বেঁধে দেওয়া দর ১২০০, চাওয়া হচ্ছে ছ’হাজার!
এই সময়, বর্ধমান: বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন বালি খাদানে বালির আকাশছোঁয়া দাম নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। ভোট মেটার পরে সরকারের নির্দেশে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর ট্র্যাক্টর প্রতি বালির দাম ১২০০ টাকা বেঁধে দেয়। কিন্তু অভিযোগ, এই সরকারি দরকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বালি খাদানের ইজারাদাররা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার উপভোক্তাদের বালি দিচ্ছেন না।
সোমবার খণ্ডঘোষের মেটেডাঙা এলাকায় এমনই বেশ কিছু উপভোক্তা বালি না–পেয়ে অন্যান্য বালি ভর্তি লরি আটকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বালি খাদানের সামনে এই বিক্ষোভে শামিল হন ট্র্যাক্টর মালিক, চালক এবং সরকারি আবাস যোজনার উপভোক্তারাও। বালির দাম কমানোর দাবিতে বিক্ষোভকারীরা নদীঘাট সংলগ্ন এলাকায় বহু বালি ভর্তি লরি আটকে রেখে প্রতিবাদ জানান। পরে ব্লক ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট অভিযোগ, খণ্ডঘোষ ব্লকের বিভিন্ন বালি খাদানে দীর্ঘদিন ধরেই ট্র্যাক্টরে বালি লোড দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বাড়ি নির্মাণের কাজে যুক্ত বহু পরিবার চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের আবাস যোজনা ও অন্যান্য সরকারি আবাসন প্রকল্পের উপভোক্তারা নির্ধারিত খরচের মধ্যে বাড়ি নির্মাণ করতে পারছেন না। আন্দোলনকারীদের দাবি, বর্তমানে খণ্ডঘোষ ব্লকে এক ট্রলি অর্থাৎ এক ট্র্যাক্টর বালির দাম সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে ছ’হাজার টাকার মধ্যে পৌঁছে গিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।’
তবে এই বেনিয়ম নিয়ে প্রশাসনের দাবি, তারা বিষয়টি আগে জানত না। বিএলআরও অফিসের এক আধিকারিক বলেন, ‘বালি খাদান থেকে সরকারি দর মেনে বালি দেওয়া হচ্ছে না সে বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ আগে অভিযোগ জানায়নি। জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হতো।’