ভুয়ো নথি দিয়ে চাকরি? বিপ্লব-ঘনিষ্ঠকে শো-কজ়
এই সময়, বালুরঘাট: ভুয়ো শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি দেখিয়ে চাকরি করার অভিযোগ উঠল প্রাক্তন মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শাশ্বতী দাস নামে ওই নেত্রীকে শো-কজ় করলেন বালুরঘাট ল’ কলেজ কর্তৃপক্ষ। সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি সহ লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে তাঁকে।
শাশ্বতী বালুরঘাট শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী। অতীতে তিনি পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থীও ছিলেন। ২০২৪-থেকে তিনি বালুরঘাট ল’ কলেজে সহ-লাইব্রেরিয়ান পদে কর্মরত। অভিযোগ, চাকরির সময় তিনি লাইব্রেরি সায়েন্সের একটি শংসাপত্র জমা দিয়েছিলেন, যা মেঘালয়ের উইলিয়াম কেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বলে দাবি করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে কলেজেই অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যের অধিকার আইনে (আরটিআই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তথ্য চাওয়া হয়।
জবাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই সার্টিফিকেট নম্বরের কোনও শংসাপত্র শাশ্বতী দাস নামে কাউকে ইস্যু করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ওই শংসাপত্রকে ভুয়ো বলেও উল্লেখ করা হয়। এরপরই শুক্রবার কলেজ কর্তৃপক্ষ শাশ্বতীকে শো-কজ় নোটিস পাঠিয়ে সাত দিনের মধ্যে তাঁর বক্তব্য জানাতে বলেছে। এই বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ সন্তোষকুমার তিওয়ারি এবং অভিযুক্ত তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে একাধিক বার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এমনকী, তাঁরা মেসেজের উত্তরও দেননি।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার বলেন, ‘ভুয়ো নথি দেখিয়ে শুধুমাত্র বিপ্লব মিত্র ঘনিষ্ঠ হওয়ায় চাকরি পেয়েছিলেন ওই তৃণমূল নেত্রী। এই ঘটনা যাতে নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত হয়, তার জন্য প্রশাসনকে বলব।’ যদিও ঘনিষ্ঠতার কথা অস্বীকার করে বিপ্লব বলেন, ‘নিয়োগের জন্য আলাদা নির্বাচন কমিটি থাকে। নিয়োগের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। যদি কেউ ভুয়ো নথি দিয়ে চাকরি পেয়ে থাকেন, আর তা প্রমাণিত হয়, তা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’