সরকারি নির্দেশ মেনে দোকান সরাতে গিয়ে মৃত্যু ব্যবসায়ীর
এই সময়, ঘাটাল: সরকারি জায়গা ও ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে পূর্ত দপ্তরের তরফে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল ১৭ জুলাইয়ের আগে পূর্ত দপ্তরের জায়গায় থাকা সমস্ত দোকান সরিয়ে ফেলতে হবে ব্যবসায়ীদের। এই নিয়ে মাইকে প্রচারও করা হয়। তাই দোকানের মালপত্র বাঁচাতে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই তা সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছিলেন। আর তা করতে গিয়েই মঙ্গলবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন এক দোকানদার।
এ দিন দুপুরে ফুটপাথে থাকা নিজের মুরগির দোকানের টিনের শেড সরানোর কাজ করছিলেন শ্রীমন্ত বেরা (৪০)। সেই সময়ে লোহার রড বিদ্যুতের হাইটেনশন তারে ঠেকে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘাটাল পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কুশপাতায় ঘাটাল-পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কের ধারে বাড়ি শ্রীমন্তর। বাড়ির সামনে পূর্ত দপ্তরের জায়গায় ফুটপাথে লোহার রড ও টিনের ছাউনির দোকান তৈরি করে মুরগির মাংসের ব্যবসা করছিলেন তিনি। পরিবারে স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। কিছু দিন আগে কুশপাতা থেকে ঘড়িমোড় হয়ে এলআইসি মোড়, সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাজ্য সড়কের ধারে পূর্ত দপ্তরের জায়গা ও ফুটপাথ ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে দখলমুক্ত করতে দোকানদারদের নোটিস দেয় ঘাটাল মহকুমা পূর্ত দপ্তর (রোডস)।
এ দিন দুপুরে শ্রীমন্ত ফুটপাথ থেকে দোকান সরানোর কাজই করছিলেন। তখনই মাথার উপরে থাকা বিদ্যুতের হাইটেনশন তারের সঙ্গে লোহার রডের সংস্পর্শে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। তাঁকে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসক শ্রীমন্তকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতের দাদা শ্রীকান্ত বেরা বলেন, ‘সরকারের নির্দেশ মেনে আগেভাগে দোকান সরাতে গিয়েই প্রাণ চলে গেল ভাইয়ের। জানি না এখন ওর পরিবারের কী হবে?’
এ ভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অনেকের প্রশ্ন, ‘পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এ ভাবে উচ্ছেদ করা হলে আমরা কোথায় যাব। সরকারি জায়গা ও ফুটপাথ থেকে দখল সরুক, আমরাও চাই। সরকার যখন চাইছে দখলমুক্ত করতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে নির্দেশ মানতে গিয়ে একজন দোকানি যে ভাবে মারা গেলেন তাঁর পরিবারের কী হবে?’
এ দিন ঘটনার পরে হাসপাতালে যায় পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এখান থেকে তাঁদের সংসার, রুটিরুজি চলত। তাই সরকার অন্যত্র তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুক।