লিগের কাউন্টডাউনে অস্বস্তি, সিএবির বিরুদ্ধে ৭০ কোটির ক্ষতিপূরণ দাবি - 24 Ghanta Bangla News
Home

লিগের কাউন্টডাউনে অস্বস্তি, সিএবির বিরুদ্ধে ৭০ কোটির ক্ষতিপূরণ দাবি

Spread the love

বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি (Bengal Pro T20) লিগ শুরুর আগে সিএবির বিরুদ্ধে ৭০ কোটি টাকার আইনি নোটিস। নতুন বিতর্কে চাপে বাংলা ক্রিকেট প্রশাসন।

স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: দিন দু’য়েক পরেই শুরু হতে চলেছে বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি (Bengal Pro T20) লিগের তৃতীয় মরশুম। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)। একদিকে নিলামের ঠিক আগের দিন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সরে দাঁড়ানো, অন্যদিকে প্রাক্তন আয়োজনকারী সংস্থার আইনি পদক্ষেপ, সব মিলিয়ে চাপে বাংলার ক্রিকেট প্রশাসন।

ইংরেজিতে পড়তে ক্লিক করুন:

সূত্রের খবর, বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের প্রথম দুই মরশুম আয়োজনের দায়িত্বে থাকা আরিভা স্পোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড সম্প্রতি সিএবির বিরুদ্ধে ৭০ কোটির টাকার আইনি নোটিস পাঠিয়েছে। সংস্থার অভিযোগ, ২০২৩ সালে সিএবির সঙ্গে তাদের যে চুক্তি হয়েছিল, তা একতরফাভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অথচ গত দুই বছরে এই টুর্নামেন্ট থেকে সিএবি প্রায় ১৪ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা আর্থিক লাভ করেছে বলে দাবি করেছে তারা।

আরিভার তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, টুর্নামেন্ট আয়োজনের সময় সিএবির বিভিন্ন অতিরিক্ত এবং চুক্তিবহির্ভূত খরচ বহন করতে গিয়ে তাদের প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেও তারা চলতি মরশুমের আয়োজনের দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। কিন্তু সিএবি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুন একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়। এই সিদ্ধান্তকেই বেআইনি ও অন্যায্য বলে দাবি করে আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটেছে আরিভা।

যদিও সিএবি এই নোটিস নিয়ে প্রকাশ্যে বিশেষ উদ্বেগ দেখাতে নারাজ। ক্রিকেট প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য, আরিভার বিরুদ্ধে একাধিক ভেন্ডরের পাওনা টাকা বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে এবং সিএবির ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি তাদের। তাই নতুন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত যথার্থ বলেই মনে করছে সিএবির একাংশ।

এদিকে এই আইনি জটিলতার মধ্যেই সিএবির প্রশাসনিক অন্দরেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। যুগ্মসচিব মদন ঘোষকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। গত মাসেই তাঁর বয়স ৭০ বছর পূর্ণ হয়েছে। লোধা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট বয়সসীমা অতিক্রম করলে কোনও পদাধিকারীকে দায়িত্ব ছাড়তে হয়। সেই নিয়ম অনুসারে মদন ঘোষেরও পদত্যাগ করার কথা ছিল।

কিন্তু বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি যুগ্মসচিবের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেটমহলে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়। প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং লোধা কমিটির নির্দেশিকা মানা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। শেষ পর্যন্ত সিএবি তাঁকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর। তবে বুধবারও তাঁকে সিএবি সদর দফতরে নিজের কক্ষে আগের মতোই দায়িত্ব পালন করতে দেখা গিয়েছে।

সব মিলিয়ে বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের ঘটনাই এখন বেশি আলোচনায়। আইনি লড়াই, প্রশাসনিক টানাপোড়েন এবং সংগঠনগত বিতর্কের আবহে টুর্নামেন্ট কতটা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে বাংলা ক্রিকেট মহলের।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *