ভয়েই দলবদল! কার ভয়? সব জানিয়ে দিলেন মদন
কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিক মদন মিত্রের দলত্যাগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য। বুধবার বিধানসভায় গিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার পর…
কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিক মদন মিত্রের দলত্যাগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য। বুধবার বিধানসভায় গিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার পর কামারহাটির বিধায়ক স্পষ্ট করলেন তাঁর দলবদল ও ‘সরি’ মেসেজ পাঠানোর আসল কারণ। মদনের দাবি, ইডি নয়, বরং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভয়’ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার ইডি-র সমন পাওয়ার পর থেকেই মদনের শিবির বদল নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ছিল। অনেকেরই ধারণা ছিল, কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ থেকে বাঁচতেই মদন মিত্র এই পথে হেঁটেছেন। তবে মদন এদিন সব জল্পনায় জল ঢেলে বলেন, “আমি ইডি-র ভয়ে দল ছাড়িনি। আমার ভয় ছিল AB (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়)-কে নিয়ে। ইডি ধরলে তবু কথা বলে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পাওয়া যায়, কিন্তু অভিষেক কখন কী করবেন, তা বোঝা দায়।”
দীর্ঘ ২৭ মাস জেল খাটার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “জেল জীবনেও আমি দলের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলিনি। কিন্তু দলের ভেতরেই যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আর থাকা অসম্ভব।” সেই সঙ্গে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “প্রমাণ করুন মদন মিত্র টাকা বা গয়না নিয়ে চাকরি দিয়েছে। আমি তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে রাজি।”
মমতাকে ‘সরি’ মেসেজ ও অভিষেককে তোপ
দলবদলের ঠিক পরেই নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে মদন মিত্র ‘সরি’ লিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে অভিষেকের প্রতি তাঁর ক্ষোভ ছিল স্পষ্ট। দল ছেড়ে যাওয়ার সময় তিনি মমতাকে ধন্যবাদ জানালেও, দলের বর্তমান ‘কাল্ট’-এর তীব্র বিরোধিতা করেন।
মহুয়ার পাল্টা আক্রমণ
মদন মিত্রের এই দলবদলকে ‘বিজেপির স্ক্রিপ্ট’ বলে কটাক্ষ করেছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, “মমতা দিদিকে মদন মিত্র মেসেজ করে জানিয়েছিলেন যে তাঁর পরিবারকে সমন করা হয়েছে। এখন তো বলতেই হবে এটা বিজেপির স্ক্রিপ্ট। এতদিন মন্ত্রী ছিলেন, ক্ষমতা এনজয় করেছেন, তখন তো অভিষেককে খারাপ মনে হয়নি! যেই ইডি সমন করল, অমনি ঋতব্রতদের ঘরে গিয়ে হাজির হলেন।”
ঋতব্রত শিবিরের প্রতিক্রিয়া
মদন মিত্রের যোগদানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এটি ‘ইনডিভিজুয়াল কাল্ট’-এর বিরুদ্ধে একটি কালেক্টিভ লড়াই। মদন মিত্র সেই লড়াইকেই শক্তিশালী করছেন।”
মদন মিত্রের মতো একজন অভিজ্ঞ নেতার এমন বিস্ফোরক মন্তব্যে শাসকদলের অন্দরে অস্থিরতা যে চরমে পৌঁছেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, অনুব্রত মণ্ডলের পর মদন মিত্রের এই অভিযোগগুলি নিয়ে দল পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়।