একদিনের বৃষ্টিতেই ভেঙেছে সাঁকো, ফের ভুগছে ঘাটালবাসী - 24 Ghanta Bangla News
Home

একদিনের বৃষ্টিতেই ভেঙেছে সাঁকো, ফের ভুগছে ঘাটালবাসী

Spread the love

এই সময়, ঘাটাল: কোথাও ভেসে গিয়েছে সাঁকো, কোথাও আবার নদীর উপরে পঞ্চায়েতের তৈরি রাস্তা। মঙ্গলবার দুপুর থেকে এক নাগাড়ে বৃষ্টি হয় বুধবার দুপুর পর্যন্ত। এর জেরে ফের ভাসছে চন্দ্রকোণা ও ঘাটাল। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, যদি এই বৃষ্টিতেই এই অবস্থা হয়, তা হলে ভারী বৃষ্টিতে কী হবে।

বুধবার সকাল থেকে ভুগতে হয় ঘাটালবাসীকে। জলের তোড়ে রাস্তা ও সাঁকো ভাঙায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। বৃষ্টিতে ডুবেছে খাল, বিল। সেই জল বইছে রাজ্য সড়কের উপরে। এর জেরে ধীরগতিতে চলছে গাড়ি। ভারী বৃষ্টির জেরে জল বইছে চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের পিংলাস এলাকায় কালিকাপুর-কেশুরগেড়িয়া রাজ্যসড়কে। রাজ্যসড়কে জল পেরিয়ে যাতায়াত করছে যাত্রিবাহী বাস, পণ্যবাহী গাড়ি। জল ঠেলে হেঁটে যাচ্ছেন স্কুল–কলেজ পড়ুয়ারা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারী বৃষ্টি হলে কৃষি জমি, বেশ কিছু ক্যানেলের জল উপচে রাজ্যসড়কে চলে আসে। নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থা। মঙ্গলবার রাত থেকে রাজ্যসড়কে জল উঠতে শুরু করে। অন্য দিকে, চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের পাণ্ডুয়া এলাকায় বৃষ্টিতে ডুবেছে প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন চন্দ্রকোণার দু’টি ব্লকের বহু গ্রামের মানুষ। জানা গিয়েছে, ভারী বৃষ্টি বা বর্ষার মরশুমে এই এলাকার মাঠ নিচু হওয়ায় জলে ডুবে যায়। মাঠের জল নিকাশি ব্যবস্থা না থাকাকেই দুষছেন এলাকাবাসী। গ্রামীণ রাস্তা জলে ডুবে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন পাণ্ডুয়া, পাইকপাড়া ও কেলেমি–সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দা।

অন্য দিকে, ভারী বৃষ্টির জেরে চন্দ্রকোণায় কেঠিয়া নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়ে দেখা দিয়েছে বিপত্তি। যাতায়াতে সমস্যায় পড়েছেন ভগবন্তপুর-১ পঞ্চায়েতের নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। কেঠিয়া নদী পারাপারের জন্য গ্রামের বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছিলেন। নদীর জল বেড়ে সেই সাঁকো ভেঙে গিয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে এই সাঁকোটি রক্ষা করার জন্য জলে ভেসে আসা পানা সরানোর কাজে হাত লাগিয়ে ছিলেন বাসিন্দারা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পানার চাপে এ দিন সকালে সাঁকোটি ভেঙে যায়। ফলে নদী পারাপারে সমস্যায় পড়েছেন ধর্মপোতা, কৃষ্ণপুর–সহ প্রায় সাতটি গ্রামের বাসিন্দা। ধর্মপোতা গ্রামের বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে একটি নৌকার ব্যবস্থা করে পার হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা প্রশান্ত মণ্ডল বলেন, ‘এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। সবাই সব কিছু জানে। কিন্তু প্রশাসনের তরফে কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ে না। এ ভাবে কষ্ট করে আমাদের নদী পারাপার করতে হয়। নতুন সরকারের কাছে আবেদন এখানে স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা করা হোক।’ একই ছবি ওই পঞ্চায়েতের চাষিবাড় এলাকায়। মাস খানেক আগে পঞ্চায়েতের তরফে কেঠিয়া নদীতে একটি অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হয়। নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়ে সেই রাস্তাটি ভেঙে গিয়েছে। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চাষিবাড়, কৃষ্ণপুর, চৈতন্যপুর, পাঁচামী–সহ বহু গ্রামের। রাস্তা ভাঙায় স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে চৈতন্যপুর এলাকার পড়ুয়াদের। স্থানীয় বাসিন্দা আশিস হাইত বলেন, ‘আরও জল বাড়লে সমস্যা আরও বাড়বে। এখনও বর্ষা সে ভাবে শুরু হয়নি তাতেই এই অবস্থা, বর্ষার বৃষ্টি শুরু হলে কী হবে।’

পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আশরাফুল মল্লিক বলেন, ‘নদীর জলস্তর যদি আরও বাড়ে আমরা চেষ্টা করছি একটি নৌকার ব্যবস্থা করার। নৌকা ছাড়া আপাতত কোনও উপায় নেই।’ অতিবৃষ্টিতে জল বেড়েছে ঘাটালের ঝুমি নদীতেও। এ দিন ঘাটাল ব্লকের সুলতানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কমরা-বালিডাঙা এলাকায় ঝুমিতে থাকা একটি বাঁশের সাঁকো জলের তোড়ে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে গিয়েছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *