যন্তর মন্তরে পেট্রল বোমা হামলার ছক! পাক-মদতপুষ্ট ISI মডিউল ফাঁস, ধৃত ৯
নয়াদিল্লি: দিল্লির যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভ চলাকালীন পেট্রল বোমা হামলার বড়সড় ছক বানচাল করল পাঞ্জাব পুলিশ। পুলিশের দাবি, পাকিস্তানের মদতপুষ্ট একটি সন্ত্রাসবাদী মডিউল এই হামলার…
নয়াদিল্লি: দিল্লির যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভ চলাকালীন পেট্রল বোমা হামলার বড়সড় ছক বানচাল করল পাঞ্জাব পুলিশ। পুলিশের দাবি, পাকিস্তানের মদতপুষ্ট একটি সন্ত্রাসবাদী মডিউল এই হামলার পরিকল্পনা করেছিল। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত আটজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের দলটি বিক্ষোভ চলাকালীন দিল্লির যন্তর মন্তরে গিয়েছিল। সেখানে হামলার জন্য তারা স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জোগাড় করে, যার মধ্যে পেট্রল বোমাও ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ কর্মী, নিরাপত্তা সংস্থা এবং অন্যান্য উর্দিধারী আধিকারিকদের নিশানা করার জন্য পাকিস্তানের হ্যান্ডলাররা এই অভিযুক্তদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত তারা এই হামলা চালাতে ব্যর্থ হয় এবং পাঞ্জাবে ফিরে যায়। এরপরই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পাশাপাশি, পেটিএম (Paytm)-সহ বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হওয়া আর্থিক লেনদেনের খোঁজও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। পাকিস্তানের হ্যান্ডলার এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইএসআই-মডিউল ফাঁস, উদ্ধার প্রচুর অস্ত্র
অমৃতসর কমিশনারেট পুলিশ আইএসআই (ISI) সমর্থিত আন্তঃসীমান্ত দুটি সন্ত্রাসবাদী মডিউল ফাঁস করেছে। এই অভিযানে চারজন নাবালক-সহ মোট নয়জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তিনটি বেআইনি পিস্তল, চারটি পেট্রল বোমা এবং নয় রাউন্ড জীবন্ত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
রেললাইনের কাছে গোপন নজরদারি
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা মূলত বিদেশে বসে থাকা আইএসআই হ্যান্ডলারদের নির্দেশেই কাজ করছিল। এই হ্যান্ডলাররা স্থানীয় যুবকদের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত করতে, নিরাপত্তা স্থাপনাগুলির ওপর নজরদারি চালাতে, বেআইনি অস্ত্র সংগ্রহ করতে এবং জনশান্তি বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে নিয়োগ করছিল। তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, রেললাইনের আশেপাশে গোপনে নজরদারি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল এবং সেই ক্যামেরার ফুটেজ বিদেশে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হতো।
এই ঘটনায় অমৃতসরের মোহকামপুরা, এয়ারপোর্ট এবং সি-ডিভিশন থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে পুলিশ। এই নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত করতে, তাদের আর্থিক লেনদেনের পথ ট্র্যাক করতে এবং অন্য কোনও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে তারা জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তদন্ত চলছে।