Murshidabad: গোবিন্দপুরে পুলকারে ট্রেনে ধাক্কা উস্কে দিল ২০ বছর আগের মর্মান্তিক স্মৃতি, যোগ রইল এক পরিবার | Murshidabad School Van Crash Revives Memories of 2006 Rail Tragedy in Gobindapur
২০ বছর আগে গোবিন্দপুরে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল ৬ জনেরImage Credit: TV9 Bangla
মুর্শিদাবাদ: পুলকারে ট্রেনের ধাক্কায় ৫ জনের মৃত্যুতে ২০ বছর আগের স্মৃতি ফিরে এসেছে মুর্শিদাবাদের গোবিন্দপুরে। ২০০৬ সালে চারচাকা একটি গাড়িতে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল ছয় জনের। জখম হয়েছিলেন একজন। আর শুক্রবার সকালে গোবিন্দপুরে চার পড়ুয়া ও এক সাইকেল আরোহীর মৃত্যুর পর সেই দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কাকতালীয়ভাবে গতকালের দুর্ঘটনায় জখম এক শিশুর পরিবারের লোকজন ২০ বছর আগে ওই দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন।
গতকালের ঘটনায় জখম অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও তিন পড়ুয়া ও পুলকারের চালক। তার মধ্যে রয়েছে বিশেশ্বর মণ্ডল (৫) নামে প্রথম শ্রেণির এক পড়ুয়া। তারই পরিবার কুড়ি বছর আগে দুর্ঘটনায় পড়েছিল। গতকাল যে রেলগেটে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেখান থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে ঘটনাটি ঘটেছিল।
আজ থেকে কুড়ি বছর আগে গোবিন্দপুরে এই রেলগেট ছিল না। গোবিন্দপুর থেকে এক কিলোমিটার দূরে ঠিক কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের আগে ছিল একটি অস্থায়ী রেলগেট। সেই গেট দিয়ে যাতায়াত করতেন সাধারণ মানুষ। ২০০৬ সালের সেই দুর্ঘটনা নিয়ে গোবিন্দপুরের বাসিন্দা ফরমান শেখ বলেন, “গোবিন্দপুর গ্রামে বিশ্বনাথ মণ্ডলের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। সেই দিন রাতে একটি গাড়ি এসে এই মধুপুর রেলগেটের রেললাইনে আটকে যায়। সেই সময় ট্রেনের ধাক্কায় ছয় জনের মৃত্যু হয়েছিল। তখন এই গোবিন্দপুরে রেলগেট ছিল না। ওইদিকে যাতায়াত করত মানুষ। পরে অনেক আন্দোলনের পর ২০১২ সালে এই রেলগেট হয়েছে।”
কী বলছেন বিশ্বনাথ মণ্ডল?
বিশেশ্বর মণ্ডলের দাদু হলেন বিশ্বনাথ মণ্ডল। নাতির দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ২০ বছর আগের কথা মনে পড়ছে তাঁর। ঝড় বয়ে গিয়েছিল পরিবারে। সেদিনের কথা স্মরণ করে কাদোঁ কাঁদো স্বরে বিশ্বনাথ মণ্ডল বলেন, “আমার নাতি শুক্রবার পুলকারে ছিল। এখন ভালো আছে।” তারপরই ২০ বছর আগের কথা স্মরণ করে বলেন, “সেই কথা মনে পড়লে আজও বুকে যন্ত্রণা হয়। বিয়ের রাত ছিল। ওই গাড়িতে ছিলেন আমার জেঠতুতো দাদার ছেলে-বউ ও দাদার শ্যালকের পরিবার ও আমার ছোট ছেলে। ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়। আমার ছোট ছেলেকে মৃত বলে দিয়েছিল অনেকে। সেই সময় এক চিকিৎসক হাতে নেড়ে দেখে বেঁচে আছে। তারপর সুস্থ করে তোলে।”