জাতীয় শিক্ষানীতির জের, স্নাতকোত্তরে এ বার ভর্তি বন্ধ প্রেসিডেন্সি–যাদবপুরে
জয় সাহা
চলতি বছর যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে অর্থাৎ এমএ, এমএসসিতে কোনও ভর্তি হচ্ছে না।
নতুন জাতীয় শিক্ষানীতির সূত্রে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাতেও বেশ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই যাদবপুর এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রথম সারির একক বা ‘ইউনিটারি’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এ বছর স্নাতকোত্তরে ভর্তি প্রক্রিয়ায় ‘জিরো ইয়ার’ ঘোষণা করা হয়েছে। মানে, চলতি বছর এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্নাতকোত্তর বা পিজি কোর্সে নতুন করে কোনও পড়ুয়া ভর্তি নেওয়া হবে না। মূলত পুরোনো প্রচলিত দু’বছরের স্নাতকোত্তর পাঠক্রমের পরিবর্তে নতুন নিয়মের এক বছরের স্নাতকোত্তর পাঠক্রম সুষ্ঠু ভাবে চালু করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
ওই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য, জাতীয় শিক্ষানীতির নির্দেশিকা মেনে ক্যাম্পাসে চার বছরের স্নাতক বা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম চলছে। চার বছরের কোর্সে বর্তমান চতুর্থ বর্ষটি বস্তুত পুরোনো ব্যবস্থার স্নাতকোত্তরের প্রথম বর্ষের সমতুল। ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে যে সব পড়ুয়া চার বছরের স্নাতক স্তরে ভর্তি হয়েছিলেন, তাঁরা ২০২৭–এ স্নাতক হবেন। আগামী বছর তাঁরা এক বছরের স্নাকতোত্তর কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন। এমনিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর পড়াশোনার পরে কোর্স ছেড়ে দেওয়ার বা ‘এগজ়িট অপশন’ নেওয়ার সুযোগ নেই। অন্য দিকে, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর পরে কোর্স থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও বাস্তবে কোনও পড়ুয়াই তৃতীয় বর্ষের শেষে সেই আবেদন করেননি। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই এই বছর স্নাতকোত্তরে ভর্তি হওয়ার মতো পড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নেই।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, ‘জাতীয় শিক্ষানীতির ৪+১ কাঠামোর কারণে এই বছর ডে ও ইভনিং—কোনও বিভাগেই মাস্টার্স বা স্নাতকোত্তরে ভর্তি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের পড়ুয়ারা এখন স্নাতক স্তরের চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন এবং ২০২৭–এ পাশ করবেন। তাই আমরা ২০২৭ থেকেই সরাসরি এক বছরের স্নাতকোত্তর পাঠক্রমে পড়ুয়া ভর্তি নেব।’ যাদবপুরের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিনহার বক্তব্য, জায়গার অভাব এবং পরিকাঠামোগত কারণে একটি ইউনিটারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে একই সঙ্গে এক বছর এবং দু’বছরের স্নাতকোত্তর কোর্স চালানো কঠিন। রাজ্যের অধিকাংশ পড়ুয়াই বর্তমানে চার বছরের স্নাতক পাঠক্রমের অধীনে থাকায় এ বছর পিজি স্তরে ভর্তি বন্ধ রাখলে বড় সমস্যা হবে না।
তবে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু বিশেষ কোর্সে ব্যতিক্রম থাকছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবজ্যোতি কোনার জানান, সাধারণ বিষয়ের পড়ুয়ারা নতুন স্নাতক পাঠক্রমের চতুর্থ বর্ষে চলে যাওয়ায় তাঁরা পুরোনো পিজি কোর্সের প্রথম বর্ষের জায়গাতেই রয়েছেন। কিন্তু যে সব বিষয়ে স্নাতক স্তরের বেস কোর্স নেই, সেই সব বিষয়গুলিতে আগের মতোই দু’বছরের মাস্টার্স প্রোগ্রাম চলবে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, মলিকিউলার বায়োটেকনোলজি, ভাইরোলজি এবং ইমিউনোলজির মতো আধুনিক বিষয়গুলি। এ বছরও সেখানে মাস্টার্সে ভর্তি হবে।
অন্য দিকে, যাদবপুর বা প্রেসিডেন্সির পথে না হেঁটে সম্পূর্ণ ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। চার বছরের স্নাতক পাঠক্রম থেকে যে সব পড়ুয়া তিন বছর পরেই ‘এগজ়িট অপশন’ নিয়ে বেরিয়ে যাবেন, তাঁদের কথা মাথায় রেখে দু’বছরের মাস্টার্স কোর্সে ভর্তির দরজা খোলা রাখছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। রবীন্দ্রভারতীর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অগস্ট থেকেই কলা, চারুকলা এবং ভিজ্যুয়াল আর্টসের মাস্টার্স কোর্সে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে।