‘ম্যাম আমাকে বাঁচান’, ছাত্রীর ফোনে বিয়ে রুখলেন শিক্ষকরা
এই সময়, বর্ধমান: আর পাঁচটা দিনের মতোই স্টাফ রুমে বসে ছিলেন মুনমুন ঘোষ। হঠাৎ একটি অচেনা নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে। ফোনের অন্যপ্রান্তে তাঁরই স্কুলের এক ছাত্রী। অঝোরে কাঁদছে আর তার প্রিয় দিদিমণিকে বলছে, ‘ম্যাম আমি আরও পড়তে চাই। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। আমাকে বাঁচান। আমি বিয়ে করব না। মা–বাবা জোর করে বিয়ে ঠিক করেছে। আমাকে যে করে হোক বাঁচান।’
কী করবেন ভেবে উঠতে না–পেরে মুনমুন ওই ছাত্রীকে শান্ত হতে বলেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোমনাথ সিনহার কাছে গিয়ে গোটা বিষয়টি জানান। কাল বিলম্ব না–করে প্রধান শিক্ষক জামালপুর ব্লকের বিডিও পার্থসারথি দে, জামালপুর থানার ওসি, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ও সিডিপিও–কে ঘটনার কথা জানান। প্রশাসনের নির্দেশেই তিনি যোগাযোগ করেন বর্ধমান চাইল্ড লাইনের সঙ্গে। এর পরে স্কুলের বেশ কিছু শিক্ষক–শিক্ষিকাকে নিয়ে জামালপুর থানা এলাকার ওই আদিবাসী মেয়েটির বাড়িতে পৌঁছন সকলে।
মেয়ের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকেই তাকে স্কুলে যেতে দেওয়া হয়নি এবং এলাকার লোকের সঙ্গেও কোনও আলোচনা করা হয়নি। তাই শিক্ষকরা কী ভাবে সব জেনে গেলেন, তা দেখে অবাক হয়ে যান পরিবারের লোকেরা। প্রথমে অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও, পরে তাঁরা স্বীকার করেন যে ১৫ তারিখেই বিয়ে। এর পরে ১৮ বছরের আগে বিয়ে দিলে কী ক্ষতি হতে পারে এবং পড়াশোনা করলে সরকারি ভাবে কী কী সুবিধা মিলবে, তা বুঝিয়ে বলার পরে মেয়েটির পরিবার লিখিত ভাবে প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা এখন বিয়ে দেবে না।
এই সাফল্যে আনন্দিত প্রধান শিক্ষক সোমনাথ সিনহা বলেন, ‘আমাদের শিক্ষিকা মুনমুন ঘোষ সবার সঙ্গে বন্ধুর মতো মেলামেশা করেন বলেই মেয়েটি ওকে সাহস করে বলতে পেরেছে। ওর ভালো হোক। ভালো করে পড়াশোনা শিখে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে ওর স্বপ্ন সফল করুক আগামী দিনে।’