৩,৬২০ দিনের অপেক্ষার পর বাবা-মাকে আমেরিকায় নিয়ে গেলেন ভারতীয় তরুণী - 24 Ghanta Bangla News
Home

৩,৬২০ দিনের অপেক্ষার পর বাবা-মাকে আমেরিকায় নিয়ে গেলেন ভারতীয় তরুণী

Spread the love

দীর্ঘ ৩,৬২০ দিনের অপেক্ষার পর নিজের উপার্জনের টাকায় বাবা-মাকে প্রথমবার আমেরিকায় নিয়ে গিয়ে আবেগঘন পোস্টে ভাইরাল অঙ্কিতা মিশ্র।

Inspiring Story: এক দশকেরও বেশি অপেক্ষার পর অবশেষে নিজের স্বপ্ন পূরণ করলেন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ অঙ্কিতা মিশ্র। ৩,৬২০ দিনেরও বেশি সময় পর তিনি নিজের খরচে বাবা-মাকে প্রথমবার আমেরিকায় নিয়ে যান। সেই আবেগঘন মুহূর্তের অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেই তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।

বর্তমানে সিয়াটলে সফটওয়্যার সংস্থা Atlassian-এ সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত অঙ্কিতা তাঁর LinkedIn পোস্টে জানান, আমেরিকায় পা রাখার পর থেকেই তিনি নিজেকে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—একদিন নিজের উপার্জনের টাকায় বাবা-মাকে আমেরিকা ঘুরিয়ে দেখাবেন।

স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল করোনা

অঙ্কিতা জানান, ২০১৯ সালে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই শুরু হয় করোনা মহামারি। আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় সেই স্বপ্ন দীর্ঘদিন থমকে যায়।

এরপর ২০২৪ সালে তাঁর বিয়ে-সহ জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামনে আসে। ফলে পরিকল্পনা আরও পিছিয়ে যায়।

তিনি লেখেন, “জীবন বারবার আমাদের অপেক্ষা করতে বাধ্য করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই দিনটা এসেই গেল।”

বাবা-মায়ের ত্যাগের কথা স্মরণ

আবেগঘন পোস্টে অঙ্কিতা তাঁর বাবা-মায়ের সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেছেন।

তিনি লেখেন, “আমার মা মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন। বাবা বহু বছর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। তিনি প্রতিটি টাকা সঞ্চয় করেছিলেন, যাতে একদিন তাঁর মেয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।”

অঙ্কিতার কথায়, “তাঁদের প্রতিটি ত্যাগের ফলেই আজ আমি বিমানবন্দরে ফুল আর ‘Welcome to America, Mom & Dad’ লেখা পোস্টার হাতে দাঁড়িয়ে তাঁদের স্বাগত জানাতে পেরেছি।”

‘এটাই অভিবাসী জীবনের আসল গল্প’

অঙ্কিতা বলেন, একজন অভিবাসীর সাফল্যের গল্প কখনওই সহজ বা সরল নয়।

তিনি লিখেছেন, “এই পথ ইটের পর ইট সাজিয়ে, একের পর এক ভিসার ধাপ পেরিয়ে তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত যখন বাবা-মাকে নিজের গড়ে তোলা জীবনের অংশ করতে পারেন, তখনই সেই সংগ্রামের প্রকৃত অর্থ বোঝা যায়।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

অঙ্কিতার পোস্ট বহু মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। অনেক অভিবাসী নিজেদের অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছেন।

একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এ বছর আমার স্নাতক সমাবর্তনে অংশ নিতে প্রথমবার আমেরিকায় এসেছিলেন আমার বাবা-মা। ঠিক তার আগেই আমি চাকরি হারিয়েছিলাম। তবুও সঞ্চিত অর্থ দিয়ে তাঁদের বিমান টিকিট, ভ্রমণ ও স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা করি।”

তিনি আরও লেখেন, “সেদিন বাবা-মায়ের মুখের হাসিই ছিল আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। সব সাফল্য বেতনের অঙ্কে মাপা যায় না, অনেক সময় তা বাবা-মায়ের গর্বিত হাসিতেই ধরা পড়ে।”

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *