বেঙ্গল অলিম্পিক নির্বাচনে চাপের অভিযোগ, বিস্ফোরক মমতার ভাই!
বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুললেন স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটারদের উপর চাপ সৃষ্টির দাবি ঘিরে শুরু নতুন বিতর্ক।
স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় (Swapan Banerjee)। বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ভোটারদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং তাঁর সমর্থনে ভোট দিলে সুবিধা পাওয়া যাবে না বলে জানানো হয়েছিল।
এক প্রতিক্রিয়ায় স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি ২০১২ সাল থেকে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক ছিলাম। ২০১৬ সালে সম্পাদক হই। ২০২০ সালে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হই।”
২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ
তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas)।
স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “তিনি সভাপতি এবং সম্পাদকদের ডেকে বলেছিলেন, যারা বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দেবেন, তাঁরা কোনও সুবিধা পাবেন না। এর ফলে অনেক সভাপতি এবং সম্পাদক ভয় পেয়ে যান।”
তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতির পরও তিনি নির্বাচনে ২৪টি ভোট পেয়েছিলেন।
দীর্ঘদিনের সংগঠক হিসেবে ভূমিকার দাবি
স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সাংগঠনিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন এবং সংগঠনের উন্নয়নের জন্য কাজ করে গিয়েছেন।
তাঁর দাবি, খেলাধুলার স্বার্থে তিনি সবসময় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন এবং ক্রীড়া প্রশাসনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করেছেন।
রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহলে জল্পনা
স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের ক্রীড়া মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন নিয়ে তাঁর তোলা অভিযোগ কতটা সত্য, তা নিয়ে এখন নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas) বা বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন রাজ্যের বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থার সমন্বয়কারী সংগঠন হিসেবে কাজ করে। ফলে এই সংস্থার নির্বাচন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামো ও সংগঠনগুলির উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।