বেল্টে ফাঁস দিয়ে কী ভাবে আত্মহত্যা? ত্বিষার গলার ফাঁস খুলে নামানো হলো কী ভাবে? উত্তর খুঁজতে বিশেষ পন্থা CBI-এর
মডেল-অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মা-র রহস্যমৃত্যুর তদন্তে ‘টানেল ভিউ টেকনিক-র সাহায্য নিচ্ছে CBI। জানা গিয়েছে, তদন্তকারী সংস্থা এ বার ৮০ কেজির একটি ডামি ব্যবহার করে ঘটনাস্থলে পুরো ঘটনার পুনর্নির্মাণ করবে। এই প্রক্রিয়ায় ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিং-কে নিয়ে যাওয়া হবে ভোপালের কাটারা হিলসের সেই বাড়িতে, যেখানে গত ১২ মে ত্বিষাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, সমর্থ সিং তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন যে তিনিই প্রথম ত্বিষাকে ফাঁস থেকে নামান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দেহটিকে নিচে নামানোর সময় তাঁর মা গিরিবালা সিং ত্বিষার গলার ফাঁস খুলে দিয়েছিলেন। এই দাবির সত্যতা যাচাই করতেই ৮০ কেজির ডামি ব্যবহার করে পুরো ঘটনাটি পুনর্গঠন করা হবে।
তদন্তকারী দল সমর্থকে দেখাতে বলবে কী ভাবে তিনি স্ত্রীয়ের ঝুলন্ত দেহ নিচে নামিয়েছিলেন। একই ভাবে গিরিবালাকেও দেখাতে বলা হবে, কী ভাবে তিনি ত্বিষার গলার ফাঁস খুলেছিলেন। তদন্তকারীরা দেখতে চাইছেন, অভিযুক্তদের বয়ান ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি ও ফরেন্সিক প্রমাণের সঙ্গে মেলে কি না।
সিবিআই আরও পরীক্ষা করে দেখবে যে, যে বেল্ট ব্যবহার করে ত্বিষা আত্মহত্যা করেছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটি আদৌ ৮০ কেজি ওজন বহন করতে সক্ষম কি না। ফরেন্সিক দল বেল্টের শক্তি, গিঁটের ধরন এবং ঝুলন্ত অবস্থার সম্ভাব্য পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে।
এই মামলায় গিরিবালা সিংকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে CBI। তার আগে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তাঁর অগ্রিম জামিন খারিজ করে দেয়। অন্যদিকে, সমর্থ সিং আগেই CBI হেফাজতে ছিলেন। আদালত দু’জনকেই ২ জুন পর্যন্ত CBI হেফাজতে পাঠিয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ত্বিষার মৃত্যুকে ঘিরে শুধু পণ-নির্যাতনের অভিযোগই নয়, প্রমাণ লোপাট ও ডিজিটাল তথ্য বিকৃত করার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিবিআইয়ের সন্দেহ, তরুণীর মৃত্যুর দিন রাতের ঘটনাক্রম গোপন করার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। তদন্তকারীরা বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের লগ, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং ডিজিটাল রেকর্ড খতিয়ে দেখছেন।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ ঘণ্টার জেরা, ফরেন্সিক ম্যাপিং এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের পর গিরিবালা সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা এখন মা-ছেলেকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করারও পরিকল্পনা করছেন, যাতে তাঁদের বয়ানের অসঙ্গতি ধরা যায়।
তদন্তে আর্থিক দিকও গুরুত্ব পাচ্ছে। সূত্রের দাবি, ত্বিষার নামে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার শেয়ার ছিল এবং সেই শেয়ার নিজেদের নামে ট্রান্সফার করার জন্য মৃতা তরুণীকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে সিবিআই।
ত্বিষার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁকে পণের জন্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের এই অত্যাচারই শেষ পর্যন্ত ত্বিষাকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। যদিও অভিযুক্ত পক্ষ এখনও পর্যন্ত সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।