হানিমুনে গিয়ে মুসৌরির হোম স্টে-তে মহিলার রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ
মুসৌরির একটি হোম স্টে থেকে উদ্ধার হলো এক মহিলার দেহ। হানিমুনে গিয়েছিলেন কাটাতেওই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। যে ঘরে তিনি এবং তাঁর স্বামী ছিলেন সেখানেই পাওয়া গিয়েছে রক্তের দাগ। ওই ঘর থেকেই উদ্ধার হয়েছে মদের বোতল এবং অন্যান্য সামগ্রীও। এই নিয়ে বাড়ছে রহস্য। পুরো ঘটনার তদন্ত করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম পি. রাধা গায়ত্রী (২৭)। গুরুগ্রামে একটি আইটি (information technology) সংস্থায় কর্মরত ছিলেন তিনি। তাঁর স্বামী সৌম্য শ্রীচরণ (Soumya Sricharan) পুনের একটি আইটি সংস্থায় কাজ করেন। প্রায় ৮ মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়।
জানা গিয়েছে, স্ত্রীকে নিয়ে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন সৌম্য। দিল্লি থেকে ঋষিকেশ ঘুরে গত ১৪ জুন (রবিবার) রাতে তাঁরা এসে ওঠেন মুসৌরি-ধনৌলটি রোডের (Mussoorie-Dhanaulti Road) একটি হোম-স্টেতে। সোমবার, টিপরিধর (Tipridhar) এলাকার ওই ওই হোমস্টে থেকেই সন্দেহজনক অবস্থায় উদ্ধার হয় রাধা দেহ।
জানা গিয়েছে, রাধা এবং সৌম্য দু’জনেই বিশাখাপত্তনম এলাকার বাসিন্দা। গত বছরের ৮ নভেম্বর বিয়ে হয় তাঁদের। এত দিন পরে ছুটি পেয়ে উত্তরাখণ্ড বেড়াতে গিয়েছিলেন তাঁরা।
পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, যে ঘরে তাঁরা ছিলেন সেখান থেকে রক্তের দাগ পাওয়া গিয়েছে। ওই দাগ মিলেছে বিছানার চাদরেও। এই নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে জেরা করা হয়েছে সৌম্যকে। জিজ্ঞাসাবাদে সৌম্য পুলিশকে জানিয়েছেন যে রবিবার রাতে ওই হোম-স্টেতে ওঠার পরে মদ্যপান করার পরে রাত প্রায় সাড়ে ৩টে পর্যন্ত নাগাদ ঘুমিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু পরে গায়ত্রীর গোঙানির আওয়াজে ঘুম ভাঙে তাঁর। সৌম্যর দাবি, ঘরের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন গায়ত্রী। তাঁর মুখ ও নাক দিয়ে রক্ত রেব হতেও দেখেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ওই হোমে-স্টে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। বিষয়টি জানানো হয় পুলিশ এবং অ্যাম্বুল্যান্স-কেও। স্বাস্থ্যদপ্তরের লোকজন এসে গায়ত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই গায়ত্রীর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। সেই সঙ্গেই ওই ঘরে থাকা রক্তের নুমনা সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছেন ফরেন্সিক দলের সদস্যরা। পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে হোম-স্টের কর্মীদেরকেও।