বর্ষার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত দেশ! অসমে মৃত ৮২, আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা - 24 Ghanta Bangla News
Home

বর্ষার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত দেশ! অসমে মৃত ৮২, আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

Spread the love

কলকাতা: দেশজুড়ে বর্ষার দাপট ক্রমশ বাড়ছে। টানা ভারী বৃষ্টির জেরে অসম, কেরল, ছত্তীসগঢ়, গুজরাট, ওডিশা-সহ একাধিক রাজ্যে বন্যা, জলাবদ্ধতা, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং প্রাণহানির ঘটনা…

কলকাতা: দেশজুড়ে বর্ষার দাপট ক্রমশ বাড়ছে। টানা ভারী বৃষ্টির জেরে অসম, কেরল, ছত্তীসগঢ়, গুজরাট, ওডিশা-সহ একাধিক রাজ্যে বন্যা, জলাবদ্ধতা, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে (Weather Alert) ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অংশে ভারী বৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অসমে। অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (ASDMA)-র তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২ জনে পৌঁছেছে। সর্বশেষ শিবসাগর এবং চরাইদেও জেলায় আরও দু’জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।

বর্তমানে শিবসাগর, গোলাঘাট, যোরহাট, নগাঁও এবং চরাইদেও জেলার ১.৯২ লক্ষেরও বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। মোট ৩৭৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। শিবসাগর এ বছর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির অন্যতম। বহু বাড়ি ও দোকান জলের তলায় চলে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে ছাদ, মাচা এমনকি গাছের ডালেও আশ্রয় নিতে হয়েছে।

বিপদের সময় স্থানীয় গ্রামবাসীরাই উদ্ধারকাজে বড় ভূমিকা নিয়েছেন। শিবসাগরের নেপালি খুটি এলাকায় মাত্র ছয়টি দেশি নৌকা ব্যবহার করে পাঁচটি গ্রামের এক হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অসমের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যের মন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা শিবসাগরের ডেমো এবং নজিরা বিধানসভা এলাকায় যান। তিনি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য কৃষি দফতরের পদক্ষেপও পর্যালোচনা করেন। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ছত্তীসগঢ়েও প্রবল বর্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণপুর জেলার আবুজমাড় অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় দুই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। ৫০টিরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এত দ্রুত জল বেড়েছে যে ঘরবাড়ি ছেড়ে বের হওয়ারও সময় পাননি অনেকেই। কেউ কেউ জানিয়েছেন, প্রায় ১৬টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেসে গেছে।

রাজ্যের মন্ত্রী কেদার কাশ্যপ বলেন, ২৮, ২৯ এবং ৩০ জুলাই ওই অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বহু গুণ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তাঁর মতে, পরিস্থিতি অনেকটা ক্লাউডবার্স্টের মতো ছিল। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে এবং প্রশাসন উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

কেরলেও ভারী বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন। নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৫,৭৯২ জনকে, যাঁরা বর্তমানে ২০৯টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ২৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং ১৯৬টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কেরল সরকার জানিয়েছে, মৃতদের পরিবারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক, কৃষক এবং জীবিকা হারানো মানুষদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। বৃষ্টিজনিত ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পাথানামথিট্টা জেলার রান্নি শহরে পাম্বা নদীর জল উপচে পড়ায় বহু ব্যবসায়ীর লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে গুজরাটে ছয়টি জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। মোরবি, সুরেন্দ্রনগর, রাজকোট এবং আমেদাবাদ-সহ একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে ইতিমধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

ওডিশা, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং জম্মু-কাশ্মীর-সহ হিমালয় সংলগ্ন এলাকাগুলিতেও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। IMD জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় হিমাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ এবং উত্তরাখণ্ডের কিছু এলাকায় হঠাৎ বন্যার নিম্ন থেকে মাঝারি ঝুঁকি রয়েছে। একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে কেরল এবং কর্ণাটকের উপকূল ও দক্ষিণ অভ্যন্তরীণ অংশের জন্যও।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকারও একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বন্যা মোকাবিলায় অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার অনুমোদন দিয়েছেন। গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং ওডিশাকে ৫০০ কোটি টাকা করে, অসমকে ৩৭৯.৩৫ কোটি টাকা, হিমাচল প্রদেশকে ১৯৩.৯৫ কোটি টাকা এবং অরুণাচল প্রদেশকে ৪৪.৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-এর দল আগাম মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার থেকে পাঁচ দিন উত্তর-পূর্ব ভারত এবং মধ্য ও পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তাই নিচু এলাকা এবং নদী সংলগ্ন অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *