বর্ষায় ভাইরাল সংক্রমণ হতে পারে পোষ্যেরও, কী ভাবে তাকে সুস্থ রাখবেন?
বর্ষাকাল যেমন মানুষের জন্য নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, তেমনই পোষ্য কুকুর ও বিড়ালের ক্ষেত্রেও এই সময়টি বেশ সংবেদনশীল। বৃষ্টি, কাদা, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং অপরিষ্কার পরিবেশের কারণে ভাইরাল, ব্যাকটেরিয়াল ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব পোষ্য নিয়মিত বাইরে যায়, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও জরুরি। কী করবেন?
নিয়মিত পরিচ্ছন্ন রাখুন
বৃষ্টিতে ভিজে বাইরে থেকে ফিরলে পোষ্যের পা, পেটের নীচের অংশ ও লোম ভালো ভাবে পরিষ্কার করে শুকিয়ে দিন। দীর্ঘক্ষণ ভেজা লোমে থাকলে ত্বকে ফাঙ্গাল সংক্রমণ, র্যাশ বা চুলকানির সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রয়োজন হলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাইল্ড পেট শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
টিকাকরণ ও কৃমিনাশক সময় মতো করান
বর্ষাকালে ভাইরাল রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই কুকুরের ক্ষেত্রে ডিস্টেম্পার, পারভোভাইরাস বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন এবং বিড়ালের ক্ষেত্রে নির্ধারিত টিকাগুলি সময় মতো দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ এবং ফ্লি-টিক প্রতিরোধের ব্যবস্থাও চালিয়ে যেতে হবে।
খাবারে রাখুন পুষ্টির ভারসাম্য
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতে পোষ্যের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ থাকা জরুরি। সবসময় পরিষ্কার ও টাটকা খাবার দিন। অনেকক্ষণ বাইরে রাখা খাবার বা দূষিত জল খেতে দেবেন না। পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ জল পান করছে কি না, সেদিকেও নজর রাখুন।
বাসস্থান রাখুন শুকনো ও পরিষ্কার
পোষ্যের বিছানা, কম্বল ও খেলনা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। শোওয়ার জায়গা যেন স্যাঁতস্যাঁতে না থাকে। আর্দ্র পরিবেশে জীবাণু, ফাঙ্গাস ও পরজীবীর বংশবিস্তার দ্রুত হয়। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে।
অসুস্থতার লক্ষণ দেখলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
বারবার হাঁচি, কাশি, জ্বর, বমি, ডায়ারিয়া, খাবারে অনীহা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, চোখ বা নাক দিয়ে স্রাব বের হওয়া কিংবা আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন—এসব লক্ষণকে কখনও অবহেলা করবেন না। দ্রুত পশুচিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অনেক গুরুতর রোগের চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়।