কর্ণাটকে 'হিট', ২ রাজ্যে 'ফ্লপ'! ৩ রাজ্যের ভোটে কংগ্রেসের অদ্ভুত বৈপরীত্য - 24 Ghanta Bangla News
Home

কর্ণাটকে ‘হিট’, ২ রাজ্যে ‘ফ্লপ’! ৩ রাজ্যের ভোটে কংগ্রেসের অদ্ভুত বৈপরীত্য

Spread the love

নয়াদিল্লি: আসন্ন বাদল অধিবেশনের আগে সংসদে নিজেদের সংখ্যা বাড়াতে বিজেপি যখন বিরোধী দলের বিধায়ক ভাঙানো নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে, ঠিক সেই সময়েই নিজেদের অন্দরের কোন্দল…

নয়াদিল্লি: আসন্ন বাদল অধিবেশনের আগে সংসদে নিজেদের সংখ্যা বাড়াতে বিজেপি যখন বিরোধী দলের বিধায়ক ভাঙানো নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে, ঠিক সেই সময়েই নিজেদের অন্দরের কোন্দল এবং চরম অব্যবস্থাপনার জেরে অস্বস্তিতে পড়ল কংগ্রেস। (Congress Rajya Sabha Election)

খাতায়-কলমে প্রয়োজনীয় সংখ্যা থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যসভা আসন হাতছাড়া হয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন এই দলের। যা কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতা, জোট পরিচালনা এবং ফ্লোর ম্যানেজমেন্টের চরম ব্যর্থতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হল, যেদিন ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেস নিজেদের বিধায়কদের ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক সেই দিনেই কর্ণাটকের বিধান পরিষদ (MLC) নির্বাচনে ম্যাজিক দেখিয়েছে তারা। ১৩৫ জন বিধায়কের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও সেখানে কংগ্রেস প্রার্থীরা পেয়েছে ১৫১টি ভোট!

একই দিনে একই দলের ভোট ম্যানেজমেন্টের এই অদ্ভুত বৈপরীত্য ঘিরেই এখন জাতীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

কংগ্রেসের রাজ্যসভা প্রার্থী প্রণব ঝায়ের জয় নিশ্চিত করতে ভূপেশ বাঘেল এবং অজয় শর্মাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠিয়েছিল হাইকমান্ড। কিন্তু অভিযোগ, নির্বাচন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাঘেল রাঁচিতে ছিলেনই না। অন্যদিকে, দলের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি বেণুগোপালও অজ্ঞাত কারণে এই নির্বাচন নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাননি।

দলীয় সূত্রের খবর, আরজেডি (RJD)-র ৪ জন এবং সিপিআই (এমএল)-এর ২ জন বিধায়ক নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানির পক্ষে ক্রস-ভোটিং করেছেন। কংগ্রেস হাইকমান্ড তৎপর হলে আরজেডি-র ক্ষোভ হয়তো প্রশমিত করা যেত।

নির্বাচনের আগে নির্দল প্রার্থীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সাক্ষাৎ জোটের অন্দরে ভুল রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছিল, যা শেষমেশ কংগ্রেস প্রার্থীর হারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মধ্যপ্রদেশে অন্তর্ঘাত নাকি গাফিলতি?

মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস নেত্রী মীনাক্ষী নটরাজনের রাজ্যসভায় যাওয়ার স্বপ্ন ভোটগ্রহণের আগেই ভেঙে যায়। কারণ, হলফনামায় অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ার কারণে গত ৯ জুন রিটার্নিং অফিসার তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন। রাহুল গান্ধীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মীনাক্ষীর এই ভুলে স্বভাবতই ক্ষুব্ধ শীর্ষ নেতৃত্ব।

দলের একাংশের মতে, তিনবারের লোকসভা ভোটে লড়া একজন নেত্রীর মনোনয়ন প্রযুক্তিগত কারণে বাতিল হওয়াটা চরম গাফিলতি। তবে অন্য একটি অংশের দাবি, এর নেপথ্যে দলের অন্দরের অন্তর্ঘাত রয়েছে। কারণ প্রার্থী বাছাইয়ের সময় কমল নাথ, দিগ্বিজয় সিং, জিতু পাটোয়ারির মতো একাধিক প্রবীণ রাজ্য নেতাকে উপেক্ষা করেছিল হাইকমান্ড।

কর্ণাটকে ম্যাজিক কীভাবে?

ঝাড়খণ্ড ও মধ্যপ্রদেশে যখন কংগ্রেসের মুখ পুড়ছে, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও ডিকে শিবকুমারের নেতৃত্বে দলের পাঁচ এমএলসি (MLC) প্রার্থীই অনায়াসে জয়লাভ করেন। কংগ্রেসের ১৩৫ জন বিধায়ক থাকলেও তারা ১৫১টি ভোট পেয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপি প্রত্যাশিত ৬৪টি ভোটের বদলে মাত্র ৫৭টি এবং জেডি(এস) ১৮টির বদলে ১৪টি ভোট পেয়েছে। অর্থাৎ, বিজেপি এবং জেডি(এস) শিবিরের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে সেখান থেকেও নিজেদের পক্ষে ভোট টেনে এনেছেন কংগ্রেসের চাণক্যরা।

কর্ণাটকের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক নেতৃত্ব এবং নিখুঁত রাজনৈতিক কৌশল থাকলে যেকোনো বাধা পার হওয়া সম্ভব। তবে ঝাড়খণ্ড ও মধ্যপ্রদেশের জোড়া ধাক্কা কংগ্রেসের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। ২০২৭ ও ২০২৯ সালের মেগা নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে বিজেপিকে নিশানা করার পাশাপাশি নিজেদের ঘর ও জোট সামলানোর দিকেও কংগ্রেসকে যে আরও কড়া নজর দিতে হবে, এই ফল তারই প্রমাণ।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *