নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত? স্বস্তির নিঃশ্বাস ব্রাজিল শিবিরে - 24 Ghanta Bangla News
Home

নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত? স্বস্তির নিঃশ্বাস ব্রাজিল শিবিরে

Spread the love

চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার। হাইতির বিরুদ্ধে মাঠে নামা অনিশ্চিত হলেও তাঁর প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত স্বস্তি বাড়িয়েছে ব্রাজিল শিবিরে।

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) মতো বড় মঞ্চে ব্রাজিল মানেই প্রত্যাশার পাহাড়। আর সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রে যদি থাকেন নেইমার, তাহলে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থাকাটাই স্বাভাবিক। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চোটের কারণে দলের বাইরে থাকা ব্রাজিলের এই তারকা ফুটবলারকে ঘিরে সমর্থকদের মনে ছিল একরাশ চিন্তা। তবে বুধবার নিউ জার্সিতে ব্রাজিল দলের অনুশীলন থেকে যে ছবি সামনে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে সেলেকাও সমর্থকদের মুখে হাসি ফিরিয়ে দিয়েছে।

হাইতির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিল দল যখন অনুশীলনে নামে, তখন সবার নজর ছিল এক ব্যক্তির দিকে—নেইমার। অনুশীলনের শুরুতে দলের বাকি ফুটবলারদের সঙ্গে তিনিও ওয়ার্ম-আপে অংশ নেন। এরপর কিছু সময়ের জন্য মূল দলের সঙ্গেই বল নিয়ে অনুশীলন করতে দেখা যায় তাঁকে। দীর্ঘদিন পর সতীর্থদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠে নামার এই দৃশ্য স্বাভাবিকভাবেই দলের পরিবেশে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে।

কয়েকদিন আগেও পরিস্থিতি এতটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। চোটের অবস্থা খতিয়ে দেখতে নিয়মিত মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং স্ক্যান করাতে হচ্ছিল তাঁকে। মঙ্গলবার প্রথমবার মাঠে ফিরলেও তখন শুধুমাত্র হালকা দৌড় এবং ফিটনেস অনুশীলনেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। কিন্তু বুধবারের সেশনে দেখা গেল আরও ইতিবাচক ছবি। দ্রুত গতি পরিবর্তন, হঠাৎ থেমে যাওয়া কিংবা দিক বদলের মতো কিছু মুভমেন্টও করতে দেখা যায় তাঁকে। যা স্পষ্ট করে দেয়, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় তিনি ধীরে ধীরে এগোচ্ছেন।

শুধু মাঠেই নয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জিম এবং রিহ্যাব সেন্টারেও কঠোর পরিশ্রম করেছেন নেইমার। চোট সারানোর পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেছেন তিনি। এখন মূল লক্ষ্য তাঁর ম্যাচ ফিটনেস ফিরিয়ে আনা। সেই কারণেই চিকিৎসক এবং ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে তাঁকে অনুশীলনের মাত্রা বাড়ানো হচ্ছে।

তবে ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য একটি বাস্তবতাও রয়েছে। হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচে নেইমারের মাঠে নামার সম্ভাবনা এখনও অত্যন্ত কম। অনুশীলনের প্রথম অংশে দলের সঙ্গে থাকলেও পরে তাঁকে আলাদা করে ব্যক্তিগত ফিটনেস কর্মসূচিতে ফিরে যেতে দেখা যায়। ফলে ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে দ্রুত মাঠে নামানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কোচ কার্লো আনচেলত্তিও তাঁর তারকা ফুটবলারকে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই আগ্রহী।

অন্যদিকে মরক্কোর বিরুদ্ধে হতাশাজনক ড্রয়ের পর ব্রাজিলের প্রথম একাদশে কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। হাইতির বিরুদ্ধে দল ৪-২-৪ অথবা ৪-৪-২ ছকে খেলতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। বৃহস্পতিবারের শেষ অনুশীলনের পরই চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ করবেন আনচেলত্তি। তবে কৌশল বা দল নির্বাচন নিয়ে যতই আলোচনা হোক, বুধবারের অনুশীলনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে নেইমারের উপস্থিতি।

কারণ ফুটবলে অনেক সময় শুধু মাঠে নামাই সব নয়। দলের সবচেয়ে বড় তারকা যখন সতীর্থদের পাশে থাকেন, তখন তা মানসিক শক্তিরও উৎস হয়ে ওঠে। নেইমার হয়তো এখনও ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত নন, কিন্তু তাঁর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠার খবর ব্রাজিল শিবিরে নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে। বিশ্বকাপের দীর্ঘ যাত্রাপথে এই আত্মবিশ্বাসই হতে পারে ব্রাজিলের অন্যতম বড় শক্তি।

হাইতির বিরুদ্ধে তিনি খেলবেন কি না, তার উত্তর সময় দেবে। কিন্তু বুধবারের অনুশীলন একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে—নেইমারের প্রত্যাবর্তন আর খুব দূরে নয়। আর সেই সম্ভাবনাই এখন ব্রাজিল সমর্থকদের সবচেয়ে বড় আনন্দের কারণ।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *