এন্ট্রি পয়েন্ট মুর্শিদাবাদ, ৭০০ টাকায় আধার-রেশন-ভোটার, ‘ভারতীয়’ সেজে থাকা ১০,০০০ বাংলাদেশির পর্দাফাঁস!
এন্ট্রি পয়েন্ট পশ্চিমবঙ্গ। তার পরে সোজা পাড়ি সুদূর কেরালায়। এই ভাবে দক্ষিণের রাজ্যটিতে জাঁকিয়ে বসেছে হাজার হাজার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। সম্প্রতি কেরালার কোল্লাম জেলার কোত্তারাক্কারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে এই ধরনের ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক। আর তাদেরকে জেরা করেই পাওয়া গিয়েছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ধৃতদের কাছ থেকে মিলেছে ভুয়ো আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি এবং রেশন কার্ড। সে সবই কেরালার স্থানীয় ঠিকানায় তৈরি এবং হুবহু আসল নথির মতো দেখতে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মাত্র ৭০০ টাকার বিনিময়ে এই সমস্ত জাল পরিচয়পত্র তৈরি করে দিচ্ছে একটি আন্তঃরাজ্য মাফিয়া চক্র!
গন্তব্য কেরালা, ভায়া মুর্শিদাবাদ
তদন্তকারীদের দাবি, এই অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে ঢোকার এবং পরিচয় বদলানোর একটি সুনির্দিষ্ট ছক রয়েছে। প্রথমে তারা বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে পৌঁছয়। সেখানে প্রাথমিক ভাবে স্থানীয় ঠিকানায় কিছু জাল নথিপত্র তৈরি করা হয়।
এর পরে ভালো কাজের সুযোগ এবং বেশি মজুরির টানে তারা কেরালায় চলে যায়। সেখানে নিজেদের পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দেয় এবং পরে স্থানীয় দালালদের সাহায্যে কেরালার স্থানীয় ঠিকানায় ভারতীয় নাগরিকত্বের পাকাপোক্ত নথি তৈরি করে নেয়।
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে কেরালায় এই ধরনের প্রায় ১০,০০০ বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করছে।
নেপথ্যে বেঙ্গালুরুর মাফিয়া চক্র
কেরালা পুলিশ সূত্রে খবর, এই জাল পরিচয়পত্র তৈরির নেপথ্যে রয়েছে একটি বড় মাপের মাফিয়া নেটওয়ার্ক, যা পরিচালিত হয় বেঙ্গালুরু শহর থেকে। এই জাল নথিগুলি এতটাই নিখুঁত ভাবে তৈরি যে খালি চোখে সেগুলিকে জাল বলে ধরা প্রায় অসম্ভব।
এমনকী যে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তারের পরে এই বিশাল চক্রের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও নথিগুলি যে জাল প্রথমে ধরতে পারেনি পুলিশ। তাদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি পাওয়ার পরেই তাদের প্রকৃত নাগরিকত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে।
কেন্দ্র ও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকদের মতে এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই চক্রের মাধ্যমে কোনও দেশবিরোধী বা অপরাধমূলক চরিত্রের মানুষ প্রতিবেশী দেশ থেকে এই দেশে ঢুকে পড়েছে কি না, আশ্রয় নিয়েছে কি না, তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখা জরুরি।
কেরালা পুলিশ সূত্রে খবর, এই ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করতে ঘরে ঘরে তল্লাশির চেয়ে বেঙ্গালুরু থেকে মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা মূল মাফিয়া চক্রটিকে ট্র্যাক করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি কেরালা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা যৌথ ভাবে সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকের নথি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইয়ের পরিকল্পনা নিয়েছেন।
রুটি-রুজির আড়ালে তাদের কারও কোনও অপরাধমূলক বা দেশবিরোধী অ্যাজেন্ডা রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশের দাবি, তদন্তের কড়াকড়ির জেরে ইতিমধ্যেই বহু এলাকায় অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। কোথায় যাচ্ছেন তাঁরা?