‘হোয়াট অ্যাবাউট মি-ইজ়ম’ কী? সোশ্যাল মিডিয়ার এই অভ্যাসই কি নীরবে ক্ষতি করছে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য?
বিকেলে পার্কে বসে আড্ডা দেওয়া এখন প্রায় অতীত। বর্তমানে সবাই একসঙ্গে থাকলেও প্রত্যেকের চোখ থাকে আলাদা আলাদা স্ক্রিনে। ফলত, যত দিন এগোচ্ছে, ততই কমছে মুখোমুখি বসে কথা বলার অভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে বড় কারণ দ্রুত ডিজিটালাইজেশন।
বর্তমানে প্রত্যেকেই প্রায় নিজেদের জীবনের ছোট-বড় মুহূর্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেন। কেউ ঘুরতে যাওয়ার ছবি দেন। কেউ রান্নার ভিডিয়ো বানান। কেউ আবার শরীর বা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পরামর্শ দেন। অনেকেই নিজের অভিজ্ঞতা লিখে অন্যকে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করেন।
কিন্তু এই ছবির আরেকটা দিকও রয়েছে। আজকাল অনেকেই কোনও পোস্ট দেখেই বলে ওঠেন, ‘আমার জন্য তো এটা প্রযোজ্য নয়’, ‘আমার জন্য অন্য কোনও উপায় নেই?’ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতাই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত বাড়ছে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হচ্ছে ‘হোয়াট অ্যাবাউট মি-ইজ়ম’। আবার অনেকে একে ‘বিন স্যুপ থিওরি’ বলেও উল্লেখ করেন।
কী এই ‘বিন স্যুপ থিওরি’?
ঘটনার শুরু একটি রান্নার ভিডিয়ো থেকে। এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে বিন দিয়ে স্যুপ বানানোর একটি রেসিপি শেয়ার করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল খুবই সহজ। যাঁদের উপকার হবে, তাঁরা দেখে বানাবেন। কিন্তু ভিডিয়ো পোস্ট করতেই মুহূর্তের মধ্যেই মন্তব্যে ভরে যায় কমেন্ট বক্স। কোনও নেটিজ়েন লিখছেন, ‘আমি তো বিন খাই না।’ কেউ আবার লিখছেন, ‘অন্য কিছু দিয়ে হবে?’ বিষয়টা এতটাই ভাইরাল হয় যে, এই প্রবণতারই নাম হয়ে যায় ‘বিন স্যুপ থিওরি’।
কেন এমন হচ্ছে?
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষ স্বাভাবিক ভাবেই নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে পৃথিবীকে বিচার করে। কিন্তু সমস্যা হয়, যখন আমরা ধরে নিই—প্রতিটি পোস্ট, প্রতিটি ভিডিয়ো বা প্রতিটি পরামর্শ আমাদের জন্যই তৈরি। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমও এই ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ আমাদের পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট বার বার সামনে আসে। ফলে কোনও পোস্ট নিজের সঙ্গে না মিললেই অনেকের মনে হয়, তাঁকে উপেক্ষা করা হয়েছে।