‘আমাদের নো ফার্স্ট ইউজ পলিসি নেই’, সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারতকে পরমাণু হামলার হুমকি বিলাওয়ালের
সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে দেওয়ায় ভারতকে ‘হাত কেটে নেব’ বলে হুমকি দিয়েছিলেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী মুসাদিক মালিক। সেই নিয়ে অবশ্য এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি নয়াদিল্লি। এর মধ্যেই সোমবার আরও এক ধাপ এগিয়ে ভারতে পারমাণবিক হামলার হুমকি দিলেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো। তিনি বলেন, ‘দেশের অস্তিত্বের উপরে আঘাত হানলে আমরা পরমাণু নীতিতে বদল আনতে পারি।’
এ দিন সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করে পাকিস্তান। সেখানে বিভিন্ন দেশের আইনজ্ঞ, জলসম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং বিদেশি প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছিলেন। চুক্তির আইনি ও কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সেই সেমিনারে যোগ দিয়েই বিলাওয়াল বলেন, ‘পরমাণু নীতিতে স্পষ্ট বলা আছে, দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া বা জলপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি জাতীয় অস্তিত্বের জন্য হুমকি।’ এর পরেই হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে এর জবাবে পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।’
এখানেই থামেননি বিলাওয়াল। ভারতের পরমাণু নীতির প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। নয়াদিল্লি ‘নো ফার্সট ইউজ’ পলিসি অনুসরণ করে। পাকিস্তান সেই নীতি মানে না। সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিলাওয়াল বলেন, ‘ভারতের মতো আমাদের কোনও পলিসি নেই। দেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন উঠলে আমাদের হাতে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের বিকল্প থাকবে।’ জলকে ‘চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সিন্ধু জলচুক্তিতে স্বাক্ষর করে ভারত ও পাকিস্তান। ঠিক হয়, রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর জল ভারত ব্যবহার করবে। আর সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর অধিকাংশ জল যাবে পাকিস্তানে। এই জলের প্রায় ৮০ শতাংশ তারা ব্যবহার করে কৃষিকাজে। কিন্তু পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর পরে কঠোর অবস্থান নেয় নয়াদিল্লি। চুক্তি ‘স্থগিত’ রাখার ঘোষণা করা হয়। এর পরেই ভারতকে যুদ্ধের হুমকি দিয়েছিলেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। কিন্তু লাভ হয়নি। বরং সময় যত এগিয়েছে ততই জলসঙ্কট তীব্রতর হচ্ছে পাকিস্তানে।