নিউ জ়িল্যান্ডের এই শহরকে কেন বলা হয় ‘লিটল ইন্ডিয়া’?

নিউ জ়িল্যান্ডে রয়েছে এমন একটি জায়গা যেখানে গেলে মনে হবে, সত্যিই ভারতে এসে পড়েছেন। জানেন কোন জায়গাকে বলা হয় নিউ জ়িল্যান্ডের ‘লিটল ইন্ডিয়া’?

অকল্যান্ডের স্যান্ড্রিংহাম (Sandringham)-কেই অনেকে বলেন নিউ জ়িল্যান্ডের ‘লিটল ইন্ডিয়া’। শহরের কেন্দ্র থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে এই এলাকা। রাস্তার দু’ধারে সারি সারি ভারতীয় রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান, মশলার বাজার, শাড়ির শোরুম। হাঁটতে হাঁটতেই যেন ভারতের আবহ অনুভব করা যায়।

৮০ এবং ৯০-এর দশকে ভারতীয় অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে এই শহরে। বিশেষ করে পাঞ্জাব, গুজরাট, দক্ষিণ ভারত এবং ফিজি-ভারতীয় সম্প্রদায়ের বহু মানুষ এখানে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের হাত ধরেই বদলে যেতে থাকে স্যান্ড্রিংহামের চেহারা।

আজ এই এলাকায় রয়েছে ডজন ডজন ভারতীয় ও দক্ষিণ এশিয়ার খাবারের দোকান। উত্তর ভারতীয়, দক্ষিণ ভারতীয়, শ্রীলঙ্কান, নেপালি—বিভিন্ন স্বাদের খাবার পাওয়া যায় এক রাস্তার মধ্যেই। তাই স্থানীয়দের কাছেও এটি অন্যতম জনপ্রিয় ফুড ডেস্টিনেশন।

শুধু খাবারই নয়। ভারতীয় মন্দির, গয়নার শোরুম, বলিউড সিনেমার পোস্টার, এমনকী ভারতীয় উৎসবের সাজও দেখা যায় এখানে। দীপাবলি, হোলি বা বৈশাখী উপলক্ষে গোটা এলাকা উৎসবের রঙে সেজে ওঠে।

স্যান্ড্রিংহামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ‘Sandringham Food & Spice Tour’। এই ফুড ওয়াকে অংশ নিয়ে পর্যটকেরা বিভিন্ন ভারতীয় রেস্তরাঁয় ঘুরে ঘুরে নানা ধরনের খাবারের স্বাদ নেন। স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে ভারতীয় খাবারের মেলবন্ধন দেখার এ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।

এখানকার ভারতীয় মুদি দোকানগুলিতে চাল, ডাল, আচার, মশলা, মিঠাই থেকে শুরু করে পুজোর সামগ্রী—সবই পাওয়া যায়। ফলে নিউ জ়িল্যান্ডে থাকা ভারতীয়দের কাছে এই এলাকা যেন নিজের দেশেরই এক টুকরো।

২০২৩ সালের জনগণনা অনুযায়ী, নিউ জ়িল্যান্ডে প্রায় ২.৯২ লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বাস। তাঁদের বড় একটি অংশ অকল্যান্ডে থাকেন। এই বৃহৎ ভারতীয় সম্প্রদায়ের কারণেই স্যান্ড্রিংহাম আজ বহু সংস্কৃতির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

লন্ডনের সাউথল, সিঙ্গাপুরের লিটল ইন্ডিয়ার মতোই অকল্যান্ডের স্যান্ড্রিংহামও আজ নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেছে। তাই নিউ জ়িল্যান্ডে ঘুরতে গেলে শুধু পাহাড়, সমুদ্র বা অ্যাডভেঞ্চার নয়, ভারতীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া পেতেও এক বার ঘুরে আসতে পারেন এই ‘লিটল ইন্ডিয়া’ থেকে।