‘তুমি খুব স্পষ্টবাদী, তাই…’, জিতুকে চিঠি লিখে কেন সাধুবাদ জানালেন সুপারস্টার জিৎ
জুলাই মাস শুরুতেই জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন টলিউডের অভিনেতা জীতু কমল। বিনোদনের দুনিয়া থেকে কিছুটা সময় বের করে এ বার আর্ত মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চলেছেন তিনি। জীতু ঘোষণা করেছেন, তিনি একটি নতুন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা সোশ্যাল ট্রাস্ট খুলতে চলেছেন, যার নাম ‘জীতু কমল অ্যান্ড দ্য ইউনিভার্সাল ট্রাস্ট’। মূলত টলিপাড়ার দুস্থ কলাকুশলী এবং সমাজের আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের সাহায্য করতেই এই উদ্যোগ। আর জীতুর এই সুন্দর পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই তাঁকে চিঠি পাঠিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন টলিউড সুপারস্টার জিৎ (Jeet)।
জীতু জানান, মহামারীর সময় থেকেই তিনি এমন একটি সংস্থা খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে স্বপ্নপূরণ পেতে চলেছে। আগামী ১১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই সংস্থার কাজ শুরু হবে। এই উদ্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করে অভিনেতা বলেন, ‘অনেকেই ভালোবেসে নানা ধরনের উপহার পাঠান। সঙ্গে টাকাও থাকে। অনুরাগীদের ভালোবাসাকে অসম্মান করতে চাই না বলে সেই টাকা ফেরত দিই না।’ তবে জিতু জানান, একটা সময়ের পর তাঁর মনে হয়, এই টাকাগুলো নিজের কাছে না রেখে যদি কোনও ভালো কাজে ব্যবহার করা যায়, তবে সবচেয়ে ভালো হবে। যাদের আক্ষরিক অর্থেই সাহায্যের প্রয়োজন, তাঁদের কাছে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ট্রাস্টের জন্ম।
জীতু কমল তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল-এ জিতের পাঠানো সেই চিঠির ছবি শেয়ার করেছেন, যা এই মুহূর্তে নেটপাড়ায় ভাইরাল। চিঠিতে জিৎ অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় জীতুর সততা ও স্পষ্টবাদী চরিত্রের প্রশংসা করেছেন। জিৎ লিখেছেন, ‘তোমার সঙ্গে আমার প্রথম আলাপ হয়েছিল চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠানে। তখন থেকে একজন শিল্পী ছাড়াও মানুষ হিসাবে তোমাকে যতটুকু জানার সুযোগ হয়েছে, ততটুকুই ভালো লেগেছে। তোমার একটা বিষয় ভীষণ পছন্দ করি, তুমি খুব স্পষ্টবাদী। নিজের কথা খুব পরিষ্কার ভাবে বলো, নিজের মতামত নির্দ্বিধায় প্রকাশ করো। এই সততাই তোমাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।’
‘জীতু কমল অ্যান্ড দ্য ইউনিভার্সাল ট্রাস্ট’-এর প্রশংসা করে জিৎ আরও লেখেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজের প্রতি, মানুষের প্রতি এবং আমাদের চারিপাশের ইকো সিস্টেমের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা থেকে যে কাজগুলো তুমি করছো তা সত্যি প্রশংসনীয়। অনেকেই তো নিজের জন্য বাঁচে। কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা অন্যের জন্য বাঁচে। সমাজের জন্য কাজ করে, মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করে। আর সেই কাজের যে আনন্দ, যে তৃপ্তি তা একমাত্র সেই মানুষই অনুভব করতে পারে।’
চিঠির একেবারে শেষ অংশে জীতুকে নিজের অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন জিৎ। তিনি লিখেছেন, ‘এমন মানুষ আমাকে ভীষণ প্রেরণা দেয়। আমি সবসময় তাঁদের উৎসাহ দিতে চাই, পাশে দাঁড়াতে চাই। তোমার জন্য রইল আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। আমার বিশ্বাস আগামী দিনে তোমার এই উদ্যোগ সমাজে একটি পরিবর্তন এনে দিতে পারবে।’