Thyroid-Cholesterol: বাড়ির তৈরি খাবার খেয়েও কোলেস্টেরলে ভুগছেন? একবার থাইরয়েড পরীক্ষা করিয়ে নিন – Bengali News | Thyroid Issues and Cholesterol: Is There a Connection? know here
কোলেস্টেরলের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে চিন্তিত? চিন্তা হবে না-ই বা কেন! বাড়তি কোলেস্টেরল হার্টের রোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। খারাপ কোলেস্টেরল বাড়লে তা জমা হয় রক্তনালিতে। ধমনীতে ব্লকেজ তৈরি হয়। এখান থেকেই হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। কোলেস্টেরল বাড়লে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফাস্ট ফুড খাওয়া বন্ধ করে দেন। এতে কোলেস্টেরল ও ওজন দুটোই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কিন্তু কখনও থাইরয়েড নিয়ে মাথা ঘামিয়েছেন? শুধু যে অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলের কারণে কোলেস্টেরল বাড়ে, এমন নয়। অনেক সময় থাইরয়েডের কারণেও এলডিএল কোলেস্টেরল বেড়ে যায়।
থাইরয়েড হরমোন মেটাবলিজম বৃদ্ধিতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। থাইরয়েড হরমোন হার্ট, ব্রেন ও অন্যান্য অঙ্গের কার্যকারিতায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই এই হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেহে একাধিক সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। থাইরয়েড কম বা বেশি নিঃসৃত হলে দেহে নানা রোগের উৎপত্তি ঘটে। যার মধ্যে কোলেস্টেরলও রয়েছে।
দেহে প্রথম থেকে কোলেস্টেরল উপস্থিত থাকে। এমন নয় যে, আপনি কোনও খাবার খেলেন, সেখান থেকেই কোলেস্টেরল জন্ম নিল। থাইরয়েড হরমোন এই এইচডিএল বা ভাল কোলেস্টেরল তৈরি করতে এবং এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের হাত থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। যখন থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কমে যায় (এই অবস্থাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলে) তখন শরীর খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তখনই রক্তে বাড়তে থাকে খারাপ কোলেস্টেরল।
থাইরয়েডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে একটু হেরফের হলেই কোলেস্টেরল বাড়তে পারে। সাবক্লিনিক্যাল হাইপোথাইরয়েডিজম হল এমন একটি যেখানে থাইরয়েডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অল্প কম। সেখানেও এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি হতে পারে। ২০১২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা সরাসরি কোলেস্টেরলের মাত্রার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে থাইরয়েডের মাত্রা না কমেও কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। আবার হাইপারথাইরয়েডিজম কোলেস্টেরলের উপর বিপরীত প্রভাব ফেলে। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে দেয়। হাইপারথাইরয়েডিজমে থাইরয়েড হরমোন বেশি ক্ষরিত হয়।
থাইরয়েড হরমোন কম নিঃসৃত হলে, হাইপোথাইরয়েডিজমে ওজন বেড়ে যাওয়া, হার্টবিট কমে যায়, ঠান্ডা লাগার ধাত, শারীরিক ক্লান্তি, শুষ্ক ত্বক, কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। আবার যদি হাইপারথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত হন, তখন ওজন কমে যায়, হার্ট বিটের গতি বেড়ে যাওয়া, খিদে বেড়ে যাওয়া, অস্থিরতা, ডায়ারিয়া, ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। থাইরক্সিন হরমোন পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ে যাবে আপনি থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছেন কিনা। এর সঙ্গে লিপিড প্রোফাইলও পরীক্ষা করিয়ে নিন। সহজেই ধরা পড়বে কোলেস্টেরলের মাত্রা। তখন বুঝতে পারবেন আপনি থাইরয়েড হরমোন কোলেস্টেরলের উপর প্রভাব ফেলছে কিনা।