Debraj-Aditi: 'ও আর ওর বউ দুজনেই অসভ্য', বেরিয়ে আসছে ক্ষোভ, বাগুইআটিতে প্রচলিত 'দেব-রাজনীতি' আসলে কী? | What was Deb Rajneeti in the area allegation against Debraj Chakraborty and Aditi Munshi - 24 Ghanta Bangla News
Home

Debraj-Aditi: ‘ও আর ওর বউ দুজনেই অসভ্য’, বেরিয়ে আসছে ক্ষোভ, বাগুইআটিতে প্রচলিত ‘দেব-রাজনীতি’ আসলে কী? | What was Deb Rajneeti in the area allegation against Debraj Chakraborty and Aditi Munshi

Spread the love

কলকাতা: শুধুমাত্র একজন কাউন্সিলর হলেও, দেবরাজ চক্রবর্তীর (Debraj Chakraborty) দাপট ছিল সর্বজনবিদিত। কানাঘুষোয় আগেও অনেক অভিযোগ শোনা যেত ঠিকই, তবে পালাবদলের পর নতুন করে শিরোনামে আসতে শুরু করে দেবরাজের কীর্তি। প্রথমেই বিপুল সম্পত্তির হিসেব গোপন করার অভিযোগ ওঠে দেবরাজ চক্রবর্তী ও প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির (Aditi Munshi) বিরুদ্ধে। তারপর একে একে সামনে আসে, দেবরাজের একের পর এক কীর্তি।

অদিতির বিরুদ্ধেও এলাকায় রয়েছে ক্ষোভ

দেবরাজ-অদিতির ১০০ কোটির সম্পত্তির কথা হলফনামায় গোপন করা হল কেন, সেই প্রশ্নেই অভিযোগ দায়ের হয়। আদালতের রক্ষাকবচ উঠে যাওয়ার পর গ্রেফতার হয়েছেন দেবরাজ। তাঁর সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই পরিস্থিতিতে বাগুইআটি অঞ্চল থেকে সামনে আসছে বিস্ফোরক সব অভিযোগ। ছাড় পাচ্ছেন না পেশায় সঙ্গীতশিল্পী অদিতিও।

এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য বলে দিচ্ছে, এই বিধায়ক-কাউন্সিলর দম্পতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। এক মহিলা বলছেন, “আমাদের পারিবারিক ঝামেলা হয়েছিল। ওটা নিয়েও ওরা টাকার গেম খেলেছিল। বলেছিল, টাকা দাও, মিটিয়ে দেব।” আর এক মহিলাকে প্রশ্ন করতেই বলে উঠলেন, “বাজে ছেলে। ও আর ওর বউ দুটোই অসভ্য। ওদের ফাঁসি হওয়া উচিৎ। কোনও ছাড় নেই।”

দেব-রাজনীতি আসলে কী?

বাগুইআটির অলি-গলিতে প্রায়শই দেখা যেত একটা চেনা পোস্টার। দেবরাজের ছবির সঙ্গে লেখা, ‘আমরা দেব-রাজনীতিতে বিশ্বাসী।’ কী এই দেব-রাজনীতি?

এক প্রোমোটারের সঙ্গে কথা বলতেই বোঝা গেল, টাকার খেলায় কতটা পারদর্শী ছিলেন দেবরাজ। ফ্ল্যাট তৈরি শুরু হলেই নাকি পৌঁছে যেতেন দেবরাজের এজেন্টরা। মাইকেল, সম্রাট বড়ুয়াদের মতো কাউন্সিলররাই নাকি ছিলেন দেবরাজের এজেন্ট। প্রোমোটার অভিজিৎ সাহা রায় বলেন, “আমি একটা ফ্ল্যাটের ঢালাই ফেলতে যেতেই কাজ আটকে দেওয়া হয়। বলা হয় ৪০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। আমি বললাম, দিতে পারব না। তারপর ৩০ লক্ষ টাকায় সেটলমেন্ট হয়।” শুধু প্রোমোটার নন, এলাকার এক বৃদ্ধ জানান, তাঁকে ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে ২৫ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল। এক অটোচালক বলছেন, “যে কাজ ২০ হাজার টাকায় হয়ে যায়, সেটার জন্য আমাদের কাছ থেকে ৪০-৪৫ হাজার টাকা নেওয়া হত। এই অতিরিক্ত ২০-২৫ হাজার টাকা যেত দেবরাজের কাছে।” প্রশ্ন উঠেছে, এটা তাহলে দেব-রাজনীতি?

দেবরাজ গ্রেফতার হলেও, অদিতি মুন্সির ক্ষেত্রে হাইকোর্টের রক্ষাকবচ রয়েছে। ৪ মাসের সন্তান থাকায় মানবিক কারণে তাঁকে শর্তসাপেক্ষে রক্ষাকবচ দিয়েছে আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *