৩৯ ছুঁয়েও বিশ্বকাপে অদম্য লিও মেসি, সাফল্যের রহস্যে উঠে এল নাদালের নাম
রেকর্ড ছুঁয়েও মাটিতেই পা মেসির
এই হ্যাটট্রিকের ফলে বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকায় জার্মানির (Germany) কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজ়ের (Miroslav Klose) পাশে উঠে এসেছেন মেসি। কিন্তু এত বড় সাফল্যের পরও তিনি রেকর্ড নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাতে নারাজ। মেসি বলেন, ‘আমি গোল বা রেকর্ড নিয়ে খুব একটা ভাবি না। ক্লোজ়ের পাশে নিজের নাম দেখতে পারা অবশ্যই সম্মানের। রোনাল্দোও (Ronaldo) রয়েছেন, কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe) আজ দু’টি গোল করেছে। কিন্তু এগুলো শেষ পর্যন্ত পরিসংখ্যানই। রোনাল্দো আমার দেখা অন্যতম সেরা ফুটবলার, অথচ ও কিন্তু সবার উপরে নেই। তাই এ সব নিয়ে না ভেবে আমি শুধু নিজের কাজটা করে যেতে চাই। ম্যাচের গোলগুলো এখনও দেখিনি। পরিবারের সদস্য এবং সতীর্থদের সঙ্গে সেই মুহূর্তগুলো উপভোগ করছিলাম। পরে সময় নিয়ে দেখব।’
৩-০ ব্যবধানের জয় দেখলে ম্যাচটিকে সহজ মনে হতে পারে। কিন্তু মেসির মতে, বাস্তবে লড়াইটা অনেক কঠিন ছিল। তিনি বলেন, ‘আলজেরিয়ার দলে বেশ কিছু ভালো ফুটবলার রয়েছে। ওরা খুব দ্রুত খেলছিল এবং আমাদের চাপে রাখার চেষ্টা করছিল। আমরা খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বিশেষ করে প্রথমার্ধে বলের দখল ধরে রাখতে বেশ সমস্যা হয়েছে। এই বিশ্বকাপে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, সব দলই দারুণ প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। এখানে কোনও দল কাউকে বিনা লড়াইয়ে কিছু ছেড়ে দেয় না।’
ব্যর্থতার যন্ত্রণা পেরিয়ে সাফল্যের আনন্দ
জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি মনে করতে গিয়ে পুরনো কষ্টের কথাও বলেছেন মেসি। এক সময় টানা তিনটি ফাইনালে হারতে হয়েছিল আর্জেন্তিনাকে। সেই ব্যর্থতার কারণে বহু সমালোচনা এবং হতাশার মুখোমুখি হতে হয়েছিল গোটা দলকে। মেসি বলেন, ‘জাতীয় দলের সঙ্গে অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছি, আবার অনেক কঠিন সময়ও দেখেছি। সত্যি বলতে, খারাপ সময়ের সংখ্যাও কম ছিল না। তবে পরে সব কিছু বদলে যায়। এখন জাতীয় দলের সঙ্গে সময়টা অন্য ভাবে উপভোগ করতে পারি। আমরা এমন একটি দেশ, যেখানে ফলাফলই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। টানা তিনটি ফাইনাল হারার কারণে সেই দলটাকে অনেকেই শুধুই ব্যর্থতার চোখে দেখত। কিন্তু বিশ্বকাপ এবং দু’টি কোপা আমেরিকা জেতার পর মানুষ আমাদের সাফল্যগুলোকেও যথাযথ মর্যাদা দিতে শুরু করেছে।’