পেটের ধমনিতে বাসা বেঁধেছিল দৈত্যাকার অ্যানিউরিজ়ম, অভিনব অপারেশনে প্রাণরক্ষা ভিনদেশির
এই সময়: পেটের প্রধান ধমনিতে দৈত্যাকার অ্যানিউরিজ়ম। যেন বেলুনের মতো ফুলে, যে কোনও সময়ে ফেটে গিয়ে প্রাণঘাতী অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে। সঙ্গে ধমনির ভিতরে রক্ত জমাট এবং ডিসেকশন বা দেওয়াল ছিঁড়ে যাওয়ার জটিলতা। এমন অবস্থায় বছর চুয়ান্নর এক বাংলাদেশি রোগীর সফল চিকিৎসা করল মুকুন্দপুর মণিপাল হাসপাতাল। মিনিম্যালি ইনভেসিভ পদ্ধতিতে করা হলো এন্ডোভাসকুলার অ্যাওর্টিক রিপেয়ার।
মণিপাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মারাত্মক ধূমপায়ী ওই ব্যক্তি গত ৫ জুলাই পিঠ ও বাঁ–পায়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র পেট ব্যথা এবং হাঁটতে সমস্যার কারণে ভর্তি হন হাসপাতালে। তাঁর ২০১৬-য় বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। চিকিৎসক অভিনন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় চিকিৎসা শুরু করেন। সিটি অ্যাঞ্জিয়োগ্রাফিতে ধরা পড়ে ইনফ্রারেনাল অ্যাবডোমিনাল অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজ়ম। ফোলা অংশটি এতটাই বড় ছিল যে আশপাশের অঙ্গেও চাপ পড়ছিল এবং বাঁ পায়ে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল।
৬ জুলাই চিকিৎসক সৌম্য পাত্র ও অরিজিৎ দত্তর নেতৃত্বে সম্পূর্ণ পারকিউটেনিয়াস এন্ডোভাসকুলার অ্যাওর্টিক রিপেয়ার করা হয়। ছোট ছিদ্র দিয়ে রক্তনালীতে ঢুকিয়ে স্টেন্ট-গ্রাফট বসিয়ে অ্যানিউরিজ়মকে রক্তপ্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। ফলে ফেটে গিয়ে ভয়াবহ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কমে। ভাসকুলার ক্লোজ়ার ডিভাইস ব্যবহার করায় বড় কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন হয়নি। ৯ জুলাই স্থিতিশীল অবস্থায় ছাড়া পান ওই রোগী। ফলো-আপে দেখা যায়, ব্যথা কমেছে, স্বাভাবিক ভাবে হাঁটছেন। সাম্প্রতিক চেক-আপেও সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন তিনি, জানিয়েছেন মণিপালের চিকিৎসকরা।