সরকারি অনুমোদন ছাড়াই কলকাতায় কিছু রুটে বাড়ছে বেসরকারি বাসভাড়া
কলকাতা: ডিজেলের লাগামছাড়া দাম, বাড়তি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং কম যাত্রী৷ সব মিলিয়ে আর্থিক চাপে কলকাতার বেসরকারি বাস পরিষেবা। এই পরিস্থিতিতে সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষা না করেই…
কলকাতা: ডিজেলের লাগামছাড়া দাম, বাড়তি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং কম যাত্রী৷ সব মিলিয়ে আর্থিক চাপে কলকাতার বেসরকারি বাস পরিষেবা। এই পরিস্থিতিতে সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষা না করেই কিছু বাস রুটে বাড়তি ভাড়া নেওয়া শুরু হয়েছে, যা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ।
২৩৭ নম্বর রুটে বাড়তি ভাড়া কার্যকর
রবিবার থেকে বিরাটি-বাবুঘাট (রুট ২৩৭)-এর একাধিক বাসে নতুন ভাড়ার তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নতুন ভাড়া অনুযায়ী
• সর্বনিম্ন ১০ টাকার ভাড়া অপরিবর্তিত থাকছে।
• ১২ টাকার ভাড়া বেড়ে ১৫ টাকা।
• ১৪ টাকার ভাড়াও ১৫ টাকা করা হয়েছে।
• ১৮ টাকার ভাড়া বেড়ে ২০ টাকা করা হয়েছে।
যদিও এই ভাড়া বৃদ্ধির জন্য এখনও সরকারি অনুমোদনের কোনও ঘোষণা নেই।
শুধু ভাড়া নয়, স্টেজও কমানো হচ্ছে
শুধু ভাড়া বাড়ানোই নয়, মাইকেল নগর-বাবুঘাট (রুট ৭৯ডি)-এর বাসে প্রতিটি ভাড়ার স্টেজের দূরত্বও কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এর ফলে যাত্রীদের একই দূরত্বে আগের তুলনায় বেশি ভাড়া গুনতে হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাস মালিকদের দাবি, বাড়ছে লোকসান
বাস সংগঠনগুলির দাবি, বর্তমান ভাড়ায় পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। জয়েন্ট কাউন্সিল অব বাস সিন্ডিকেট-এর তপন বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ঘটনা তাঁদের নজরে এসেছে। তবে সব সংগঠন মিলে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সরকারের কাছে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে।
কেন বাড়াতে চাইছে বাসভাড়া?
বাস মালিকদের দাবি
• বর্তমান ভাড়ার কাঠামো নির্ধারণের সময় ডিজেলের দাম ছিল প্রতি লিটার প্রায় ৬৮ টাকা।
• বর্তমানে সেই দাম বেড়ে ১০০-১০৫ টাকার মধ্যে পৌঁছেছে।
• জ্বালানির পাশাপাশি বেড়েছে রক্ষণাবেক্ষণ, বিমা, ফিটনেস সার্টিফিকেট, কর্মীদের কমিশন ও অন্যান্য পরিচালন খরচ।
এক বাস মালিকের দাবি, দিনে তিনটি ট্রিপ চালিয়ে আয় হচ্ছে ৪,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা। এর মধ্যে শুধু ডিজেলের খরচই প্রায় ৪,০০০ টাকা। বাকি খরচ মেটানো ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
২৪টি বড় রুটে কমেছে বাস
বাস অপারেটরদের দাবি, চলতি মাসে কমপক্ষে ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ বাস রুটে ৭৫ শতাংশেরও কম বাস চলছে। দীর্ঘ রুটে যাত্রী নির্ভর বাসগুলিই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে বলে তাঁদের দাবি।
যাত্রীদের ক্ষোভ
অন্যদিকে, যাত্রীদের অভিযোগ, একই পথে চলা বিভিন্ন বাসে আলাদা আলাদা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
বাঙ্গুর অ্যাভিনিউয়ের বাসিন্দা দেবারতি সেন বলেন, “একই রাস্তায় চলা দু’টি বাসে দুই রকম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। কেন বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে অনেক সময় দুর্ব্যবহারও করা হচ্ছে।”
সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়
বাস সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে, ভাড়া সংশোধন নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ এখনও বাকি। ফলে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন বাস মালিক, কর্মী এবং যাত্রীরা। যদি সরকার নতুন ভাড়ার অনুমোদন দেয়, তবে আগামী দিনে কলকাতার আরও একাধিক বেসরকারি বাস রুটে ভাড়া বাড়তে পারে।