Vikram-1 Launch: ঐতিহাসিক পদক্ষেপ! মহাকাশে পাড়ি দিল ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট বিক্রম-১, বিশেষত্ব কী কী? | Vikram 1 Launch, India’s First Private Rocket Marks New Era in Space Sector, Boosts Commercial Space Ambitions - 24 Ghanta Bangla News
Home

Vikram-1 Launch: ঐতিহাসিক পদক্ষেপ! মহাকাশে পাড়ি দিল ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট বিক্রম-১, বিশেষত্ব কী কী? | Vikram 1 Launch, India’s First Private Rocket Marks New Era in Space Sector, Boosts Commercial Space Ambitions

Spread the love

শ্রীহরিকোটা: মহাকাশে পাড়ি দিল ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট। ভারতের মহাকাশ গবেষণায় গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক নীতিগত সংস্কারের কারণে ছবি বদলাতে শুরু করেছে। মহাকাশ শিল্পের ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী একটি ‘স্পেস স্টার্টআপ’ ইকোসিস্টেম। এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় উদাহরণ স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace)-এর তৈরি বিক্রম-১ (Vikram-1)। এটি ভারতের প্রথম বেসরকারিভাবে তৈরি অরবিটাল রকেট। যা ‘মিশন আগমন’-এর অধীনে আজ বেলা ১২টা নাগাদ শ্রীহরিকোটার উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে মহাকাশে উৎক্ষেপণ হয়। সরকারের দাবি, এটি শুধু একটি রকেট উৎক্ষেপণ নয়, বরং ভারতের মহাকাশ শিল্পে সংস্কারের বাস্তব সাফল্যের প্রতিফলন।

দ্রুত বাড়ছে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতি

২০২৩ সালের ইন্ডিয়ান স্পেস পলিসি কার্যকর হওয়ার পর মহাকাশ শিল্পে সম্পূর্ণ ভ্যালু চেইন বেসরকারি সংস্থার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে উপগ্রহ নির্মাণ, উৎক্ষেপণ পরিষেবা, মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক পরিষেবায় দেশীয় সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এই পরিবর্তনের প্রভাব সংখ্যাতেও স্পষ্ট। ২০১৪ সালে যেখানে ভারতে মাত্র একটি স্পেস স্টার্টআপ ছিল, ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে ৪০০-রও বেশি হয়েছে। বর্তমানে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতি প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৪০-৪৫ বিলিয়ন ডলারে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেওয়া।

কী বিশেষত্ব বিক্রম-১ রকেটের?

বিক্রম-১ হল স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের তৈরি ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট। এটি লো আর্থ অরবিটে (LEO) ৩৫০ কেজি পর্যন্ত পেলোড বহন করতে সক্ষম। রকেটটি সম্পূর্ণ কার্বন কম্পোজিট কাঠামো দিয়ে তৈরি। এতে রয়েছে শক্তিশালী সলিড-ফুয়েল বুস্টার এবং অত্যাধুনিক ৩ডি-প্রিন্টেড লিকুইড ইঞ্জিন।

এই মিশনে স্কাইরুটের নিজস্ব স্কোপ উপগ্রহ ছাড়াও জার্মানির DCUBED, ভারতের গ্রহ স্পেশ-এর SOLARAS S3 এবং কস্মোসার্ভ-এর এমব্রেস নামের একটি রোবোটিক আর্ম মহাকাশে পাঠানো হবে। এছাড়া প্রতীকী হিসেবে থাকবে কসমিক ব্লুম নামে একটি শিল্পকর্ম এবং ১৮ ক্যারেট সোনার তৈরি একটি ক্ষুদ্র রকেট, যাতে সি. ভি. রমন, বিক্রম সারাভাই এবং এ পি জে আব্দুল কালামের ক্ষুদ্র ভাস্কর্য খোদাই করা থাকবে।

কী কী বড় সংস্কার করেছে কেন্দ্র?

ইন্ডিয়ান স্পেস পলিসি ২০২৩

এই নীতির মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে মহাকাশ শিল্পের সব ক্ষেত্রে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ইন-স্পেসের ভূমিকা

ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার (IN-SPACe) এখন মহাকাশ শিল্পে বেসরকারি সংস্থার জন্য একক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। সংস্থাটি অনুমোদন প্রদান, ISRO-র প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শিল্পের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে।

জুন ২০২৬ পর্যন্ত ইন-স্পেসের কাছে ৪,৫০০-রও বেশি সংস্থা নথিভুক্ত হয়েছে। ১৩৩টি অনুমোদন এবং ১০৬টি মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালে ভারতীয় স্পেস স্টার্টআপগুলিতে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে সহায়তা করেছে সংস্থাটি।

স্টার্টআপের জন্য বিশেষ তহবিল

মহাকাশ প্রযুক্তি উন্নয়নে স্টার্টআপ ও MSME-দের সহায়তা দিতে চালু হয়েছে ইন-স্পেশ সিড ফান্ড স্কিম। এই প্রকল্পে যোগ্য সংস্থাগুলিকে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হয়। এছাড়া গঠন করা হয়েছে এক হাজার কোটি টাকার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড, যা আগামী পাঁচ বছরে মহাকাশ প্রযুক্তি-ভিত্তিক স্টার্টআপে বিনিয়োগ করবে। প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়াতে চালু হয়েছে ৫০০ কোটি টাকার টেকনোলজি অ্যাডপশন ফান্ড (TAF)।

FDI নীতিতেও বড় পরিবর্তন

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে মহাকাশ শিল্পে FDI নীতি শিথিল করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী

স্যাটেলাইট উৎপাদন ও পরিচালনায় ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত অটোমেটিক FDI,
স্পেসপোর্টে ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত অটোমেটিক FDI, স্যাটেলাইটের যন্ত্রাংশ ও সাব-সিস্টেম তৈরিতে ১০০ শতাংশ অটোমেটিক FDI অনুমোদন করা হয়েছে।

ভবিষ্যতের লক্ষ্য

সরকারের মতে, মহাকাশ খাতে ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তা, বেসরকারি বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারত আগামী দিনে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মহাকাশ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। সেই যাত্রায় বিক্রম-১ কেবল একটি রকেট নয়, বরং ভারতের মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন যুগের সূচনা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *