জাপানের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে নেইমার? নকআউটে বড় সিদ্ধান্ত আন্সেলোত্তির
জাপানের বিরুদ্ধে নকআউট ম্যাচে পুরোপুরি ফিট না থাকায় নেইমারকে প্রথম একাদশে না রাখার ইঙ্গিত ব্রাজিল শিবিরে। বদলি হিসেবে তাঁকে ব্যবহার করার পরিকল্পনাই এগিয়ে।
বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) নকআউট পর্বে আর ভুলের সুযোগ নেই। একটি ম্যাচ হারলেই শেষ হয়ে যাবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন। সেই কারণেই জাপানের মতো দ্রুতগতির ও শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাইছেন না ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি। দলের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় অবশ্য একটাই—নেইমার কি প্রথম একাদশে ফিরবেন, নাকি তাঁকে বেঞ্চ থেকেই শুরু করতে হবে?
স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর ফুটবলারদের শারীরিক ধকল কমাতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছিলেন আন্সেলোত্তি। প্রথম একাদশে থাকা আটজনকে বিশ্রাম দিয়ে জিমে রিকভারি সেশনে পাঠানো হয়। তবে ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রায়ান এবং ডগলাস সান্তোসকে মাঠে অনুশীলন করানো হয়েছিল। জাপানের বিরুদ্ধে শেষ প্রস্তুতির আগে অবশ্য পুরো দলকেই একসঙ্গে অনুশীলনে নামান ব্রাজিল কোচ। এরপর নিউ জার্সির বেস ক্যাম্প ছেড়ে দল পৌঁছে যায় হিউস্টনে, যেখানে রাউন্ড অব ৩২-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
নেইমার চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন ঠিকই, কিন্তু এখনও পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট নন বলে কোচিং স্টাফের কাছে রিপোর্ট এসেছে। দলের ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, টানা ৯০ মিনিট সর্বোচ্চ গতিতে খেলার মতো শারীরিক প্রস্তুতি এখনও তাঁর নেই। সেই কারণেই আন্সেলোত্তি প্রথম একাদশে তাঁকে রাখার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হতে পারে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলারকে।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে আবেগের বদলে বাস্তবতাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন ইতালীয় কোচ। তিনি জানেন, জাপানের বিরুদ্ধে সামান্য ভুলও বড় মূল্য চুকিয়ে দিতে হতে পারে। তাই নাম বা খ্যাতির চেয়ে বর্তমান ফিটনেস এবং ম্যাচ পরিস্থিতিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি।
এরই মধ্যে ব্রাজিল শিবিরে একটি ছোট বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। স্কটল্যান্ড ম্যাচে নেইমারকে মাঠে নামানোর আগে সহকারী কোচ ডেভিড আন্সেলোত্তির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেখানে তাঁকে মাথা নাড়তে দেখা যায়। অনেক নেইমার সমর্থক সেই ভিডিও দেখে মনে করেন, ডেভিড নাকি নেইমারকে খেলানোর সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে।
পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই বিষয়টি পরিষ্কার করেন ডেভিড আন্সেলোত্তি। তিনি জানান, সেই সময় তিনি নেইমারকে নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দিচ্ছিলেন না। বরং দলের আরেক সহকারী কোচ পল ক্লেমেন্টের সঙ্গে অন্য একটি কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তাঁর মাথা নাড়ানোর সঙ্গে নেইমারের মাঠে নামার সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্কই ছিল না। এই ব্যাখ্যার পর বিতর্ক অনেকটাই থেমে যায় এবং ড্রেসিংরুমের পরিবেশও স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।
অন্যদিকে ব্রাজিলের প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াইও এখন তুঙ্গে। বাঁ দিকের উইংয়ে ভিনিসিয়াস জুনিয়র কার্যত নিশ্চিত পছন্দ। মাঝমাঠ এবং আক্রমণভাগেও একাধিক ফুটবলার ভালো ছন্দে রয়েছেন। ফলে পুরোপুরি ম্যাচ ফিট না হওয়া নেইমারের জন্য শুরু থেকেই জায়গা করে দেওয়া সহজ নয়।
সব মিলিয়ে জাপানের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের কৌশল অনেকটাই স্পষ্ট। শুরুতে সবচেয়ে ফিট ও ছন্দে থাকা ফুটবলারদের নিয়েই দল নামাতে চান কার্লো আন্সেলোত্তি। তবে ম্যাচের প্রয়োজনে দ্বিতীয়ার্ধে নেইমারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা প্রবল। অভিজ্ঞ এই তারকার উপস্থিতি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলেই বিশ্বাস ব্রাজিল শিবিরের। এখন দেখার, নকআউটের কঠিন পরীক্ষায় আন্সেলোত্তির এই পরিকল্পনা কতটা সফল হয়।