মমতা না ঋত, কোন ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে টলিউডের তারকারা? | Will the stars of bengali cinema and serial be seen on the stage on july 21
তৃণমূল কংগ্রেসের ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে এক সময়ে টলিপাড়া থেকে উপস্থিত থাকতেন অনেকেই। কিন্তু এই বছর কালীঘাট তৃণমূলের ২১শে জুলাই আর ঋতব্রত (বন্দ্যোপাধ্যায়) তৃণমূলের ২১শে জুলাইয়ের মধ্যে টক্করের সম্ভাবনা প্রবল। সেই পরিস্থিতিতে টলিপাড়ার কেউ কি উপস্থিত থাকবেন ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে?
অভিনেতা বনি সেনগুপ্ত কি থাকবেন কোনও দিকে? টিভি নাইন বাংলাকে বনি জানালেন, ”শেষ কয়েক বছরও আমি উপস্থিত ছিলাম না ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে।” অভিনেতা ভরত কলকে দেখা গিয়েছিল ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে। তিনি বললেন, ‘‘প্রথমেই বলি, আমার বাড়ি কংগ্রেসের সমর্থক। তবে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা লড়াকু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেগের সঙ্গে একাত্মবোধ করে, তাঁর পাশে থেকেছি। কিন্তু সক্রিয় রাজনীতিতে কোনওদিন থাকিনি, থাকতে চাইনি। অভিনয়ের কাজটাই মন দিয়ে করি। এখনও তাই করছি। তবে এবার কোনওদিকেই নেই। ঠিক করেছি, রাজনীতির মঞ্চ থেকে দূরেই থাকব, বরাবরের মতো। এটা বলব, ২১শে জুলাই তারিখটা কেন, কী কারণে গুরুত্বপূর্ণ, সেই ইতিহাস যেন আমরা না ভুলি।”
সবুজ শিবিরের বিধায়ক পদের জন্য লড়েছিলেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছেন, এমন ঘোষণা করেননি। তাই ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে থাকবেন কিনা, জানার জন্য যোগাযোগ করলেও, উত্তর পাওয়া যায়নি। অভিনেতা সোহেল দত্ত জানান, আউটডোর শুটিংয়ে বাইরে রয়েছেন। এই ব্যাপারে তাঁর ভাবনা জানা যায়নি।
সায়নী ঘোষ এখন এনসিপিআই-এর সাংসদ। তাই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে যাবেন, এরকম খবর নেই। আগের বছর পরিচালক রাজ চক্রবর্তীকে দেখা গিয়েছিল ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে। তবে এবার তিনি থাকছেন না, কারণ ঘোষণা করে দিয়েছেন রাজনীতির থেকে দূরে থাকবেন।
অভিনেত্রী শ্রীতমা ভট্টাচার্যকে এর আগে দেখা গিয়েছে ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে। শ্রীতমা জানালেন, ”এই মুহূর্তে শুটিংয়ে ব্যস্ত। একটু সময় চেয়ে নিচ্ছি, এই বিষয়ে কথা বলার জন্য”। অভিনেতা দিগন্ত বাগচীকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, ফোন বেজে গিয়েছে।
কাকে-কাকে এর আগে সবুজ শিবিরের ২১শে জুলাইয়ে দেখা গিয়েছিল, সেই তালিকায় চোখ রাখা যাক। ছিলেন ভিভান ঘোষ, ভরত কল, শ্রীতমা ভট্টাচার্য, সুদীপ্তা বক্সী, রেজওয়ান রাব্বানি শেখ, রণিতা দাস, সৌপ্তিক চক্রবর্তী, সায়নী ঘোষ, সোহম চক্রবর্তী, তৃণা সাহা, সৌমিতৃষা কুণ্ডু, তিয়াশা লেপচা, সোহেল দত্ত, সোনামণি সাহা, অরিন্দম শীলের মতো আরও কিছু মুখ। গত দশ বছরের তালিকা অনেকটাই বড়। টলিপাড়ার প্রায় ৪০ জন নামী মুখ রয়েছেন সেই তালিকায়।
ভিভানের সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হয়েছে। তিনি বাড়িতে বিশ্রামরত। টিভি নাইন বাংলাকে বললেন, ”আমার শারীরিক অবস্থা যা, এই মুহূর্তে খুব প্রয়োজন ছাড়া কোথাও বের হচ্ছি না। তবে ২১শে জুলাইয়ের জন্য বা অন্য কোনও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হতো। ২১শে জুলাইয়ের ক্ষেত্রে প্রধানত অরূপ বিশ্বাসের অফিস থেকে আমন্ত্রণ আসত। তত্কালীন রাজ্য সরকারের তরফে আমন্ত্রণ আসলে আমরা সেটা রক্ষা করতাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর শ্রদ্ধা অবশ্যই ছিল। আজও আছে। উনি একজন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যেভাবে আমাদের কাজ দেখতেন, আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানাতেন, সেটা খুবই ভালো লাগত। বর্তমান রাজ্য সরকারের তরফে এমন আমন্ত্রণ পেলেও, তা রক্ষা করব। কিন্তু এবার কোনও আমন্ত্রণ আসেনি। আমি কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নেই। যদি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হতাম, তা হলে, এই সময়ে দলের পাশে থাকার জন্য কোথাও যাব কিনা সেই প্রশ্ন উঠত। কিন্তু যেহেতু আমরা সাধারণ শিল্পী, তাই মন্ত্রীর তরফে বা প্রশাসনের তরফে কোনও আমন্ত্রণ পেলে, তখন সেটা রেখেছি। সেই আমন্ত্রণ না থাকলে, তা নিয়ে ভাবনা যুক্তিসঙ্গত নয়।”
এমন কিছু নাম আছে, যাঁরা এই বিষয়ে কথা বলতে চাইলেন না। রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারের পরও তাঁর পাশে দেখা গিয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়, ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়কে। তাঁদের এবার ২১শে জুলাই কোন মঞ্চে দেখা যাবে, সেদিকে নজর থাকবে। টিভি নাইন বাংলাকে সুভদ্রা জানালেন, ”কোথায় কী ভাগ হয়েছে, কে কী বলছেন, তার কোনও গুরুত্ব আমার কাছে নেই। আমি দিদির সঙ্গে ছিলাম, থাকব এবং এই মুহূর্তে আছি। ২১শে জুলাইয়ের প্ল্যান আমরা আগের দিন হয়তো জানব। দোলাদি (সেন) জানান বা অন্য কেউ জানিয়ে দেন। দিদি যেখানে যাবেন, আমি সেখানে যাব। যদি মারা না যাই, আমাকে দিদির পাশে দেখতে পাবেন।”