Birbhum: বীরভূমের এক নম্বর আয়কর দাতা টুলু মণ্ডল, কত টাকা কর দিতেন জানলে চোপ কপালে উঠবে | Get the latest News of Tulu Mondal, Birbhum Stone Businessman's Tax Records Trigger Political Debate - 24 Ghanta Bangla News
Home

Birbhum: বীরভূমের এক নম্বর আয়কর দাতা টুলু মণ্ডল, কত টাকা কর দিতেন জানলে চোপ কপালে উঠবে | Get the latest News of Tulu Mondal, Birbhum Stone Businessman’s Tax Records Trigger Political Debate

Spread the love

বীরভূম: জেলায় ‘পাথর সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। একাধিক জেলায় রাস্তা তৈরির বরাতও পেত তাঁর সংস্থা। বীরভূমের সেই মহম্মদ নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডল জেলার এক নম্বর আয়কর দাতাও ছিলেন। করের টাকার পরিমাণ শুনলে ভিরমি খেতে হবে। তাঁর নামে থাকা তিনটি কোম্পানি এক অর্থবর্ষে আয়কর দিয়েছে ৪০ কোটি টাকা। ঘনিষ্ঠদের দাবি, গত ৫ বছরে ২০০ কোটি টাকারও বেশি আয়কর দিয়েছেন টুলু মণ্ডল। এই তথ্য সামনে আসার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর বেড়েছে।

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না টুলু মণ্ডলের। তিনি বিদেশ পালিয়েছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বিপুল সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। তাঁর বেআইনি সম্পত্তির পরিমাণ দেখে চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। এই অবস্থায় সামনে এসেছে টুলুর সংস্থার আয়কর দেওয়ার হিসেব। টুলুর মালিকানায় রয়েছে একাধিক সংস্থা। সেইসব সংস্থা থেকে কোথায় কীভাবে লেনদেন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ, গোয়েন্দা এবং ইনকাম ট্যাক্স অফিসাররা।

টুলুর সংস্থার আয়কর দেওয়ার নথি এসেছে টিভি৯ বাংলার হাতে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মণ্ডল স্টোন প্রোডাক্ট প্রাইভেট লিমিটেডের ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আয় ছিল ৪৩ কোটি ২০ লক্ষ ৮৮ হাজার ১৭০ টাকা। ওই অর্থবর্ষে আয়কর দিয়েছিল ১১ কোটি ৫২ লক্ষ ৭৩ হাজার ১১ টাকা। টুলুর এই সংস্থার ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আয় ছিল ৫৭ কোটি ৭১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪৬০ টাকা। আয়কর দিয়েছে ১৫ কোটি ৮৯ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯২২ টাকা। টুলুর স্ত্রী ফিরোজা বেগমের ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আয় ছিল ৪ কোটি ৩২ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭২০ টাকা। আয়কর দিয়েছেন ১ কোটি ৭১ লক্ষ ১ হাজার ৫৭৮ টাকা।

টুলুর সংস্থার আয়কর দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর-

টুলুর সংস্থা কোথা থেকে এত আয় করত, তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে। বীরভূম জেলা বিজেপির বক্তব্য, “টুলু মণ্ডলের আত্মীয় স্বজনের দিকেও নজর দেওয়া হোক। কোথায় কত টাকা রয়েছে, দেখা হোক। তাহলে সরকারের ঘরে আরও রাজস্ব জমা পড়বে।” কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “একজন দিনমজুর থেকে সেই জেলার সবচেয়ে বড় আয়কর দাতা হয়ে গেল কোনও আইনি আয় ছাড়াই। সেটা নজরে রাখার মতো। তবে টুলু হোক আর ভুলু হোক, আমাদের সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

টুলুর সংস্থার আয়কর দেওয়া নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “আয়কর দফতরের উচিত ছিল, তাঁর ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া। এখন তদন্তগুলো হয়নি। টুলু মণ্ডল যদি এতবড় ব্যবসা করে থাকে, তাহলে তার সোর্স কী, কীভাবে হল, এগুলো মনিটর করার জন্য বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে। ঘুরে ঘুরে শুধু তৃণমূলের তিন-চারটে নাম টেনে এনে লাভ কী?”

সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, “আয়কর তো অফিশিয়াল ব্যাপার। অফিশিয়ালি কর দিতেন। কিন্তু, আনঅফিশিয়ালি যা কর নিতেন, তাতে যে কত মানুষের পেটে লাথি পড়ত, তার হিসেব হয়নি। লক্ষ লক্ষ মানুষের চোখের জলে যে কোটি কোটি টাকা, কেজি কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে, সেইসব মানুষের চোখের জল ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। কিন্তু, সেই মানুষের টাকাটা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *