চা-বাগানে ‘সুলাই’ মদের বিরুদ্ধে সচেতনতা অভিযান শুরু, পথে নামল ATTSA - 24 Ghanta Bangla News
Home

চা-বাগানে ‘সুলাই’ মদের বিরুদ্ধে সচেতনতা অভিযান শুরু, পথে নামল ATTSA

Spread the love

গুয়াহাটি: চা-বাগান এলাকায় দেশি মদ ‘সুলাই’-এর বাড়তে থাকা আসক্তি রুখতে মাঠে নেমেছে অসম টি ট্রাইবস স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (ATTSA)। স্বাস্থ্য ও সামাজিক ক্ষতির কথা তুলে ধরে…

গুয়াহাটি: চা-বাগান এলাকায় দেশি মদ ‘সুলাই’-এর বাড়তে থাকা আসক্তি রুখতে মাঠে নেমেছে অসম টি ট্রাইবস স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (ATTSA)। স্বাস্থ্য ও সামাজিক ক্ষতির কথা তুলে ধরে এবার শিবসাগর জেলার ডেমো এলাকার চা-বাগানগুলিতে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী সচেতনতা অভিযান।

রবিবার ডিরই টি এস্টেটে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রচারের সর্বশেষ কর্মসূচি। অভিযানের নেতৃত্ব দেন ATTSA-র প্রবীণ সদস্য দিগন্ত তাসা এবং রাজকিশোর ভূমিজ।

কেন ‘সুলাই’-এর বিরুদ্ধে প্রচার?

চা-বাগান এলাকায় কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় ‘সুলাই’ নামে পরিচিত দেশি মদের ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাপক। ATTSA-র দাবি, নিয়মিত এই মদ্যপান শুধু ব্যক্তির স্বাস্থ্য নয়, গোটা পরিবারের উপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
সংগঠনের মতে, অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে
• লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হয়।
• আয়ু কমে যায়।
• গর্ভবতী নারী ও গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ে।
• অবৈধভাবে মদ তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন।

‘পরিবার বাঁচাতেই এই উদ্যোগ’

ATTSA-র নেতা দিগন্ত তাসা বলেন, এই প্রচারের উদ্দেশ্য কাউকে দোষারোপ করা নয়, বরং পরিবারগুলিকে রক্ষা করা। তাঁর কথায়, “আমরা কাউকে জ্ঞান দিতে আসিনি। আমরা দেখেছি কীভাবে মদ একের পর এক পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বাবা-মায়ের মদ্যপানের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় সন্তানদের। তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়, পারিবারিক পরিবেশ অস্থির হয়ে পড়ে এবং এই চক্র প্রজন্মের পর প্রজন্ম চলতেই থাকে।”

২০১৯ সালের মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি

ATTSA তাদের প্রচারে ২০১৯ সালের ভয়াবহ ঘটনার কথাও তুলে ধরছে। সেই বছর গোলাঘাট ও জোরহাট জেলায় ভেজাল ‘সুলাই’ পান করে অন্তত ১৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন চা-বাগানের শ্রমিক। তদন্তে উঠে এসেছিল, ওই অবৈধ মদে মিথানল, তরল গুড় এবং শুকনো ব্যাটারির গুঁড়ো মেশানো হয়েছিল, যা মৃত্যুর অন্যতম কারণ ছিল।

আরও চা-বাগানে চলবে অভিযান

ATTSA জানিয়েছে, ডেমো এলাকার আরও একাধিক চা-বাগানে এই সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো হবে। সংগঠনের লক্ষ্য, মদ্যপানের কুফল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *