ফুল বদলাবে না তো দাগিরা! পদ্মের নিচুতলার কর্মীরা ধন্দে - 24 Ghanta Bangla News
Home

ফুল বদলাবে না তো দাগিরা! পদ্মের নিচুতলার কর্মীরা ধন্দে

Spread the love

এই সময়: বাংলার মসনদে এখন বিজেপি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী শিবিরে থাকার অপমান–লাঞ্ছনা আর ভোগ করতে হচ্ছে না বিজেপির নিচুতলার নেতা–কর্মীদের। রাস্তাঘাটে, পাড়ার ক্লাবে জুটছে বাড়তি খাতিরও। যতদূর চোখ যায় শুধুই বিজেপির ঝান্ডা। তবু শান্তি নেই। ‘নিজ ভূমে পরবাসী’ হওয়ার ভয় থেকে রেহাই নেই। কার্যত বিরোধী শূন্য বাং‍লাতে বসেও বিজেপি কর্মীদের একাংশের দিন কাটছে গভীর উৎকণ্ঠায়। এই বুঝি অন্য দল থেকে নেতারা এসে তাঁদের এতদিনের তি‍ল তিল করে সাজানো পদ্ম–সংসার ভেঙে তছনছ করে দিয়ে গেল!

তৃণমূলে বিদ্রোহ যত বাড়ছে, ততই উৎকণ্ঠা বাড়ছে পদ্ম ব্রিগেডের নিচুতলায়। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়ের মতো সাংসদরা সম্প্রতি এনডিএতে সামিল হয়েছেন। তৃণমূলের টিকিটে লোকসভা ভোটে জিতে আসা ২০ জন সাংসদ এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়ে যে আসন্ন লোকসভা অধিবেশ‍নে বিজেপিকে সঙ্গত করবেন, তা স্পষ্ট। কার্যত একই অবস্থা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও। এখানেও স্পিকার যাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, সেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলবিরোধী কাজের জন্য তৃণমূ‍ল থেকে বহিষ্কারও করেছে‍ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ব্যাখ্যা, খাতায়কলমে বিরোধী হলেও এই বিরোধীরা আসলে শাসক বিজেপির বি–টিম হিসেবেই কাজ করবে।

মোদ্দা কথা হলো, ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর বঙ্গ এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সেই সমীকরণের অভিঘাত নিয়েই আতঙ্কিত জেলায় জেলায় বিজেপির নিচুতলার নেতা–কর্মীরা। উত্তর কলকাতার এক বিজেপি নেতার কথায়, ‘সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই। তাঁর অনুগামীদের নানারকম অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আমাদের দলের বহু কর্মীকে জেলও খাটতে হয়েছে। এখন তিনিই এনডিএ–তে। ভবিষ্যতে তিনি আমাদের এ‍লাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে প্রচার করবেন!’ তাঁর আশঙ্কা, ‘ধীরে ধীরে হয়তো এমন একটা সময় আসবে, যখন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর কলকাতায় এনডিএ–র মুখ হয়ে উঠবেন, আর তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করা বিজেপি কর্মীরা ‍‍নিজ ভূমে পরবাসী হবেন।’

একই কথা প্রযোজ্য বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ক্ষেত্রে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের নিরাপত্তা পাচ্ছেন। তাঁর মুখে এখন শুধু তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা এবং নরেন্দ্র মোদীদের প্রশংসা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাড়িতে কাকলি সম্প্রতি দফায় দফায় বৈঠক করার পরে বারাসতে সক্রিয় হচ্ছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলররা, বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরে যাঁদের অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন।

তবে কি এই তৃণমূল নেতারা গেরুয়া জমানাতেও স্বমহিমায় থাকবেন? তাঁরাই নিয়ন্ত্রণ করবেন স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক ক্ষমতার বিন্যাস? যে মার্কামারা তৃণমূল নেতারা এতদিন বিভিন্ন এলাকায় সিন্ডিকেটরাজ চালিয়ে এসেছেন, পদ্ম জমানাতেও তাঁরা বহাল তবিয়তে থাকবেন?

এই সব প্রশ্নের সদুত্তর পেতেই জেলা আর মণ্ডলস্তরের নেতারা বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দরজায় কড়া নাড়ছেন। কারণ, বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পরে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, ‘বিজেপির দরজা এখন বন্ধ। কোনও অবস্থাতেই বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না।’ কিন্তু তৃণমূলের টিকিটে জেতা বিদ্রোহী সাংসদের হাত ধরে তাঁদের ঘনিষ্ঠ জোড়ালের দাগিরা বিজেপিতে ভিড়ে যাবেন না তো? শেষ পর্যন্ত বিজেপির তৃণমূলীকরণ হওয়া ঠেকাতে পারবেন তো শমীক? প্রশ্নগুলি ভাসছে বঙ্গ–বিজেপির অন্দরে।

সূত্রের খবর, রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের বড় অংশই মনে করছেন, নিচুতলা থেকে উঠে আসা এই প্রশ্নগুলি যথাযথ। তাঁরা চাইছেন, বিদ্রোহীরা বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে তৃণমূলকে ভাঙুন। কিন্তু এই ‘ভাঙাগড়া’র খেলার রিমোট কন্ট্রোল যে রাজ্য বিজেপির হাতে নেই, সে বার্তাই পার্টির নিচুতলার নেতা–কর্মীদের দিচ্ছেন তাঁরা। রাজ্য বিজেপির এক পদাধিকারীর কথায়, ‘বিজেপি এখন বাংলার ক্ষমতায়। সংগঠন অটোমেটিক তৈরি হবে। তার জন্য তৃণমূল ভাঙানোর প্রয়োজন নেই। তৃণমূলে বিদ্রোহী ব্লকের কারণে সংসদে এনডিএ এক ধাক্কায় অনেকটা শক্তিশালী হলো, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তার জন্য বাংলার দাগি তৃণমূল নেতারা আবার দাদাগিরি শুরু করলে বিপদের শেষ থাকবে না। এঁদের উপরে বিরক্ত হয়েই তো সাধারণ মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *