রাতে ঘুমের মধ্যে পায়ে টান! চটজলদি কী করবেন? কেন এমন হয়? রইল সব প্রশ্নের উত্তর | Nocturnal leg cramps causes treatment and physiotherapy exercises - 24 Ghanta Bangla News
Home

রাতে ঘুমের মধ্যে পায়ে টান! চটজলদি কী করবেন? কেন এমন হয়? রইল সব প্রশ্নের উত্তর | Nocturnal leg cramps causes treatment and physiotherapy exercises

Spread the love

ঘড়ির কাঁটায় তখন মাঝরাত। গভীর ঘুমে মগ্ন আপনি। আচমকাই পায়ের ডিম বা কাফ মাসলে তীব্র টান! প্রচণ্ড ব্যথায় উঠে বসলেন বিছানায়। পা সোজা করার ক্ষমতা নেই, তীব্র যন্ত্রণায় কয়েক মিনিট যেন নরক যন্ত্রণা। এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাননি, এমন মানুষ মেলা ভার। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘নকটার্নাল লেগ ক্র্যাম্পস’ (Nocturnal Leg Cramps) বা রাতে পায়ে টান ধরা। কেন হঠাৎ ঘুমের ঘোরে এমনটা হয়? এর পেছনে কি বড় কোনও শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত রয়েছে?

কেন আচমকা টান ধরে পায়ে?

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, পায়ের পেশি হঠাৎ সংকুচিত বা শক্ত হয়ে গেলে এই ধরণের ক্র্যাম্প বা টান ধরে। এর প্রধান কারণগুলি হল।

১) ডিহাইড্রেশন বা জলের ঘাটতি: শরীরে জলের পরিমাণ কমে গেলে পেশির কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়, যা টানের অন্যতম প্রধান কারণ।
২) ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা: রক্তে পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম বা ম্যাগনেশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজের ঘাটতি হলে পেশি স্বাভাবিকভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে না।

৩) অতিরিক্ত পেশির ক্লান্তি: সারাদিন একটানা দাঁড়িয়ে কাজ করা, অতিরিক্ত হাঁটাচলা বা হিল জুতো পরে দীর্ঘক্ষণ থাকার কারণে পায়ের পেশির ওপর ধকল পড়ে।
৪) বসার বা শোওয়ার ভুল ভঙ্গি: অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ পা মুড়ে বসে থাকলে বা ঘুমের মধ্যে অদ্ভুত ভঙ্গিতে পা রাখলে রক্ত সঞ্চালন বাধা পায়।
৫) অন্যান্য শারীরিক কারণ: গর্ভাবস্থা, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড কিংবা কিডনির কিছু সমস্যার কারণেও এই প্রবণতা বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে পায়ে টান ধরার সমস্যাটিকে অনেকেই অবহেলা করেন, যা একদমই উচিত নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, শরীরে খনিজ লবণ বা জলের ঘাটতির জন্যই এই সমস্যা মাথা চাড়া দেয়। তবে কারও যদি সপ্তাহে ৩-৪ বার বা তার বেশি এই সমস্যা হয়, তবে অবিলম্বে রক্ত পরীক্ষা (যেমন- Serum Electrolytes, Vitamin D, HbA1c) করানো দরকার। অনেক সময় ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি বা নার্ভের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও রাতে পায়ে টান ধরতে পারে।

এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে চটজলদি কী করবেন?

ধীরে ধীরে স্ট্রেচিং: টান ধরলে প্যানিক বা আতঙ্কিত হবেন না। পা সোজা করে পায়ের পাতাটি নিজের দিকে (হাঁটুর দিকে) হালকা টানুন। এতে পেশি শিথিল হবে।

হালকা মালিশ: হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে আক্রান্ত পেশির ওপর আলতো করে চাপ দিয়ে মালিশ বা মাসাজ করুন।

গরম বা ঠান্ডা সেঁক: পেশি শক্ত হয়ে থাকলে গরম জলের সেঁক (Hot Compress) দিতে পারেন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। আর ব্যথা কমাতে বরফ বা আইস প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।

হাঁটুন: যদি সম্ভব হয়, ঘরের মেঝেতে গোড়ালির ওপর ভর দিয়ে সামান্য হাঁটার চেষ্টা করুন।

স্থায়ী প্রতিকার কী?

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে প্রতিদিন অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করুন। খাদ্যতালিকায় রাখুন ডাব, কলা, লেবু বা শাকসবজি—যা শরীরে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের জোগান ঠিক রাখবে। রাতে শুতে যাওয়ার আগে পায়ে হালকা স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম করার অভ্যাসও দারুণ ফল দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *