মূল বিষয় হল শুভ্রার সঙ্গে থাকা এবং সম্পর্কটিকে ধরে রাখা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অন্যতম চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে সুস্থ থাকা, যাতে তিনি যাঁদের ভালোবাসেন তাঁদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে পারেন। তাঁদের সম্পর্ক থেকে তিনি যা পেয়েছেন, তা হারাতে চান না বলেও জানান।

শুভ্রার বাবা-মায়ের প্রথমে আপত্তি ছিল

শুভ্রা তাঁদের সম্পর্কের শুরুর সময় তাঁর বাবা-মায়ের প্রতিক্রিয়ার কথাও জানান। তিনি যখন অনুরাগের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান, তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ২০ বছর। অন্যদিকে অনুরাগ তাঁর থেকে অনেকটাই বড় ছিলেন। এর আগে অনুরাগ দু’বার বিয়ে করেছিলেন এবং তাঁর একটি সন্তানও রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই মেয়ের এই সম্পর্ক নিয়ে শুভ্রার বাবা-মায়ের উদ্বেগ ছিল। তবে পরে তাঁরা তাঁদের মেয়ের সিদ্ধান্তকে মেনে নেন।

এক দশকের বেশি সময় ধরে একসঙ্গে

বয়সের পার্থক্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও অনুরাগ কাশ্যপ ও শুভ্রা শেট্টি তাঁদের সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তাঁরা বেঙ্গালুরুতে একসঙ্গে থাকেন এবং নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনকে মূলধারার প্রচারের বাইরে রাখতেই পছন্দ করেন।

সাম্প্রতিক কথোপকথনে তাঁদের সম্পর্কের নানা দিক প্রকাশ্যে এলেও দু’জনের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতা তাঁদের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। বয়সের পার্থক্য, পারিবারিক উদ্বেগ কিংবা ব্যক্তিগত অনিশ্চয়তার মতো নানা পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁরা একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *