শাকিরা–সালমায় বোধন বিশ্বকাপের, মাতলের দর্শকরাও
এই সময়: দিনের আলোয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তাই আতসবাজি থাকলেও তার রোশনাই ছিল না। তার বদলে আতসবাজি ফাটার সময়ে সঙ্গী থাকল রঙিন ধোঁয়া।
শাকিরা, বার্না বয়ের ‘দাই দাই’ গানের পরে এ ভাবেই ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধন হলো মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বিশ্বকাপ ট্রফির উন্মোচনে ছিল আরও গ্ল্যামারের ছোঁয়া। হাজির ছিলেন হলিউড তারকা এবং মেক্সিকোর ঘরের মেয়ে সালমা হায়েক। গ্ল্যামারের ছটায় অবশ্য তাঁর ৫৯ বছর বয়সের নাগাল পাওয়ার সাধ্য নেই কারও। গ্যালারির ৮০ হাজারের বেশি দর্শক তখন মাতোয়ারা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মেক্সিকো সিটিতে উন্মাদনা ছিল চরমে। মেক্সিকান সময় সকাল সাড়ে এগারোটায় ছিল উদ্বোধন। কিন্তু সকাল সাতটা থেকেই মেক্সিকো সিটির অলি–গলি ধরে মানুষের ভিড় হেঁটে এগোচ্ছিল স্টেডিয়ামের দিকে। সেই স্টেডিয়াম যেখানে ১৯৭০ ফাইনালে বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেছিল পেলের ব্রাজ়িল, ১৯৮৬ ফাইনালে দিয়েগো মারাদোনা। ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ ধরে মোট ২০টি বিশ্বকাপের ম্যাচ হলো এই স্টেডিয়ামে। অন্য যে কোনও স্টেডিয়ামের চেয়ে অন্তত পাঁচ বেশি।
সকাল আটটার পরেই স্টেডিয়ামের গেট খুলে দেওয়া হয়েছিল দর্শকদের জন্য। মেক্সিকানের সংখ্যাই বেশি। তবে ভিড় করেছিলেন আরও কিছু দেশের সমর্থক। প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থক তো ছিলেনই। স্টেডিয়ামে বিশালকায় বিশ্বকাপ ট্রফির সামনে একে একে পারফর্ম করছিলেন জে বালবিন, মানা, ড্যানি ওশেন, আলেহান্দ্রো ফের্নান্দেস, টাইলা, লস অ্যাঞ্জেলেস আজ়ুলেস, বেলিন্দা ও লিলা ডাউন্স। সালমা হায়েকের উপস্থাপনায় মাঠে জায়গা পেল বিশ্বকাপের ৪৮টি দেশের পতাকা। শেষে ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রফির উন্মোচনেও দেখা গেল সালমাকে।
ম্যাচ শুরুর আগেও ছিল অভিনব সেরিমনি। এ বার বিশ্বকাপেই ফিফার উদ্যোগে যা শুরু হলো। দুই টিমের বিরাট দুটি পতাকা প্রায় পুরোটাই ঢেকেছিল মাঠের দুই অর্ধ। সেন্টার সার্কেলে বিশেষ ফেস্টুন। আর দু’দিকে দাঁড়িয়ে দুই টিমের সব ফুটবলার। রিজ়ার্ভের ফুটবলাররাও জাতীয় সঙ্গীতে গলা মিলিয়েছেন প্রথম এগারোর ফুটবলারদের সঙ্গে।