২৫ দিনের সমুদ্রযাত্রায় দুবাই পৌঁছল উত্তরপ্রদেশের আম, অটুট রইল ৯০% গুণমান
২৫ দিনের সমুদ্রপথ পেরিয়েও ৯০% আম ভালো অবস্থায় দুবাই পৌঁছেছে। নতুন প্রযুক্তির এই সাফল্যে ভারতীয় আম রপ্তানিতে খুলছে আরও বড় সম্ভাবনার দরজা।
লখনউ: ভারতের জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন ফল আম (Mango) এবার রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন নজির গড়ল। উত্তরপ্রদেশের ১২.৫ টন দশেহরি (Dashehari) ও ল্যাংড়া (Langra) আম প্রথমবারের মতো সমুদ্রপথে ২৫ দিনের যাত্রা শেষে দুবাই পৌঁছেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, দীর্ঘ এই যাত্রার পরও প্রায় ৯০ শতাংশ আম বাজারজাত করার উপযোগী অবস্থায় ছিল। এই সাফল্য ভবিষ্যতে কম খরচে এবং আরও বেশি পরিমাণে ভারতীয় আম বিদেশে রপ্তানির পথ খুলে দিতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে ICAR–Central Institute for Subtropical Horticulture (ICAR-CISH), লখনউ এবং Agricultural and Processed Food Products Export Development Authority (APEDA)-র যৌথভাবে তৈরি করা একটি আধুনিক পোস্ট-হারভেস্ট প্রোটোকল। এই প্রযুক্তির ফলে ব্যয়বহুল বিমান পরিবহণের উপর নির্ভরতা কমিয়ে অনেক কম খরচে সমুদ্রপথে আম রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
কেন্দ্রের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশ থেকে দুবাইয়ে ২৫ দিনের হারভেস্ট-টু-মার্কেট ট্রানজিট সময়ের মধ্যে দশেহরি ও ল্যাংড়া আমের এটিই প্রথম সফল বাণিজ্যিক সমুদ্রপথে রপ্তানি, যা প্রমাণ করেছে যে গুণমান বজায় রেখেও প্রিমিয়াম ভারতীয় আম এখন সমুদ্রপথে অর্থনৈতিকভাবে রপ্তানি করা সম্ভব।
সরকারের আশা, এই সাফল্যের পর আরও বেশি রপ্তানিকারক উপসাগরীয় দেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য বাজারে তাজা আম পাঠাতে সমুদ্রপথ বেছে নেবেন। এতে পরিবহণ খরচ কমবে এবং রপ্তানি আরও লাভজনক হবে।
কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের মতে, সমুদ্রপথে আম পরিবহণের খরচ বিমান পরিবহণের তুলনায় অনেক কম। ফলে রপ্তানিকারকরা চাষিদের কাছ থেকে বেশি দামে আম কিনতে পেরেছেন। এর ফলে আমচাষিরা প্রতি কেজিতে অতিরিক্ত প্রায় ১৫ থেকে ২০ টাকা আয় করেছেন, যা তাঁদের লাভ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, দেশের অন্যান্য আম উৎপাদনকারী রাজ্য থেকেও সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক রপ্তানি বাড়াতে সাহায্য করবে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, পরিবহণ ব্যয় হ্রাস এবং কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই চালানটি আমরোহার Shehnaz Export, Attashi Global-এর সহযোগিতায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অন্যতম বৃহৎ খুচরো বিপণন সংস্থা Lulu Group-এর কাছে রপ্তানি করেছে। প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে ICAR-CISH, আর রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছে APEDA।
গত ২২ জুন আম সংগ্রহ করা হয়। এরপর ICAR-CISH-এর তৈরি METWASH প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমের সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়ানো হয়। পরে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম বাছাই ও প্যাকিং করে ৪০ ফুটের রেফ্রিজারেটেড কনটেনারে কোল্ড চেইনের মাধ্যমে দুবাই পাঠানো হয়।
পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে যাত্রাপথে কিছু বিলম্ব হওয়ায় চালানটি ১৭ জুলাই, অর্থাৎ সংগ্রহের ২৫ দিন পরে দুবাই পৌঁছায়। এত দীর্ঘ সময় পরও প্রায় ৯০ শতাংশ আম ভালো অবস্থায় পৌঁছানোয় এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা