ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জোর অমিত শাহর
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ২৬তম অল ইন্ডিয়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট কনফারেন্সে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) দেশের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর…
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ২৬তম অল ইন্ডিয়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট কনফারেন্সে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) দেশের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর জোর দিলেন। তিনি বলেন, অপরাধ দমনে শুধুমাত্র প্রচলিত পদ্ধতির উপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ডিজিটাল টুল এবং ডাটাবেসভিত্তিক সিস্টেমকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন NAFIS (National Automated Fingerprint Identification System)।
কনফারেন্সে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকেও প্রযুক্তিগতভাবে আরও আধুনিক হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি এবং কেন্দ্রীয় ডাটাবেস ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্তকরণ অনেক দ্রুত ও নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া তদন্তের সময় কমিয়ে আনার পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থাকেও সহায়তা করছে।
তিনি আরও বলেন, NAFIS-এর মতো প্ল্যাটফর্ম অপরাধীদের তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বিভাগকে একত্রে যুক্ত করে একটি সমন্বিত ডিজিটাল নেটওয়ার্ক তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েই এই ধরনের প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। এর ফলে একজন অপরাধী এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পালিয়ে গেলেও তাকে শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে।
অমিত শাহ বলেন, “অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার এখন আর বিকল্প নয়, বরং প্রয়োজনীয়তা। ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক টুল ব্যবহার করে অপরাধ তদন্তকে আরও বৈজ্ঞানিক ও তথ্যভিত্তিক করা সম্ভব।” তিনি পুলিশ বাহিনীকে আরও বেশি করে ডিজিটাল প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে তারা নতুন প্রযুক্তিকে দক্ষভাবে ব্যবহার করতে পারে।
কনফারেন্সে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা জানান, ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধ তদন্তে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, তবে আধুনিক সফটওয়্যার ও কেন্দ্রীয় ডাটাবেসের সংযোগ এই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। NAFIS-এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি রাজ্যে সংগৃহীত ফিঙ্গারপ্রিন্ট তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষিত হচ্ছে, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে অনেক দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধ, আর্থিক প্রতারণা এবং আন্তঃরাজ্য অপরাধের মতো নতুন চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র মানবসম্পদের উপর নির্ভর করে অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডাটা অ্যানালিটিক্স এবং বায়োমেট্রিক সিস্টেমের ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে।