Proxy Teacher Scam: বাড়িতে বসে মোটা টাকার বেতন পাওয়া ৩ শিক্ষক ১০০০ টাকা খরচ করে নিয়োগ করলেন জনার্দন, বলরাম, ইয়াসমিনারা | Murshidabad School Teachers Accused of Hiring Proxy Teachers for Money
জনার্দন, ইয়াসমিনারা, বলরাম (প্রক্সি শিক্ষক)Image Credit: TV9 Bangla
মুর্শিদাবাদ: সরকারি স্কুলের বেহাল দশা, পরিকাঠামো, স্কুল ছুট- পূর্বতন সরকারের আমলে এহেন একাধিক বিপন্নতা সামনে এসেছে বারংবার। কেন সরকারি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমছে? কেন অভিভাবকদের মনে সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করানোর মানসিকতা বাড়ছে? একগুচ্ছ প্রশ্নের জবাবে বারবার উঠে এসেছে সরকারি স্কুলের পঠনপাঠনের মান নিয়ে। এরকম আরও একটা জলন্ত দৃষ্টান্ত ধরা পড়ল মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায়। হরিহরপাড়া ব্লকের বহড়ান জুনিয়র হাই স্কুল। ছাত্র সংখ্যা ৮০। স্কুলে শিক্ষক তিন জন। ক্লাস ম্যানেজ হলেও হয়ে যেতে পারত। কিন্তু কই! শিক্ষকরা তো আসেনই না স্কুলে। এদিকে, স্কুলের রেজিস্ট্রার খাতায় সই হয়ে যাচ্ছে। এদিকে স্কুলে ক্লাসও চলছে। কিন্তু নিচ্ছেন কারা? ক্লাস নেওয়ার জন্য স্কুলের সরকারি বেতনভুক শিক্ষকরা আবার ঠিক করেছেন ‘প্রক্সি শিক্ষক’। নিজেদের বেতন থেকে তাঁদের হাতখরচের টাকাও দিচ্ছেন! ১০০০ টাকা। তিন জনের ৩ হাজার।
অভিযোগ উঠছিল দীর্ঘদিন ধরেই। অভিভাবকরা সরব হচ্ছিলেন। বুধবার স্কুলে ঢু মারতেই ধরা পড়ল সেই ছবি। ঘড়ির কাঁটায় দুপুর বারোটা। বিদ্যালয়ে তখনও দেখা মেলেনি প্রধান শিক্ষক অলক কুমার পাল, শিক্ষিকা মিঠু বিশ্বাস এবং অতিথি শিক্ষক পরিমলের। এদিকে, হাজিরা খাতায় তাঁদের সই জ্বলজ্বল করছে।
এদিকে ক্লাস কিন্তু হচ্ছে, ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরাই! কারা তাঁরা? দু’জন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি বলরাম মন্ডল, জনার্দন সরকার, যাঁরা গ্রামেরই বাসিন্দা। অবসর সময় কাটান। তাঁরা কেবল শখে ১০০০ টাকার বিনিময়ে ছাত্র পড়াচ্ছেন। ক্লাসের পর ক্লাস নিচ্ছেন। আরেকজন বছর তিরিশের ইয়াসমিনারা খাতুন। তিনিও গ্রামেরই মেয়ে। এখানেই পড়াশোনা করেছেন। তিনি ছাত্রছাত্রীদের শেখাচ্ছেন অঙ্ক। কেবল শখে।
সরকারি বেতন পকেটে পুরে, নামমাত্র টাকায় গ্রামের সাধারণ মানুষকে দিয়ে ক্লাস নেওয়ার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। গ্রামবাসীদের ক্ষোভ, যোগ্যতা বা প্রশিক্ষণহীন ব্যক্তিদের দিয়ে ক্লাস করানোর ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে। সরকারি নজরদারির অভাব এবং শিক্ষকদের এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবকরা। এই ঘটনা শুনে তাজ্জব শিক্ষাবিদরাও। স্কুলে যে এমনও হয়, তা ভেবে উঠতে পারছেন না তাঁরা।
অতিথি শিক্ষকরা এক বর্ণ কথা বলতে নারাজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। একঅতিথি শিক্ষক জনার্দন সরকার বলেন, “আমার ভূমিকা তো গ্রামের লোক নয়, আমার ছাত্রছাত্রীরাই বলবে। আমিও এখানে গেস্ট শিক্ষক হিসাবেই জয়েন করেছিলাম। সে সময়ে স্কুলে সত্যিই শিক্ষকের অভাব ছিল।” আরেকজন অতিথি শিক্ষক ইয়াসমিনারা খাতুন বলেন, “আসলে এখানে অঙ্কের শিক্ষক নেই। ইতিহাস, জীবনবিজ্ঞান, ইতিহাসের শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু অঙ্কের নেই। তাই ছেলেমেয়েদের পড়াচ্ছি।”
শিক্ষক তো নেই, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে আসেন না প্রধান শিক্ষক অলোক কুমার পালও। তাঁকে ফোন করা হলে তিনি জানান, কিছুদিন আগে তাঁর পা ভেঙে গিয়েছিল। তিনি দীর্ঘদিন স্কুলে আসতে পারেননি। গত দুদিনের মধ্যে স্কুলে এসেছিলেন। তবে স্কুলের বিভিন্ন কাজ নিয়ে তাঁকে এতই ছোটছুটি করতে হয়েছে, যে পা ব্যথা বেড়ে গিয়েছে। তাই নিয়ে আবার আসছেন না। এহেন পরিস্থিতিতে স্কুলের ভরসা তিন প্রক্সি শিক্ষকই।